কেরানীগঞ্জে ভণ্ড পীর ধরা কেরানীগঞ্জে ভণ্ড পীর ধরা – CTG Journal

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
৩৮তম বিসিএস হতে নন-ক্যাডারে ৫৪১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ ‘কাশ্মির টাইমস’ কার্যালয় বন্ধ করে দিলো প্রশাসন ফের আলুর দাম নির্ধারণ করলো সরকার মানিকছড়িতে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে অর্ধলক্ষ টাকা জরিমানা ভূরাজনীতিক কারণে মিয়ানমারকে তোয়াজ করা হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাপ্তাইয়ের মৎস্যজীবীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত রায়হান হত্যার সুষ্ঠু বিচার হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী লামায় তামাকের বিকল্প হিসেবে বিনামূল্যের সবজি বীজ পেল ১৫০ কৃষক বাইশারীতে জরাজীর্ণ কালভার্টটি অভিভাবকহীন, দেখার কেউ নেই ব্যানকোভিডেই ভরসা গ্লোব বায়োটেকের দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় বাংলাদেশ কলেজ ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
কেরানীগঞ্জে ভণ্ড পীর ধরা

কেরানীগঞ্জে ভণ্ড পীর ধরা

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ ২৫-৩০ বছর আগে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি ছাপাখানার প্রেসের মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরুর পর বিয়ে করেন। চাকরির সীমিত পয়সায় বিয়ের পর সংসারের ঘানি টানতে হিমশিম খেয়ে তুলে নেন রিকশা। শুরু করেন  আরেক নতুন জীবন, বসবাস করেন কামরাঙ্গীরচর এলাকায়।

রিকশার প্যাডেলে পা চালাতে চালাতে শুরু করেন লোক ঠকানো তাবিজের ব্যবসা। রাতের আঁধারে বাজার থেকে তাবিজ কিনে দিনের আলোতে নিরীহ মানুষদের বোকা বানিয়ে তাবিজ দিয়ে হাতিয়ে নেন অবৈধ অর্থ। এভাবেই চলে সেখানে প্রায় সাত-আট বছর। এরই মধ্যে তার দাম্পত্য জীবনে আসে দুই কন্যা সন্তান-সংসার হয় বড়।

পরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চলে আসেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন খোলামোড়া এলাকায়। শুরু করেন তাবিজের ব্যবসা। গ্রামাঞ্চল থেকে এখানে আসা নতুন নতুন বাড়িঘরের লোকজন বিশ্বাস করতে থাকেন তাবিজ ওয়ালাকে। তখন তার মাথায় বুদ্ধি আটে অন্য নেশার।

নিজের বসবাসের ঘরে হিন্দুদের বিভিন্ন মূর্তি, খ্রিষ্টান ধর্মের যিশুর ছবি, বৌদ্ধধর্মালম্বীদের জন্য ধর্মীয় মূর্তি ও মুসলমানদের কোরানের ছবি রেখে আসন তৈরি করে বনে যান ভণ্ডপীর জয়গুরু। কিছুদিনের মধ্যে জুটে যায়  কয়েকজন মুরিদ। দিন যায় মুরিদ বাড়ে। মুরিদরাই সেখানে তার জন্য জায়গা কিনে ঘরবাড়ি ও আসন তৈরি করে বসবাস করার সুযোগ করে দেন।

বলা হচ্ছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হাজতে থাকা আকট ভণ্ডপীর জয়গুরু (৬০)-এর কথা। তার বাবা-মার দেওয়া নাম মো. হাসান। পরে পীর টাইটেল লাগিয়ে নামের সঙ্গে  চেপে দেন চিশতিয়া জয়গুরু। হয়ে যান হাসান চিশতিয়া জয়গুরু। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার উইজপাড়া এলাকায়। বাবার নাম মৃত ইমাম উদ্দিন। স্ত্রীর নাম সিনারা বেগম।

গতকাল সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় গিয়ে দেখা যায় নুরুল হুদা নামের একজন দারোগা বেশ কয়েকজন লোক নিয়ে সালিসি বৈঠক করছেন। এর মধ্যে ৩২ বছর বয়সী সৈয়দ ইকবাল হোসেন নামের এক মুরিদ  হাউমাউ করে কাঁদছেন। এর সূত্র ধরে এগিয়ে জানা যায় ভণ্ড পীর জয়গুরুর কাহিনী।

ইকবাল বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রী ফারহানা আক্তার লাকিকে নিয়ে খোলামোড়া এলাকায় বসবাস করার সময় গত এক বছর আগে পরিচয় হয় ভণ্ড পীর হাসান চিশতিয়া জয়গুরুর সঙ্গে। আমি তাকে আমার নিজের বাবার চেয়ে বেশি বিশ্বাস করতাম। তাকে বাবা বলে ডাকতাম। আমি রাজধানীর জুরাইন এলাকার সিটি করপোরেশন মার্কেটে কাপড়ের দোকানে চাকরি করতাম। সপ্তায় একদিন বাড়িতে আসতাম।’

ইকবাল আরো বলেন, ‘সংসারের খরচের টাকা আমি কর্মস্থল থেকে জয়গুরুর কাছে পাঠাতাম। ভণ্ড পীর আমার এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আমাকে তার বাড়ির পাশে একটি জায়গা কেনার প্রস্তাব দেন এবং আমার কাছ থেকে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে একটি জায়গা বায়না করিয়ে দেন। সে জায়গার ওপর আমি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করার জন্য প্রস্তুত নিচ্ছিলাম আর তখনই সে আমার স্ত্রীকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে আমাকে তালাক দিয়ে এর কিছু দিন পর সে নিজেই বিয়ে করেন। এখন আমি এর বিচার চাই।’

কেরানীগঞ্জ মডের থানার এসআই নুরুল হুদা বলেন, ‘লাকির ভাই হাসান ইমামের একটি অভিযোগে ভণ্ড পীর হাসান চিশতিয়া জয়গুরুকে আটক করেছি। তার বসতঘর থেকে বিভিন্ন ধর্মালম্বীদের মূর্তি ও পোস্টার উদ্ধার করা হয়েছে।

লাকির ভাই হাসান ইমাম বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতি ইকবালের মাধ্যমে ভণ্ড পীরের সঙ্গে পরিচয় হয়। ইকবাল তার ভণ্ডপীর ছাড়া কিছুই বুঝতেন না। তার কারণেই আজ এ অবস্থা হয়েছে। ইকবাল তার ভণ্ড বাবার কথা শুনে অনেকদিন আমার বোনকে মারধর করেছে। আমার বোন লাকি একাধিকবার আমাদের বলেছে ইকবাল ভণ্ড পীরের এখানে আসা যাওয়া না ছাড়লে আমি তার সঙ্গে সংসার করব না। আমরা তার কথায় গুরুত্ব না দিয়ে ইকবালকে বুঝিয়েছি তুমি এগুলো ছেড়ে দাও। কিন্তু ইকবাল আমাদের কথা শুনতেন না। একপর্যায়ে আমরা ইকবালের সঙ্গে  সম্পর্ক ছেড়ে দেই।’

হাসান ইমাম আরো বলেন, ‘গত মাস দুয়েক ধরে আমার বোনের ফোন নাম্বার বন্ধ পাই। এরপর সে অন্য একটি নাম্বার দিয়ে আমাদের ফোন করে কথা বলে। তখন আমার স্ত্রীকে তার বাড়িতে পাঠালে জানতে পারি আমার বোনকে দিয়ে ভণ্ড পীর ইকবালকে তালাক দিয়েছে এবং তিনি নিজেই লাকিকে বিয়ে করে তার ঘরে রেখেছেন। এ খবর জানার পর আমরা লোকজন নিয়ে আমার বোনকে তার বাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে আসে।

ভণ্ড পীর জয়গুরুর স্ত্রী সিনারা বেগম বলেন, ‘তিনি (ভণ্ডপীর) কোনো অধ্যাত্মিক লোক না। প্রথমে রিকশা  চালাতেন এরপর তাবিজ বিক্রি করতে করতে পীর সেজে ঘরের মধ্যে অস্তানা দিয়ে মুরিদ তৈরি করতেন। আমি তার এ কাজকে কোনো দিন প্রশ্রয় দেইনি। আমি কিছু বললে আমার দুটি অবুঝ শিশু নিয়ে তালাকের হুমকি দিতেন। তাই মুখ বুজে সবকিছু সহ্য করে গেছি।’

পুলিশ হেফাজতে থাকা জয়গুরু বলেন, ‘আমি কোনো  অবৈধ কাজ করিনি। লাকিকে জোর করে আমি বিয়ে করিনি। সে নিজেই তার স্বামীকে তালাক দিয়ে আমাকে বিয়ে করেছে। আমার প্রথম স্ত্রী অসুস্থ থাকার কারণে আমি লাকিকে ফের বিয়ে করি।

এ ব্যাপারে লাকি অসুস্থ থাকার কারনে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, ‘ভিকটিম লাকির ভাই হাসান ইমাম বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT