ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসাই বড় চ্যালেঞ্জ ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসাই বড় চ্যালেঞ্জ – CTG Journal

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, আলোচনা হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আরও ২০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৭৩ করোনায় মৃতের সংখ্যা ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে দ্রুত সময়ে ভ্যাকসিন পেতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে: কাদের নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪২ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত লক্ষ্য থাকলে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়: প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাড়ি নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিতে ১৬ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের প্রস্তাব করোনাকালে চলছে কোচিং সেন্টার, বন্ধ করল প্রশাসন করোনার পরও লটারিতে ভর্তি চলবে: শিক্ষামন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর উদ্যোগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সি.আর.এম উদ্বোধন সাংবাদিক কনক সারওয়ার ও ইলিয়াসসহ ৩৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব প্রায় ৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ
ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসাই বড় চ্যালেঞ্জ

ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসাই বড় চ্যালেঞ্জ

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি)-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ক্যান্সার আক্রান্ত হন এক লাখ ২২ হাজার ৭১৫ জন। যাদের মধ্যে ধনীরা উন্নত দেশে, মোটামুটি ধনীরা ভারতে, মধ্যবিত্তরা ঢাকার বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা করান।

কিন্তু যাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই তারা বিনা চিকিৎসায় মারা যান। তবে দেশের সব ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসা নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, ক্যান্সার আক্রান্ত প্রত্যেক নাগরিককে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে।

আইএআরসি’র তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে- স্তন ক্যান্সার ১২ শতাংশের,খাদ্যনালীর ক্যান্সার ১১ শতাংশের, জরায়ুর ক্যান্সার প্রায় ১০ শতাংশের, ফুসফুসের ক্যান্সার ৮ দশমিক ৮ শতাংশের, ঠোঁট ও মুখের ক্যান্সার ৮ দশমিক ৬ শতাংশের, গলবিল বা ফ্যারিংস ৮ দশমিক ১ শতাংশের, গলব্লাডার ৩ দশমিক ৮ শতাংশের, কোলন ৩ দশমিক পাঁচ শতাংশের এবং অন্যান্য ক্যান্সার ২৯ শতাংশের।

সংস্থাটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে বছরে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৯১ হাজার ৩৩৯ জন। সবচেয়ে বেশি ১৪ শতাংশ মারা যান খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে। এছাড়া ফুসফুসের ক্যান্সারে ১১ শতাংশ, গলবিলে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, স্তনে সাত দশমিক আট শতাংশ, জরায়ুতে সাত দশমিক দুই শতাংশ, পেটের ক্যান্সারে ৬ দশমিক আট শতাংশ, ঠোঁট ও মুখের ক্যান্সারে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, গলব্লাডারে চার দশমিক আট শতাংশ, কোলনে তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং অন্যান্য ক্যান্সারে ২৯ শতাংশ মারা যান।

অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্যান্সার নির্ণয়ের এক বছরের মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ রোগী হয় মারা যান, না হয় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েন।

সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দশকে দেশে সরকারি খাতে ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এসেছে। তারপরও এখনও পর্যন্ত দেশের ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি ঢাকাকেন্দ্রিক। ঢাকার মহাখালীতে ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল একমাত্র বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতাল হিসেবে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। তবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ মোট আটটি প্রতিষ্ঠানে এখন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিলেও নেই প্রয়োজনীয় রেডিওথেরাপি আধুনিক যন্ত্রপাতি। ঢাকার বাইরে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে নেই ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসার কোনও সুযোগ।

স্বাস্থ্য বিশ্লেষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই হতাশাজনক। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীদের দুই তৃতীয়াংশ সেবা নেন। বাকিদের কী হয়- সেটা নিয়ে আলাদা গবেষণা হতে পারে। তবে দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে পারেন মাত্র ৫ শতাংশ। বাকিরা দেশেই চিকিৎসা করান। অনেকেই চিকিৎসা না নিয়েই মারা যান। আমাদের দেশে রোগীর জন্য ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা নেই। সরকার থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা বলা থাকলেও বাস্তবে রোগীদের টাকা পাওয়ার হার খুবই কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যবস্থা বেশ জটিল। এক তো রোগীর জন্য পর্যাপ্ত সেবার ব্যবস্থা নেই। অভিভাবক বা রোগীকে রোগ সম্পর্কে না জানানো রোগের চিকিৎসা নিশ্চিতে বাধা দেয়।  তাই রোগীর সেবা দিতে চাইলে সরকারকে সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজলভ্য করতে হবে। হাসপাতালে এলে সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালে রোগীকে কোয়ালিটি সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। রোগীকে বুঝিয়ে বলাই হয় না যে তার ক্যান্সার হয়েছে এবং কীভাবে তার চিকিৎসা করা দরকার।’

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও রোগীকে রেডিওথেরাপি দিতে হলে সরকারি হাসপাতালে ছয় মাস পর সিরিয়াল  আসে। ততদিন পর্যন্ত হয়তো ওই রোগী বেঁচে থাকেন না। আর এভাবেই চিকিৎসা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য শুধু স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বাড়ালেই হবে না, চিকিৎসা সিস্টেমেরও পরিবর্তন করতে হবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা আছে। বিশেষ করে হাসপাতালের ভেতরে ডাক্তারের সঙ্গে রোগীর সম্পর্কের বিষয়টি মাত্র ১০ শতাংশ। রোগীর চিকিৎসাসহ বাকি দিকগুলো অন্যরা দেখে থাকেন। চিকিৎসার আরও বহু ফ্যাক্টর আছে যেগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ক্যান্সার রোগীর নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘ক্যান্সার চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি। অজ্ঞতা,অসচেতনতা এবং ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা সুবিধা সুলভ না হওয়ায় রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। যার কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আশানুরূপ কোনও ফল পান না রোগীরা। এই অবস্থার পরিবর্তনে অবশ্যই রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারকে ৮টি বিভাগে আলাদা আঞ্চলিক ক্যান্সার কেন্দ্র স্থাপন, সব মেডিক্যাল কলেজে ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।’

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT