বিএনপির ২২ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ অনিশ্চিত বিএনপির ২২ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ অনিশ্চিত – CTG Journal

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
৪ খুনের রহস্য উন্মোচন: খোটা দেওয়ায় পরিবারসহ ভাইকে খুন প্রধানমন্ত্রী যা আহ্বান করেন জনগণ তাতেই সাড়া দেয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরগুনায় সৌদি প্রবাসীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা: পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ সাংবাদিক নেতা রুহুল আমীন গাজী গ্রেফতার মানিকছড়িতে প্রাথমিক শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তার বিদায় অনষ্ঠান চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি হচ্ছে গরুর নাড়িভুড়ি পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা ফরম পূরণের কিছু টাকা ফেরত পাবে এইচএসসি শিক্ষার্থীরা মহাবিশ্বের নক্ষত্রের চেয়েও বেশি ভাইরাস পৃথিবীতে, কিন্তু সব ভাইরাস দ্বারা মানুষ আক্রান্ত হয় না কেন? কারিগরি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতেই হবে কাপ্তাই এ মার্কেটিং অফিস আছে, দেখা নেই কর্মকর্তার
বিএনপির ২২ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ অনিশ্চিত

বিএনপির ২২ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ অনিশ্চিত

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিএনপি। সমাবেশের স্থান হিসেবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা দলীয় কার্যালয় নয়াপল্টনকে নির্ধারণ করে এর যেকোনও একটির অনুমতির জন্য ঢাকা মেট্রো পরিলটন পুলিশ (ডিএমপির) কাছে অনুমোদন চেয়েছে।  তবে, তিন দিন আগে আনুমতি চেয়েও সাড়া পায়নি দলটি। বুধবারও অনুমতি পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখছে না দলটির নেতারা। ফলে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় দলটির এই সমাবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, সমাবেশের অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদনের পাশাপাশি বিএনপির প্রতিনিধিরা ডিএমপিতে সঙ্গে দেখা করে অনুমতির নিশ্চয়তা পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ মঙ্গলবারও দলটির একটি প্রতিনিধি দল চেষ্টা করেও ডিএমপিতে সাক্ষাৎ পায়নি বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ কারণে তাদের ধারণা ২২ ফেব্রুয়ারি পূর্ব নির্ধারিত  সমাবেশ করার সুযোগ হচ্ছে না বিএনপির।

এ ব্যাপারে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ‘এখনও সমাবেশের অনুমতি পাইনি, পাবো বলেও মনে হচ্ছে না। এরপরও আমাদের সমাবেশের  প্রস্তুতি রয়েছে।পাশাপাশি আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’

বিএনপির নেতারা জানান, সমাবেশের অনুমতি না দিলেও ডিএমপি থেকে ঘরোয়া পরিবেশে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বিএনপিকে। গতকাল সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল সমাবশের অনুমতির বিষয়ে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন। ডিএমপি থেকে বলা হয়েছে সমাবেশের অনুমতি দিতে আইনের কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বিএনপি যদি ঘরোয়া পরিবেশে আলোচনা সভা করতে চাইলে ডিএমপি সহযোগিতা করবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আযম খান বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) আমরা সমাবেশের অনুমতির জন্য ডিএমপির কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানানো হয়। তবে আমাদের সমাবেশ অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, এ বিষয়ে এখনও কিছু বলেনি ডিএমিপি।’

বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, সরকার ভয় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাস্তায় বড় কোনও আন্দোলন হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। কারণ গত বছর খালেদা জিয়া বছর লন্ডন সফর পর কক্সবাজার সফর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসমাবেশে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি, সিলেট সফর ব্যাপাক সাড়া পড়ায় এতে তারা আতঙ্কিত। তাই বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সরকার সব সময় বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামকে ভয় পায়। তারা আমাদের জনসমর্থন সহ্য করতে না পেরে দমন-নিপীড়নের নীতি গ্রহণ করছে। এর আগে বিএনপির সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লোকসমাগম থেকে ভয় পেয়েছে। এই কারণে এবার সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে বাহিরে রাখার যে নীতি গ্রহণ করেছে। সেই নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে বিএনপিকে সমাবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে না।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রথম দফায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে মানববন্ধন, ১৩ ফেব্রুয়ারি অবস্থান কর্মসূচি, ১৪ ফেব্রুয়ারি অনশন কর্মসূচি পালন করে দলটি। এরপর দুই দিন বিরতি দিয়ে আবার ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। এরমধ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি গণস্বাক্ষর অভিযান, ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়। এরপর আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ছাড়া সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে দলটি। সেই ধারাবাহিকতা ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সমাবেশ করার কথা ছিল বিএনপির। কিন্তু এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। ওই রায় ঘোষণার পর থেকে খালেদা জিয়াকে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে রাখা হয়।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT