এইডস রোগে আক্রান্ত অধিকাংশই প্রবাসী এইডস রোগে আক্রান্ত অধিকাংশই প্রবাসী – CTG Journal

রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
এইডস রোগে আক্রান্ত অধিকাংশই প্রবাসী

এইডস রোগে আক্রান্ত অধিকাংশই প্রবাসী

বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত বেড়ে চলা অ্যাকোয়ার্ড ইমমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম (এইডস) রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশেও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধুমাত্র চট্টগ্রামেই গত একবছরে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৭১ জন। যার মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগী প্রবাসী।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রামে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪২১ জন। এরমধ্যে ২১৯ জন পুরুষ ও ১৬০ জন মহিলা। তাছাড়া পুরুষ শিশু ২৬ জন ও মেয়ে শিশু ১৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন এ রোগে আক্রান্ত। ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত গত এক বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৭১ জন। যার মধ্যে শুধু পুরুষ রোগীর সংখ্যা ৪৪ জন। তাছাড়া নারী ১৮ জন, শিশু ৯ জন।

লোকবল সংকট

এইডস রোগের চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে অ্যান্টি রিক্ট্রোভাইরাল থেরাপি সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর। প্রিভেনশন ফর মাদার টু চাইল্ড ট্রান্সমিশন (পিএমটিসিটি) প্রকল্পের অধীন সরকার এবং বিভিন্ন এনজিও সংস্থার সমন্বয়ে এ সেন্টারটি পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। মাত্র দুই জন নার্স ও একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার রয়েছেন এই সেন্টারে। রোগীদের কাউন্সিলিং করার জন্য দুইজন কাউন্সিলর থাকার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে কাউন্সিলিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অ্যান্টি রিক্ট্রোভাইরাল থেরাপি সেন্টারের আউটডোর মেডিকেল অফিসার সঞ্জয় প্রসাদ দাশ বাংলানিউজকে বলেন, দিন দিন চট্টগ্রামেও এই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৪২১ জনের এইডস শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রামে। এই সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের আমরা সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। বর্তমানে আমাদের কোনও ওষুধ সংকট নেই। তবে এ ধরনের রোগীদের জন্য কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। যা এই মুহুর্তে আমাদের কাছে নেই। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা বেশিরভাগ রোগী প্রবাসী বাঙালি। এরমধ্যে আবার অধিকাংশই পুরুষ।

নষ্ট যন্ত্রপাতি

রোগ নির্ণয়ের পর পরবর্তী চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন সময় রোগের মাত্রা জানা প্রয়োজন হয়। সেই অনুপাতে চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। সিডি-ফোর সেল কাউন্টিং মেশিনের মাধ্যমে এক ধরনের রাসায়নিক (রিএজেন্ট) ব্যবহার করে রোগের মাত্রা নির্ণয় করা হয়। কিন্তু ২০১২ সালের ১ জুলাই চমেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে বসানো যন্ত্রটি তিন মাস পরই নষ্ট হয়ে যায়। মেরামতের পর আবার চালু করা হলে ২০১৪ সালে মেশিনটির কারিগরী ত্রুটি থাকায় আবারও বন্ধ হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাংলানিউজকে বলেন, পিএমটিসিটি নামক একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এইচআইভি’র বিভিন্ন রকম টেস্ট করা হতো। সরকার যা সাপ্লাই দেয় তার ভিত্তিতে আমরা কাজ করে থাকি। এই মুহুর্তে আমাদের কোনও প্রকল্প নেই। পূর্বে এইচআইভি রোগ নির্ণয়ের সবগুলো টেস্ট করা যেত। বর্তমানে দুটি টেস্ট করা যাচ্ছে।

এইচআইভি রোগ নির্ণয়ে কোন যন্ত্রপাতি নষ্ট অবস্থায় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

চট্টগ্রামে এইডস রোগীদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে দাবি করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বাংলানিউজকে বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকার, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং এনজিও সমন্বিতভাবে কাজ করে। তাছাড়া জনসচেতনতা তৈরিতে ইউনেস্কো এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা কাজ করছে। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT