বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পাইপলাইনসহ ৯ প্রকল্প অনুমোদন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পাইপলাইনসহ ৯ প্রকল্প অনুমোদন – CTG Journal

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার সঙ্গে মান্নার সাক্ষাৎ ২৪ ঘণ্টায় ১১টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা হয়নি মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঈদের সালামি মানিকছড়িতে রসালো ফলের বাম্পার ফলন, বাজারজাত সুবিধা না থাকায় নষ্ট হচ্ছে লিচুর বাহার যেসব অনলাইন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে তারা রেজিস্ট্রেশন পাবে: তথ্যমন্ত্রী ভ্যাট রিটার্ন দেওয়া যাবে ৯ জুন পর্যন্ত মানিকছড়িতে ‘করোনা’ উপসর্গ নিয়ে গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু স্বচ্ছতা আনতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের বস্তায় স্টেনসিল কোলাহল শূন্য চট্টগ্রামের ঈদ বিনোদন কেন্দ্র কাপ্তাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা পাচ্ছে ৬২৫০ জন ‘বারবার আমরা বলেছি, ত্রাণ দিতে হবে না ভালো একটা বাঁধ করে দেন’ একদিনে আরও ২১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬৩
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পাইপলাইনসহ ৯ প্রকল্প অনুমোদন

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পাইপলাইনসহ ৯ প্রকল্প অনুমোদন

‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা উন্নয়ন’ প্রকল্পসহ ৯ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমিন।
 
নয়টি প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় দুই হাজার ৪২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে পাঁচটি প্রকল্প নতুন, চারটি সংশোধিত।
 
দেশের উত্তরাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যৌথভাবে পাইপলাইন নির্মাণ করবে সরকার। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বার্ষিক ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনা সম্ভব হবে। জ্বালানি পাইপ লাইন প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। চলতি সময় থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে এটি বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৭৫ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে রয়েছে। এখানে জ্বালানি তেল সরবরাহসহ উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা মেটাতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেলের বার্ষিক চাহিদা ৫ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। তাছাড়া নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কৃষি সেচ মৌসুমে বেশি জ্বালানি প্রয়োজন হয়ে থাকে। ওই সময় জ্বালানি তেলের চাহিদা আরো বাড়ে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় নৌপথে ও রেলপথে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

নৌপথে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ও কুড়িগ্রামের চিলমারী, রেলপথে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো, রংপুর ডিপো, নাটোর, রাজশাহী জেলার পবার হরিয়ানে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। ফলে সিস্টেম লস বাড়ে। আর সিস্টেম লস কমাতেই এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিপিসি।

প্রকল্পের আওতায় আসামের নুমালীগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল আনার জন্য পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করবে সরকার। শিলিগুড়ির মার্কেটিং টার্মিনাল (এসএমটি) থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি ব্যাসের ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপ লাইন নির্মিত হবে। এর মধ্যে ভারতের অংশ ৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের অংশ ১২৫ কিলোমিটার।
 
পাইপলাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের অংশে পঞ্চগড়, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলায় ১৯৯ দশমিক ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ, ১৩৪ দশমিক ১২ একর হুকুম দখল এবং তেল সংরক্ষণের জন্য পার্বতীপুরে ৬টি ট্যাংক নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া সৈয়দপুরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের (আইবিএফপিএল) ট্যাপ অব পয়েন্ট করা হবে। চিরিরবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার ৮ ইঞ্চি ব্যাসের মাটির নিচ দিয়ে পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন নির্মাণ করবে বিপিসি। এরইমধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখলের জন্য তিনটি জেলার জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বিপিসি।
 
সৈয়দপুরে ৭৫ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। দেশে প্রতিনিয়তই বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। অদূর ভবিষ্যতে ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বার্ষিক প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল প্রয়োজন হবে।
 
তাই বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে তেল পাইপলাইন নির্মাণ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ শুধুমাত্র ভূমি অধিগ্রহণ কাজ করবে। বাকি পাইপলাইন নির্মাণের কাজ করবে ভারত। ভারতীয় অনুদানে নির্মিত হবে ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন।
 
সভায় ৫৫৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বানেশ্বর (রাজশাহী)-সারদা-চারঘাট-ঈশ্বরদী (পাবনা) মহাসড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়কের মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি টাকা। হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সামনে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরের প্রতিরক্ষা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫৭৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। তেজগাঁওয়ে বিসিকের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বিসিক প্লাস্টিক শিল্পনগরী প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৬৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বিসিকের ৮টি শিল্পনগরী মেরামত ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT