উৎপাদন ক্ষমতার শতভাগ ব্যবহার নেই কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতার শতভাগ ব্যবহার নেই কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রের – CTG Journal

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধু বিপিএল: মাঠের লড়াইয়ে যারা এপিক প্রপার্টিজের এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বাণিজ্য ঘাটতি ৫৬২ কোটি ডলার ছাড়ালো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশ ‘সু চি গণহত্যার প্রতীক, আমরা তাকে ঘৃণা করি’ শহীদ বুদ্ধিজীবী দায়িত্বরত আসল মানুষ, হত্যা চক্রান্তের যে মানুষ কেজিডিসিএল ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস রাইজারের অভিযান শুরু করেনি নতুন রং-এ ৫০ টাকার নোট খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নি‌য়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন কর‌ছে বিএসএমএমইউ: ড্যাব জি কে শামীমের ‘সহযোগী’ গণপূর্তের ১১ প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক ইবিতে ভর্তি শেষে এখনো ৮৭২ আসন ফাঁকা! এসকে সিনহার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল, সম্পদ জব্দ
উৎপাদন ক্ষমতার শতভাগ ব্যবহার নেই কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রের

উৎপাদন ক্ষমতার শতভাগ ব্যবহার নেই কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রের

দেশের কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রই উৎপাদন ক্ষমতা শতভাগ কাজে লাগাতে পারছে না। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অপরিকল্পিতভাবে  পরিচালনার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ না হওয়ায় বিদ্যুতের দামও কমছে না।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সম্প্রতি এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তাতে দেখা যায়—গড়ে উৎপাদন ক্ষমতার ৫০ ভাগও ব্যবহার করতে পারছে না বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। কিন্তু কেন্দ্রের সঙ্গে যখন চুক্তি হয়, তখন শতকরা ৮৮ ভাগ ‘প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর’ ধরেই চুক্তি করা হয়।

‘প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর’ হচ্ছে—একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র যে ক্ষমতায় উৎপাদন করে, তার পরিমাণ। সারাবছর কেন্দ্রগুলো যে ক্ষমতা ব্যবহার করে, তার বছরভিত্তিক একটি গড় হিসাব বের করা হয়। গড় হিসাবের ক্ষেত্রে জ্বালানির ধরনকেও আলাদা করে পিডিবি। এনার্জি কমিশনে জমা দেওয়া  পিডিবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন বছরের মধ্যে কোনও বছরেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চলতে পারেনি। প্রতিবছরই আংশিক ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করলাম। সারাবছর সেটিকে বসিয়ে রাখলাম। এই ক্ষতি বিদ্যুতের মূল্যের সঙ্গে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে যে খরচ হয়েছে, তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে। এটি কিন্তু শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের লোকসান নয়—এটা দেশের অর্থনীতির জন্য একটা লস। বাইরে থেকে আমাদের বিদ্যুৎ আমদানি করার দরকার নেই।’

ড. হোসেন বলেন, ‘কেন্দ্র বসিয়ে রেখে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করলে স্থায়ীভাবে দেশের কেন্দ্রগুলোর যন্ত্রপাতির ক্ষতি হয়। বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের লোকসান হয়। এসব লোকসান দেখিয়েই বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রসঙ্গ ওঠে। পূর্ণ ক্ষমতায় কেন্দ্র চালানো গেলে কোনও লোকসানই হওয়ার কথা নয়।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র গ্রিডে  ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রটি যদি ১০ ভাগ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরে চলে, তাহলে যোগ হবে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আবার যদি ৯০ ভাগ প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরে চলে, তাহলে ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার কথা।

আমদানি করা বিদ্যুতে প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর বেশি

আমদানি করা বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর অনেক বেশি থাকে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৯৫ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮৩ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা কমে গিয়ে হয় ৬৭ শতাংশ। পিডিবি বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর কিছু বাড়বে, যা ৭৭ দশমিক ৪২ শতাংশ হতে পারে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে যেখানে প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৯ শতাংশ, সেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বেড়ে গিয়ে হয় ৫১ শতাংশ। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা হঠাৎ করেই অনেক কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৩৬ শতাংশ। পিডিবি বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা প্রায় একই থাকবে (৩৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ)।

একইভাবে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একই, অর্থাৎ ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা হঠাৎ করে কমে গিয়ে হয় ৩২ শতাংশ। তবে পিডিবির হিসাবে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা আরও কমে হবে ১৭ দশমিক ৭৫।

ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৩০ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৯ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা আরও কমে গিয়ে হয় ১৪ শতাংশ। পিডিবির বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা আরও কমে হবে মাত্র ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

জলবিদ্যুতের ক্ষেত্রে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৯ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একটু বেড়ে ৫১ শতাংশ হলেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৩৬ শতাংশে। পিডিবি বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা একই থাকবে, অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৫৮ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫৭ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আরও কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৩০ শতাংশে। পিডিবি বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বেড়ে হবে ৬৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ১৩ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ১৯ শতাংশ। পিডিবি বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে যাবে, যার পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশে।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে থাকলে সেই কেন্দ্রের খরচ তো বন্ধ থাকে না। প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর কম হওয়ার কোনও কারণই নেই। কেন্দ্র বসে থাকার দায় কার? বিনিয়োগকারীরা যে বিনিয়োগ করছেন, তাদের যেমন লোকসান হচ্ছে, তেমনি সেই লোকসানের দায় জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে। আমাদের এখন চাহিদার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র। অন্যদিকে, চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও আমরা বিদ্যুৎ আমদানি করছি। এসব অপরিকল্পিত প্রকল্পের দায় দাম বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণের ঘাড়ে চাপানো অগ্রহণযোগ্য ও অযৌক্তিক।’

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT