কাপ্তাই হ্রদ : শত শত কেজি পঁচা মাছের দুর্গন্ধে পরিবেশ বিপন্ন কাপ্তাই হ্রদ : শত শত কেজি পঁচা মাছের দুর্গন্ধে পরিবেশ বিপন্ন – CTG Journal

শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, আলোচনা হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আরও ২০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৭৩ করোনায় মৃতের সংখ্যা ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে দ্রুত সময়ে ভ্যাকসিন পেতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে: কাদের নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪২ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত লক্ষ্য থাকলে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়: প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাড়ি নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিতে ১৬ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের প্রস্তাব করোনাকালে চলছে কোচিং সেন্টার, বন্ধ করল প্রশাসন করোনার পরও লটারিতে ভর্তি চলবে: শিক্ষামন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর উদ্যোগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সি.আর.এম উদ্বোধন সাংবাদিক কনক সারওয়ার ও ইলিয়াসসহ ৩৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব প্রায় ৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ
কাপ্তাই হ্রদ : শত শত কেজি পঁচা মাছের দুর্গন্ধে পরিবেশ বিপন্ন

কাপ্তাই হ্রদ : শত শত কেজি পঁচা মাছের দুর্গন্ধে পরিবেশ বিপন্ন

কাপ্তাই হ্রদে অব্যাহত পানিবৃদ্ধির কারণে এ বছর ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এখানকার মৎস্যচাষীরা। হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মৎস্য খামারগুলোতে নির্বিচারে মারা যাচ্ছে পোনা মাছসহ বড় বড় মাছ। শহরের ভেতরেই অবস্থিত সদর উপজেলা পরিষদের মালিকানাধীন ষ্টেশন ক্লাব সংলগ্ন জলমহালের মৎস্য প্রজেক্টটিতে প্রায় প্রতিদিনই গড়ে তিনশ’ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠছে। এতে করে প্রায় ১০ একর আয়তনের উক্ত প্রজেক্টের প্রায় পুরো এলাকাজুড়েই পঁচা মাছের দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। পচাঁ মাছের দূর্গন্ধ আর দূষিত পানির কারনে এই জলমহালটির তীরজুড়ে গড়ে উঠা বসতবাড়িগুলোর বাসিন্দাদের হাঁসমুরগীসহ গবাধি পশুগুলো আক্রান্ত হচ্ছে নানাবিদ রোগে।

ইজারায় নিয়ে জলমহালটি পরিচালনাকারী মাহফুজ জানিয়েছেন, বিগত প্রায় দুই মাস সময়ধরেই কাপ্তাই হ্রদের পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পরবর্তী ধরে রাখায় প্রজেক্টের পানিও ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। এতে করে উক্ত জলমহালের তীরে গড়ে উঠা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির খোলা পায়খানা ও সেফটি ট্যাংকের মুখ দেওয়া হয়েছে। এতে করে ময়লাগুলো পানিতে মিশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পানি বিষাক্ত হয়ে যায়। মূলত এই কারনেই প্রতিদিন গড়ে তিনশো কেজি মাছ মরে পঁেচ ভেসে উঠছে। তিনি জানান, আমি তিন বছর মেয়াদে এই জলমহালটি উপজেলা পরিষদের কাছ থেকে ইজারা নেওয়ার পর মাত্র দেড় বছর সময় অতিবাহিত হয়েছে। গত তিন মাস আগে আমি ২০ লাখ টাকার পোনা মাছ ছেড়েছি। ইতোমধ্যে দুইমাস সময়ধরে আমার অন্তত ১০ লাখ টাকার মাছ মরে গেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমি পরিবার পরিজন নিয়ে দেওলিয়া হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবেনা আমার। কারন ঋণ নিয়ে এই জলমহালটি পরিচালনা শুরু করেছিলাম সামান্য একটু লাভের আশায়। কিন্তু অমানবিক আচরনে আমি এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

তিনি বলেন, এই জলমহালের বিষাক্ত পানি বিষমুক্ত করার লক্ষ্যে আমি গত সপ্তাহে আমি দুই লাখ টাকার ঔষধ ছিটিয়েছি। জলমহালে মাছ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় গত মাসে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কচুরিপানা অপসারণ করিয়েছি। কিন্তু এতোকিছুর পরও আমি এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। শীঘ্রই যদি পানি কমানো না হয়, তাহলে সামান্য যে কয়টাকার মাছ এখন মজুদ আছে সেগুলো হারাতে হবে আমাকে।

এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও জনাব এসএম মঞ্জুরুল হক বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই শুনেছি। ইজাদার যদি উপজেলা প্রশাসনের কাছে তার জলমহাল দূষণের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে রাঙামাটি জেলা পরিষদ, জেলা মৎস্য অধিদপ্তরসহ সরকারিভাবে সহায়তা নিয়ে হ্রদের বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ি ঘোনাগুলোতে বাঁধ দিয়ে সৃষ্ট মৎস্য প্রজেক্টগুলোর অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েগেছে। সরেজমিনে জেলার নদীপথে লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকাঘুরে এমনই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা গেছে গত কয়েক দিনে। এই অবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মৎস্য চাষীদের মাঝে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT