ছিনতাই-চুরির ঘটনায় মামলার পরিবর্তে পুলিশ নেয় জিডি, রাত-দিন ছিনতাইকারীদের ‘রাজত্ব’ ছিনতাই-চুরির ঘটনায় মামলার পরিবর্তে পুলিশ নেয় জিডি, রাত-দিন ছিনতাইকারীদের ‘রাজত্ব’ – CTG Journal

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে পণ্য খালাসের চেষ্টা! হাজী সেলিমের ছেলে ও দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা হাজী সেলিমের ছেলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধর: হাজী সেলিমের ছেলে গ্রেপ্তার ১৯৩৮ সালেই বিচার বিভাগ আলাদা করার দাবি করেছিলেন শেরে বাংলা দেশে করোনার সংক্রমণ ৪ লাখ ছাড়াল খাগড়াছড়িতে এক হাতে গাছের চারা, অন্য হাতে লাল কার্ড নিয়ে ধর্ষণ বিরোধী শপথ চবিতে আগের নিয়মেই ভর্তি পরীক্ষা ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের এএসআই আটক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষকদের সব ধরনের বদলি বন্ধ নাইক্ষ্যংছড়িতে করোনায় ক্ষতি গ্রস্তকৃষকদের প্রণোদনার চেক বিতরণ
ছিনতাই-চুরির ঘটনায় মামলার পরিবর্তে পুলিশ নেয় জিডি, রাত-দিন ছিনতাইকারীদের ‘রাজত্ব’

ছিনতাই-চুরির ঘটনায় মামলার পরিবর্তে পুলিশ নেয় জিডি, রাত-দিন ছিনতাইকারীদের ‘রাজত্ব’

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ রাতের অন্ধকার কিংবা দিনের আলো পুরো ২৪ ঘণ্টাই সক্রিয় ছিনতাইকারীরা। প্রায়ই নগরের ১৬ থানার কোনো না কোনো স্থানে ছিনতাই করছেই ‘টানা পার্টি’। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেন না। আবার অনেক ক্ষেত্রে থানা পুলিশও ছিনতাইয়ের মামলা নেয় না। ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়ার পরও ‘জিনিসপত্র হারানো গেছে’ কিংবা ‘চুরি হয়েছে’ উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করছে পুলিশ। ফলে নগরে প্রতিদিন কী পরিমাণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে সেই তথ্য ওঠে আসছে না পুলিশের অপরাধ খাতায়।

নগর পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরে প্রায়ই ছিনতাই হচ্ছে এটা জানা বিষয়। কিন্তু ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া অনেক মানুষ ছিনতাইপরবর্তী সময়ে থানা-আদালতে দৌঁড়ঝাঁপ করতে হবে-এমন আশঙ্কায় থানায় অভিযোগ করেন না। আবার কোনো কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করে না বলেও অভিযোগ আছে। তাঁরা বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ওই দুটো তথ্য সঠিক। আর থানায় অভিযোগ না হওয়ার কারণে ছিনতাইকারীরাই মূলত সুযোগ পাচ্ছে। এরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে ওঠছে।

নগর পুলিশের অপরাধ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নগরে টানা পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারীদের একটি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই সময় তৈরি করা তথ্যভাণ্ডারটি মূলত ছিনতাইকারীদের হালনাগাদ তথ্য রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কোন ছিনতাইকারী কারাগারে গেছে, কখন জামিন পাচ্ছে কিংবা জামিনপরবর্তী এদের ওপর নজরদারি করাই ছিল সেই তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্দেশ্য। সেখানে ছিনতাইয়ের স্পটগুলোও চিহ্নিত করা ছিল। এখনো সেই মলাট বাঁধাই বইটি পুলিশ সদর দপ্তরে আছে। তবে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি কাজ হচ্ছে না। গত জানুয়ারি মাসে নগরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে মোট সাতটি। এর মধ্যে তিনটি দ্রুত বিচার আইনে। বাকি চারটি দস্যুতার আওতায়। কিন্তু জানুয়ারি মাসে ছিনতাইয়ের পরও মামলা রেকর্ড হয়নি এমন অনেক ঘটনা আছে।

এমন দুটি সাধারণ ডায়েরি এসেছে। যেগুলো মূলত ছিনতাই-চুরির ঘটনা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ দুই ক্ষেত্রে সাধারণ ডায়েরি নিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চান্দগাঁও থানার পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটায় ছিনতাইয়ের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তারবিয়া তারান্নুম পিয়া। রিকশাযোগে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীরা পিয়ার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার দিনই পিয়ার ভাই জোবাইদুর রশিদ রনি চান্দগাঁও থানায় যান। সেখানে তিনি ‘মোবাইল ফোন হারানো গেছে’ উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেন (নম্বর-৪৬৮, তারিখ: ০৯.০২.১৮)। এই সাধারণ ডায়েরির একাংশে জোবাইদুর রশিদ উল্লেখ করেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে ছিনতাইকারীরা তার হাত ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়’ কিন্তু কম্পিউটার কম্পোজ করা সেই লেখাটুকু কেটে নতুন করে হাতে লেখা হয় ‘যাওয়ার পথে হারিয়ে যায়’। অর্থাৎ ‘ছিনতাই’ শব্দটি সাধারণ ডায়েরিতে রাখেনি পুলিশ।

ছিনতাইয়ের শিকার পিয়ার ভাই রনি বলেন, ‘অভিযোগ করার পর মোবাইল ফোনটি ফেরত পাওয়ার আশা করেছিলাম। কিন্তু এখনো পুলিশ মোবাইল ফোন সেটটি উদ্ধার করতে পারেনি কিংবা ছিনতাইকারীদেরও ধরতে পারেনি।’

একইভাবে ৮ ফেব্রুয়ারি বাকলিয়া থানার চান্দা পুকুরপাড় এলাকার সুরভী আবাসিক এলাকার মোস্তফা ভিলায় চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায়ও বাকলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং-৩৬০, তারিখ : ০৮.২.১৮) রেকর্ড করা হয়। এ বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সারওয়ার উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘চোরের দল মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়েছে। থানায় অভিযোগ করেছি। ভেবেছিলাম, সুরভী আবাসিক এলাকায় রাতে পুলিশের টহল বাড়বে। কিন্তু এখনো টহল দৃশ্যমান হয়নি।’

একইভাবে ৭ ডিসেম্বর কোতোয়ালী থানার ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় আনসার উদ্দীন নামে একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে ছিনতাইকারীদের তথ্য পাওয়ার পরও কোতোয়ালী থানা পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ছিনতাইয়ের শিকার আনসার উদ্দিন। ২৮ জানুয়ারি হালিশহর থানা এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন মহরম সোলতানা সিক্তা নামে এক নারী। এ নারীর ছিনতাইয়ের অভিযোগও হালিশহর থানা পুলিশ মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

২০ ফেব্রুয়ারি ছিনতাইয়ের শিকার হন জামালখান ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট এম এ নাসের। তাঁর মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরও তিনি থানায় মামলা করেননি। ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে জাকির হোসেন রোডে ছিনতাইয়ের শিকার হন ব্রিটিশ নাগরিক জুলিয়া ডেভিস এবং ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে পাথরঘাটা বান্ডেল রোডে শুকতারা মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক দীপতনু কর (৩৪)। এসব ঘটনায়ও থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ হয়নি।

মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ বিষয়ে জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল বাসার বলেন, ‘অনেকে মামলা করতে চান না-এ কারণে সাধারণ ডায়েরি নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মাদকসেবীদের অনেকে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েছে। এরাই টানা পার্টিতে যুক্ত হচ্ছে। এদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।’

বাকলিয়া থানায় চুরির ঘটনার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, ‘ছিনতাই-চুরির ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি গ্রহণের সুযোগ নেই। এরপরও কেন সাধারণ ডায়েরি নেওয়া হল বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একই প্রসঙ্গে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কুসুম দেওয়ান বলেন, ‘ছিনতাই-চুরির ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করার সুযোগ নেই। মাঠ পর্যায়ে থানাগুলোতে এমন কর্মকাণ্ড হলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT