খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐকমত্য চায় বিএনপি খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐকমত্য চায় বিএনপি – CTG Journal

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
৩৮তম বিসিএস হতে নন-ক্যাডারে ৫৪১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ ‘কাশ্মির টাইমস’ কার্যালয় বন্ধ করে দিলো প্রশাসন ফের আলুর দাম নির্ধারণ করলো সরকার মানিকছড়িতে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে অর্ধলক্ষ টাকা জরিমানা ভূরাজনীতিক কারণে মিয়ানমারকে তোয়াজ করা হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাপ্তাইয়ের মৎস্যজীবীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত রায়হান হত্যার সুষ্ঠু বিচার হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী লামায় তামাকের বিকল্প হিসেবে বিনামূল্যের সবজি বীজ পেল ১৫০ কৃষক বাইশারীতে জরাজীর্ণ কালভার্টটি অভিভাবকহীন, দেখার কেউ নেই ব্যানকোভিডেই ভরসা গ্লোব বায়োটেকের দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় বাংলাদেশ কলেজ ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐকমত্য চায় বিএনপি

খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐকমত্য চায় বিএনপি

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে সরকারপন্থী ছাড়া বাকি রাজনৈতিক দল ও দলনিরপেক্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে একটি ‘ঐকমত্য’  সৃষ্টি করতে চায় বিএনপি। দলটির পরিকল্পনা হাইকোর্টে চলমান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার শুনানিতে বিজ্ঞ আইনজীবীদের অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি ঐকমত্যে আসতে সক্ষমতা অর্জন করা। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ একাধিক আইনজীবী। আরও কয়েকজন দলনিরপেক্ষ বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। দলের নীতিনির্ধারণী একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা, সংযুক্ত করার নিমিত্তেই দলমত নির্বিশেষে কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন আমরা একসঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে কাজ করতে পারি।’

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহৎ রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আর এ সিদ্ধান্তের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টিকে নিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে ব্যারিস্টার রফিকুল হককে হাইকোর্টে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। মঙ্গলবার ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে এসেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই জাতীয় ঐক্য করার জন্য। দেশের চরম এই ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র হুমকির মুখে। মানুষের ভোটের অধিকার হুমকির মুখে—এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত জরুরি।’

খন্দকার মাহবুব হোসেন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের কথা উল্লেখ করেন।  তিনি বলেন, ‘ওই সময়ের সরকার মাইনাস টু ফর্মুলা করতে চাইছিল। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সে সময় মামলাগুলো হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সমঝোতা করে ক্ষমতায় আসে। আর ম্যাডাম আপসহীন রইলেন।’

খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন, ক্ষমতাসীন সরকার এখন মাইনাস ওয়ান থিওরিতে অবস্থান করছে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা।

আর এ কারণেই খন্দকার মাহবুব হোসেন বিশ্বাস করেন, ‘যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, মানুষের অধিকারে বিশ্বাস করে—সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের একদলীয় শাসনের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। মানুষকে রক্ষা করতে হবে।’

বিএনপির সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে আরও সিনিয়র কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পারে বিএনপি। তবে কোন কোন ব্যক্তি এই তালিকায় রয়েছেন সেটি জানা যায়নি।

এ বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ। ম্যাডাম সব সময় বলেছেন ‘জাতীয় ঐক্যের কথা’। আমরাও এখন জাতীয় ঐক্য চাই। আমরা সবার কাছেই যাবো। সবাইকে বলবো এই মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। শুধু মামলাই নয়, এটাতো দেশের প্রশ্ন। এজন্যই সবার সহযোগিতা, সহানুভূতি, মতামত চাই।’

তিনি দাবি করেন, ‘বিএনপির এই দাবিতে সাড়া মিলেছে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে অনেকেই ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।’

মঙ্গলবার সকালে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। ড. কামালের মনোভাব কেমন ছিল, প্রশ্নের উত্তরে বিডিআরর হত্যাকাণ্ড মামলার এই আইনজীবী বলেন, ‘তিনি খুব ইতিবাচক ছিলেন। পুরো মামলার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। আমরা বিস্তারিত বলার পর তিনি বললেন, ‘সাজা হলো কীভাবে। যে প্রমাণ আছে, বক্তব্য আছে, তাতে তো এটা হওয়ার কথা না।’ তিনি পুরোটা শুনে দুঃখ প্রকাশ করলেন। সহানুভূতি প্রকাশ করলেন। আমাকে তিনি বললেন, ‘ফাইলটা রেখে যাও। ফাইল রেখে এসেছি।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যার কিছু আগে ড. কামাল হোসেনও জানান, তিনি খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের কপি পড়ে বিএনপিকে পরামর্শ দেবেন।

বিএনপির একজন তরুণ আইনজীবী জানান, জাতীয় ঐক্যকে মাথায় রেখেই দলনিরপেক্ষ ও ক্ষমতাসীন জোটের বাইরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছে বিএনপি।

এদিকে, খালেদা জিয়ার মামলাকে কেন্দ্র করে দলীয় আইনজীবীদের কাছে লন্ডন থেকে উষ্মা এসেছে বলে খালেদা জিয়ার মামলার প্যানেল আইনজীবীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন। তারা আরও জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাইকমান্ডের আদেশেই বিএনপির বাইরে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।

একই সঙ্গে ড. কামালের কাছে যাওয়ায় বিএনপির সিনিয়র একজন আইনজীবী উষ্মা প্রকাশ করেছেন এ প্রতিবেদকের কাছে।

বিএনপির সিনিয়র পর্যায়ের এই নেতার ভাষ্য, ‘আমি যাইনি। আমি জানিও না। আমার কোনও আইডিয়াই নাই। টিমে একজন সিনিয়র থাকবেন, যাকে কোর্ট শ্রদ্ধা করেন, এমন কাউকে হয়তো খুঁজছে বিএনপি। আর শেখ হাসিনা এটা কেয়ার করবে না। আর এজন্যই হয়তো আমাকে বলা হয় না।’

দলের বাইরে আইনজীবীদের সঙ্গে নিলে কোনও বিরোধ তৈরি হবে কিনা, এমন প্রশ্নে স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘কেন নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হবে। আমরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সবার মতামত নিয়ে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT