৮ ফেব্রুয়ারি নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ নাসিমের ৮ ফেব্রুয়ারি নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ নাসিমের – CTG Journal

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে পণ্য খালাসের চেষ্টা! হাজী সেলিমের ছেলে ও দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা হাজী সেলিমের ছেলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধর: হাজী সেলিমের ছেলে গ্রেপ্তার ১৯৩৮ সালেই বিচার বিভাগ আলাদা করার দাবি করেছিলেন শেরে বাংলা দেশে করোনার সংক্রমণ ৪ লাখ ছাড়াল খাগড়াছড়িতে এক হাতে গাছের চারা, অন্য হাতে লাল কার্ড নিয়ে ধর্ষণ বিরোধী শপথ চবিতে আগের নিয়মেই ভর্তি পরীক্ষা ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের এএসআই আটক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষকদের সব ধরনের বদলি বন্ধ নাইক্ষ্যংছড়িতে করোনায় ক্ষতি গ্রস্তকৃষকদের প্রণোদনার চেক বিতরণ
৮ ফেব্রুয়ারি নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ নাসিমের

৮ ফেব্রুয়ারি নেতাকর্মীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ নাসিমের

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দলীয় নেতাকর্মীদের সর্তক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে ১৪ দল আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি আসছে, রায় কি হবে, আমরা জানি না। এ রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। আপনাদের সর্তক থাকতে হবে। ওই দিন চট্টগ্রামের প্রতিটি এলাকায়, পাড়া-মহল্লায় আপনাদের থাকতে হবে। আপনারা সতর্ক থাকবেন যাতে ৮ তারিখের আগে তারা (বিএনপি নেতাকর্মী) মাঠ দখল করতে না পারে। মাঠে নামলে তাদের ঘরে ঢুকিয়ে দেবেন। এবারের লড়াই হবে শেষ লড়াই।’

১৪ দলের বিভাগীয় সমন্বয়ক চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মরণে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন।

আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই নির্বাচন মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য বানানোর নির্বাচন নয়। এই নির্বাচন এদেশবাসীর অস্তিত্বের নির্বাচন। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকবে নাকি মানবতাবিরোধী অপরাধীদের দোসররা ক্ষমতায় যাবে, এ নির্বাচন তা চূড়ান্ত করবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের যে অগ্রগতি হচ্ছে তা অব্যাহত থাকবে কিনা, তা নির্ধারণ করবে এ নির্বাচন।’

চট্টগ্রামবাসীর প্রতি নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ভালোবাসেন, তবে আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রামে নৌকাকে জয়যুক্ত করে করবেন। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দেবেন।’

আবারও ষড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া আবার চক্রান্ত শুরু করেছেন। নির্বাচনকে ভণ্ডুল করতে তিনি ষড়যন্ত্রে মেতেছেন।’

সহায়ক সরকার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার কখনোই আর আসবে না, আসবে না, আসবে না। আমেরিকা, ব্রিটেনসহ উন্নত দেশে গণতান্ত্রিক নিয়মে যেভাবে নির্বাচন হয়, সেই নিয়মে দেশে নির্বাচন হবে। নির্বাচনি মাঠেই হবে ফাইনাল খেলা। সেই খেলায় আওয়ামী লীগ জিতবে। ডিসেম্বর মাসে, বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি কিছুতেই হারতে পারে না। ফাইনাল খেলায় আমরাই জিতবো।’

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন– গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সমাজ কল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর।

ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়া এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। এজন্য তার বিচার হচ্ছে। আদালতের রায় আমরাও মেনে নেবো। তাকেও (খালেদা জিয়া) আদালতের রায় মেনে নিতে হবে।’

ওয়ান ইলেভেন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ওই সময় আমি, নাসিম ভাইসহ অনেকে কারাভোগ করেছি। ওই সময়ের একটা মিথ্যা মামলায় আদালতে হাজির হয়ে আমি জামিন নিয়েছি। যে মামলায় কিছুদিন আগে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পেয়েছি।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এ বছরের শেষদিকে নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, দেশ গত ৯ বছরের মতো অসম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে যাবে কিনা, যে নেতৃত্বে দেশ পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, সে নেতৃত্ব থাকবে কিনা।’

সৈয়দ নজিবুল বশর বলেন, ‘চট্টগ্রাম কী হারিয়েছে। আমরা কাকে হারিয়েছি। সেটি সামনের কঠিন সময়ে হাড়ে হাড়ে টের পাবো। কেন্দ্র ইতোমধ্যে মহিউদ্দিন চৌধুরীর না থাকা টের পাচ্ছে। সামনে দুর্দিন আসলে কেউ হয়তো মাঠে নামবেন। কিন্তু তার (মহিউদ্দিন চৌধুরী) মতো প্রতিবাদী একজন নেতা আমরা আর পাবো না, যিনি নিজ দলের বিরুদ্ধেও মাঝে মাঝে দাঁড়িয়েছেন।’ মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোককে শক্তিতে পরিণত করে আগামী নির্বাচনে ১৪ দলকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান সৈয়দ নজিবুল বশর।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। তিনি অসম্প্রদায়িক দেশ গড়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সেই সাহসী নেত্রীর নেতৃত্বকে নৌকায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে।’

বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী নেতা কারাভোগ করেছেন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির কারণে যদি কারাভোগ করতে হয়, তিনি তা করবেন। কারাভোগ করতে অসুবিধা কোথায়।’

শোকসভায় অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান নওফেল, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউল রশীদ খান, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, সমাজতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ ১৪ দলের অনেক নেতা বক্তব্য রাখেন।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT