সাংবাদিক পলাশের লাশ মর্গে, তিন দিনেও হয়নি ময়নাতদন্ত সাংবাদিক পলাশের লাশ মর্গে, তিন দিনেও হয়নি ময়নাতদন্ত – CTG Journal

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
শুক্রবার চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত ৮১ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যারিস্টার রফিক উল হকের অবদান অনস্বীকার্য স্থল নিম্নচাপ দেশের মধ্যাঞ্চলে, আজও হতে পারে ভারী বৃষ্টি ব্যারিস্টার রফিক উল হক আর নেই আকবরশাহ’তে ছুরি চাপাতিসহ ২ যুবক গ্রেফতার ফেনীতে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১ মানিকছড়ি পূজামন্ডবে দুশতাধিক গরীব দুঃস্থর মাঝে বস্ত্র বিতরণ নিম্নচাপ উপকূল অতিক্রম করেছে, সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে ফাঁদে ফেলে ১৩ বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি পেল ৩২৪ শিক্ষার্থী সংকটাপন্ন অবস্থাতেই ব্যারিস্টার রফিক উল হক সাজেক মসজিদ-রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের একটি জনবান্ধব প্রকল্প
সাংবাদিক পলাশের লাশ মর্গে, তিন দিনেও হয়নি ময়নাতদন্ত

সাংবাদিক পলাশের লাশ মর্গে, তিন দিনেও হয়নি ময়নাতদন্ত

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ মৃত্যুর তিন দিন পরও জানা সম্ভব হয়নি সাংবাদিক পলাশ কী কারণে মারা গেলেন। সড়ক দুর্ঘটনায়, নাকি চাচাতো ভাইদের মারধরের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে পারার কথা ছিল শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। কিন্তু জানা যায়নি।  মৃত্যুসনদের জটিলতার কারণে তার লাশ পড়ে আছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। প্রকৃত সত্য জানার অপেক্ষায় আছেন পলাশের স্বজনরা।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক পলাশ লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার নাছিমনগর ফকিরবাড়ি গ্রামের ছেলে। তার পিতা মনিরুল ইসলাম, মা মাকসুদা খাতুন। তিনি ছিলেন রূপবাণী পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি। এছাড়া, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্নাতক শ্রেণির পরীক্ষার্থী ছিলেন।

চাচাতো ভাইদের মারধরের কারণে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢামেক হাসপাতালের ১০০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  মারা যান পলাশ। কিন্তু তার মৃত্যুর সনদ নিতে গিয়ে স্বজনরা দেখেন, ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত (আরটিএ) কারণে মৃত্যু। এটি নিয়ে স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার কথা বলেছেন। এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ছুটেছেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি।

দিনভর হয়রানি শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে পলাশের পরিবারকে জানানো হয়—ডেথ সার্টিফিকেটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। অথচ শনিবার পুরো দিনেও কোনও সুরাহা করেনি ঢামেক কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছেন পলাশের মামা কিরণ। তিনি জানান, শনিবার সকাল থেকে টেবিলের পর টেবিল ঘুরে বিকালে একটি স্বাক্ষরের জন্য ময়নাতদন্ত করা গেল না। যে চিকিৎসক ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ ‘সড়ক দুর্ঘটনাজনিত’ লিখেছিলেন তিনি ছুটিতে আছেন। তাই সারাদিন দৌড়াদৌড়ির ফল পুরোটা বৃথা।

পলাশের বড় ভাই মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার থেকে পলাশের জন্য আমরা যুদ্ধ করতেছি। লক্ষ্মীপুর থেকে পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদন আনিয়ে সেটা জমা দিয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেছেন। প্রথমে যে ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল, সেটা সংশোধনের জন্য অনেক জায়গায় ফাইল সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে। সেই সংশোধনে সবার সম্মতির পর এখন যে চিকিৎসক মৃত্যুর কারণ ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ লিখেছিলেন, তার স্বাক্ষরের প্রয়োজন। কিন্তু তিনি শনিবার ছুটিতে ছিলেন। তাই সম্ভব হয়নি। তিনি থাকলে  হয়তো ময়নাতদন্তের পর পলাশের লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।’

এর আগে পলাশের বন্ধু আকাশ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকালে শাহবাগ থানা পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে। এরপর পলাশের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। শনিবার সকালে সব কাগজপত্র পেলে তাকে দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

আকাশ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে ঢামেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলন, তারা ডেথ সার্টিফিকেট পরিবর্তন করে দিতে পারবেন না। তারা লক্ষ্মীপুর থানা পুলিশের কাছ থেকে লিখিত আনতে বলেছে। পরে বাড়ির লোকজন গিয়ে সেখান থেকে একটি লিখিত কপি ইমেইল করে পাঠায়। কিন্তু থানা-পুলিশের স্বাক্ষর বা নম্বর না থাকায় সেটি গৃহীত হয়নি। পরে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ শাহবাগ থানাকে ঢামেকে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলেছে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পর ঢামেক কর্তৃপক্ষ পলাশের ডেথ সার্টিফিকেট দেবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছে।’

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমি রেজিস্টার সংশোধনের জন্য আবেদনটি  ইমেইলে পাঠাই। এছাড়া, ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে এ ব্যাপারে ফোনে যোগযোগ করি।’

শনিবার সারাটা দিন পলাশের স্বজনরা কাটিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যালে। বিকালে মর্গের সামনে থেকে  হতাশ হয়ে তাদের ফেরত যেতে দেখা যায়। তবে তারা আশা করছেন, রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পলাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. সাইদুজ্জামান জানিয়েছেন, পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদন না পেলে ডেথ সার্টিফিকেট সংশোধন করার কোনও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে আহত হয়ে রোগীরা আসেন চিকিৎসা নিতে। আমরা তাদের আহত হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করি। সেখানে রোগীর সঙ্গে যিনি থাকেন, তিনি যা বলেন আমরা তাই এন্ট্রি করি। এর বাইরে তো কিছু আমাদের জানার কথাও না। আমরা চাইলেই তো রোড এক্সিডেন্ট বদলায়ে ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট লিখতে পারি না। তাই আমরা বলেছি পুলিশের প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেবো। পুলিশ বা আদালতের কোনও নির্দেশনা ছাড়া তো আমরা ময়নাতদন্তও করতে পারি না।’

ঢামেক মর্গের  সূত্রে জানা গেছে, পলাশের পরিবার ডেথ সার্টিফিকেট  সংশোধনের জন্য এসেছিলেন। তাদের বলা হয়েছে—ডেথ সার্টিফিকেট সংশোধন একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মর্গের এক কর্মী জানান, ডেথ সার্টিফিকেটের বিষয়ে শনিবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পলাশের লাশ বর্তমানে মর্গের ফ্রিজেই রাখা আছে।

এদিকে সাংবাদিক শাহ মনির পলাশকে (২৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহতের বাবা মো. মনিরুল ইসলাম (মান্নান মিয়া) লক্ষ্মীপুর সদর থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলো সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের মাছিমনগর গ্রামের হাজী আক্তারুজ্জামানের ছেলে আবু ইউছুফ (৫০), আবু ছায়েদ (৪৫) ও ইউছুফের স্ত্রী ফয়েজুন্নেছা নেছা (৪৫)।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। পলাশের বাবা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি ফয়েজুন্নেছাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT