১১ দিনে পাসপোর্ট পেয়েছিলেন শিবির সন্ত্রাসী সরওয়ার! ১১ দিনে পাসপোর্ট পেয়েছিলেন শিবির সন্ত্রাসী সরওয়ার! – CTG Journal

বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার সঙ্গে মান্নার সাক্ষাৎ ২৪ ঘণ্টায় ১১টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা হয়নি মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঈদের সালামি মানিকছড়িতে রসালো ফলের বাম্পার ফলন, বাজারজাত সুবিধা না থাকায় নষ্ট হচ্ছে লিচুর বাহার যেসব অনলাইন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে তারা রেজিস্ট্রেশন পাবে: তথ্যমন্ত্রী ভ্যাট রিটার্ন দেওয়া যাবে ৯ জুন পর্যন্ত মানিকছড়িতে ‘করোনা’ উপসর্গ নিয়ে গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু স্বচ্ছতা আনতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের বস্তায় স্টেনসিল কোলাহল শূন্য চট্টগ্রামের ঈদ বিনোদন কেন্দ্র কাপ্তাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা পাচ্ছে ৬২৫০ জন ‘বারবার আমরা বলেছি, ত্রাণ দিতে হবে না ভালো একটা বাঁধ করে দেন’ একদিনে আরও ২১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬৩
১১ দিনে পাসপোর্ট পেয়েছিলেন শিবির সন্ত্রাসী সরওয়ার!

১১ দিনে পাসপোর্ট পেয়েছিলেন শিবির সন্ত্রাসী সরওয়ার!

শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ আলীর অন্যতম সহযোগী ও বায়েজিদ এলাকার পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. সরওয়ার প্রকাশ বাবলা ২০১৭ সালে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট তৈরি করেছিলেন। তিনি বায়েজিদ থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত ২য় শীর্ষ সন্ত্রাসী।

পাসপোর্ট তৈরির সময় কৌশল অবলম্বন করেছিলেন সন্ত্রাসী মো. সরওয়ার প্রকাশ বাবলা। মামলা থাকার পরেও কৌশলে পেয়েছিলেন পাসপোর্ট। সেই পাসপোর্ট দিয়ে গোপনে বিদেশ পাড়ি জমান। বিদশে বসে পরে বাংলাদেশে তার চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন।

পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে, সন্ত্রাসী মো. সরওয়ার প্রকাশ বাবলাকে পাসপোর্ট তৈরির সময় সহযোগিতা করেছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পাঁচলাইশ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম শফি।

কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম শফির দেওয়া জন্মনিবন্ধন দিয়ে ২০১৭ সালে পাসপোর্ট করান সন্ত্রাসী মো. সরওয়ার প্রকাশ বাবলা। কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম শফির যোগসাজসে নামে কিছুটা পরিবর্তন করে জন্মনিবন্ধন সংগ্রহ করেন মো. সরওয়ার প্রকাশ বাবলা।

জন্মনিবন্ধনে সরওয়ার প্রকাশ বাবলা তার নাম হিসেবে ব্যবহার করেন সরওয়ার হোসেন সাকিব। বাবা ও মায়ের নাম এবং ঠিকানা ঠিক রাখেন। এ জন্মনিবন্ধন দিয়ে সরওয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন।

সরওয়ার বায়েজিদ থানার ওয়াজেদিয়া খোন্দকারাবাদ এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে।

বায়েজিদ থানা পুলিশের হাতে ২০১১ সালে গ্রেফতার হন সন্ত্রাসী সরওয়ার প্রকাশ বাবলা। ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে ছাড়া পান।

অভিযোগ রয়েছে, কারাগার থেকে বের হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম শফির সহযোগিতায় জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন সন্ত্রাসী সরওয়ার। পাসপোর্ট পেয়েই বিদেশ পাড়ি জমান তিনি। সরওয়ারের পাসপোর্ট নম্বর: BQ0297887। একই জন্মনিবন্ধন দিয়ে গোপনে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন সরওয়ার। তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ১৯৮৭১৫৯০৬০৩৬৩২৫৪৯।

তবে সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম শফি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি কোনো সন্ত্রাসীকে জন্মনিবন্ধন দেননি এবং পাসপোর্ট তৈরিতে সহযোগিতা করেননি বলে দাবি করেন।

শফিকুল ইসলাম শফি বাংলানিউজের কাছে দাবি করেন, সরওয়ার নামে কাউকে তিনি চিনতেন না।

সন্ত্রাসী সরওয়ার প্রকাশ বাবলাকে ভিন্ননামে শফিকুল ইসলাম শফির দেওয়া জন্মনিবন্ধনের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি ও পাসপোর্ট তৈরির সময়ের স্লিপের কপি বাংলানিউজের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

সরওয়ার প্রকাশ বাবলার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১৯টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় ১৭টি, ডবলমুরিং থানায় একটি ও পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরওয়ার প্রকাশ বাবলা তার পাসপোর্টে ভিন্ন নাম ব্যবহার করায় তার সম্পর্কে খোঁজ নিতে পুলিশের বেগ পেতে হয়। তার সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতেও সময় লাগে পুলিশের।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (সিটি এসবি) আবদুল ওয়ারিশ বাংলানিউজকে বলেন, পাসপোর্ট তৈরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় কারও নামে মামলা থাকলে তিনি পাসপোর্ট পাওয়ার কথা না। কিন্তু তিনি কৌশলে নাম পরিবর্তন করেছিলেন। এছাড়া আরও কৌশল অবলম্বন করেছিলেন যেকারণে হয়তো তিনি পাসপোর্ট পেয়ে গিয়েছিলেন।

আবদুল ওয়ারিশ বলেন, খুব দ্রুত পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। আমরা জানতে পেরেছি তিনি জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট পেতে আবেদন করেছিলেন সরওয়ার। জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে অনেক সময় পরে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। সরওয়ার এ সুযোগটি কাজে লাগিয়েছিলেন হয় তো।

মামলা থাকার পরেও সন্ত্রাসী সরওয়ারের পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল ওয়ারিশ।

সম্প্রতি চাঁদাবাজির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে কাতারে সংঘর্ষে জড়িয়ে সেদেশের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন সন্ত্রাসী সরওয়ার প্রকাশ বাবলা। মাসখানেক কারাগারে থাকার পরে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাতার থেকে দেশে ফেরার পর শিবির ক্যাডার সরওয়ার প্রকাশ বাবলাকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে বায়েজিদ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত বছরের ২৪ অক্টোবর সন্ত্রাসী সরওয়ার-ম্যাক্সন ও একরামের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবলীগের কর্মী নামধারী পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল বায়েজিদ থানা পুলিশ।

২০১১ সালে বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ বাহ্মণবাড়িয়া থেকে সন্ত্রাসী ম্যাক্সনকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যে সরওয়ারকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৭ সালে কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে কাতারে পালিয়ে যান সরওয়ার ও ম্যাক্সন।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT