খালেদা জিয়ার রায়: সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিএনপি খালেদা জিয়ার রায়: সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিএনপি – CTG Journal

রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
এবার যুক্তরাজ্য থেকে এলে ৭ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন ফোন ডিরেক্টরি বিক্রি করা যখন অপরাধ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলবে পুলিশ সদস্যরাও: আইজিপি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো আড়াই কোটি টাকা আবারও নেমে গেছে তাপমাত্রা, তিন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ মানিকছড়িতে মুজিববর্ষ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন রাতে নিখোঁজ, সকালে পুকুরে মিলল লাশ ৩ নদীর সম্মিলিত প্রবাহে বঙ্গোপসাগরে প্রতিদিন ৩ বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে মানতে হবে যে সব বিষয় দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়াল থানচিতে প্রধানমন্ত্রীর ‘উপহার’ ঘর পেল ৩৪ ভূমিহীন পরিবার মেয়র হতে ডা. শাহাদাতের ৭৫ প্রতিশ্রুতি
খালেদা জিয়ার রায়: সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিএনপি

খালেদা জিয়ার রায়: সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বিএনপি

♦ স্বদেশ রায়-

২৭ তারিখ রাতে বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ের আগে বিএনপি নেতাদের যে সিদ্ধান্ত ছিল, শেষ পর্যন্ত ওই ধরনের কোনও কঠোর সিদ্ধান্তে কেন যেতে পারলো না তারা? ২৭ তারিখ রাতের আগে বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিল, তারা তাদের ২০ দলীয় জোটের সব শরিক দলকে বলবে, তারা যেন ৮ ফেব্রুয়ারির আগে তাদের কর্মীদের ঢাকায় নিয়ে আসে। ওই কর্মীরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেবে। যাতে ৮ তারিখ খালেদার রায়ের পরে বড় ধরনের বিক্ষোভ, জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর করতে পারে। এমনকি তাদের অনেকে মনে করেছিলো  হেফাজতের সঙ্গেও যোগাযোগ করবে।

আর এ বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে ২৭ তারিখের রাতের স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে। ২৭ তারিখ রাত ১১টা পর্যন্ত আলোচনা করে ওই ধরনের কোনও কঠিন সিদ্ধান্তে যেতে পারেনি বিএনপি। বরং ২৭ তারিখ রাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা এ বিষয়ে তাদের জোটের সব দলের নেতাদের মতামত নেবে। তারপরে সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে বিএনপির কয়েক নেতা খালেদার সাজা হয়ে যাওয়ার পরে বিকল্প নেতা হিসেবে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের নাম বলেছেন। তারা আপাতত তাকে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য করার জন্য সুপারিশ করেছেন। বেগম জিয়া অবশ্য কোনও মতামত দেননি। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত দেবেন।

বিএনপির এই সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণ কী? প্রথমত বিএনপির সব থেকে বড় ভরসা ছিল হেফাজত মাঠে নামবে। বিএনপির তরফ থেকে গোপনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সাড়া তারা পায়নি। এ জন্যে বিএনপি সময় নিচ্ছে। তারা তাদের সঙ্গে আরও যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। বেগম জিয়ার কিছু নিজস্ব লোক দিয়ে এ যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। আগেরবার হেফাজত নামানোর ক্ষেত্রে মাহমুদুর রহমানের অনেক বড় ভূমিকা ছিল। পাকিস্তান বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছিলো। পাকিস্তান এবারও হয়তো টাকা দেবে কিন্তু গতবার মাহমুদুর রহমান যে উত্তপ্ত সময় পেয়েছিলো এবং হেফাজতের লোকজনকে ধর্মের নামে মিথ্যে তথ্য দিয়ে উত্তেজিত করতে পেরেছিলো এবার পরিস্থিতি সেখানে নেই।

তাছাড়া গতবার হেফাজতের ভেতর জামায়াতের লোকজনও অনেক ঢুকে গিয়েছিলো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, সরকারের পতন ঘটিয়ে জামায়াত নেতাদের রক্ষা করা। এছাড়া ২০১২, ১৩ ও ১৫ সালে বিএনপি যে জ্বালাও-পোড়াও, পেট্রোলবোমা ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পেরেছিলো তারও মূলে ছিল জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা।

এবারও কিছু কিছু এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা বেশ সক্রিয়। তবে সারা দেশে তাদের আগের মতো সেই অবস্থান নেই। তাছাড়া জামায়াতের স্পটগুলো সরকারের এখন আগের থেকে চিহ্নিত। তাই জামায়াত কর্মীরা সেভাবে খালেদা জিয়ার জন্যে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে গেলে আগেই তাদের অনেকে গ্রেফতার হয়ে যাবে। বাস্তবে বিএনপির ২৭ তারিখ রাতে সিদ্ধান্ত নিতে না পারার এটাও একটি বড় কারণ। জামায়াতে ইসলামী এখনও তাদের সিদ্ধান্ত নেয়নি, খালেদা জিয়ার যদি সাজা হয়ে যায় ৮ তারিখে তাহলে তারা কতটা মাঠে নামবে। কারণ, জামায়াতে ইসলামীর ভেতর দুই ধরনের চিন্তা কাজ করছে। তারা মনে করছে যদি খালেদার সাজা হয়ে যায় তাহলে তার জন্যে বড় কোনও ধরনের রিস্ক নিলেও খালেদাকে আইনের লড়াই ছাড়া রক্ষা করার কোনও উপায় নেই। বরং বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে যদি জামায়াতে ইসলামী রাস্তায় নামে তাতে করে গত দুই বছরে তারা যেটুকু সংগঠন দাঁড় করাতে পেরেছে তার ওপর আবার আঘাত আসবে। এসব ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা যে কতটা কঠোর হতে পারে তা জামায়াতে ইসলামী অপারেশন সাতক্ষীরা ও অপারেশন সাতকানিয়াতে ২০১৩ সালে প্রমাণ পেয়েছে। তাছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি অনুকূলে থাকায় ২০১৩ থেকে শেখ হাসিনা এখন আরও বেশি শক্তিশালী।

এমন অবস্থায় কোর্টের রায় নিয়ে কোনও নৈরাজ্যের দিকে গেলে যে সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে তারা যা করেছিলো সে কাজ আর দ্বিতীয়বার করা সম্ভব হবে না বরং সরকারের দিক থেকে তাদের ওপর অনেক বড় আঘাত আসবে– একথা তারা ভালোভাবে বুঝতে পারছে। যে আঘাতে গত দুই বছরে তারা যতটুকু গুছিয়ে নিতে পেরেছে সেটা আবার ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে। আবার তাদের নেতাদের এলাকা ছেড়ে সারা দেশে দৌড়ের ওপর থাকতে হবে। তাছাড়া যদিও পশ্চিমবঙ্গে তাদের একটা আশ্রয় আছে তবে আগের থেকে এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অনেক নতুন মেরুকরণ হয়েছে, জঙ্গি বা অনুপ্রবেশকারীর বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। এমন অবস্থায় জামায়াতের কর্মীদের গ্রেফতার এড়াতে এবার আর পশ্চিমবঙ্গ অতটা নিরাপদ এলাকা নয়। এছাড়া এটাও ঠিক তাদের নেতাদের রক্ষা করার জন্যে কর্মীদের যেভাবে তারা নামাতে পেরেছিলো বেগম জিয়ার রায়ের পরে সেভাবে নামাতে পারবে–এমনটি সম্ভব নয়।

এ কারণে যে জামায়াতের কর্মীদের ওপর নির্ভর করে বিএনপি মূলত আন্দোলন করে সেই জামায়াতে ইসলামীকে কতটা নামাতে পারবে এ নিয়ে বোঝাপড়ার জন্যে বিএনপি আরও দু’চার দিন সময় নিলো। তারা এ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আরও বিস্তারিত কথা বলতে চায়। বেগম জিয়া নিজেও কথা বলবেন। অন্যদিকে ২০ দলীয় জোটের কর্মীদের কতটা নামাতে পারবে? আগে ২০ দলীয় জোটে মুফতি আমিনীর একদল অনুসারী ছিল। আমিনীর মৃত্যুর পরে তাদের অবস্থা কী সেটাও একটা বিষয়। মুফতির মৃত্যুর পরে ওই ভাবে তাদেরকে সংগঠিত করা হয়নি। তাছাড়া তারাও মনে করছে, শেখ হাসিনা এখন খুবই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাই তারা মাঠে নামার কোনোরকম চেষ্টা করলেই তাদের ওপর বড় ধরনের কোনও আঘাত আসতে পারে। অন্যদিকে বিষয়টি খালেদা জিয়ার একটি আইনি লড়াই এখানে আন্দোলন করে কতটা লাভ হবে!  জামায়াতের নেতাদের ক্ষেত্রে তারা আইনি লড়াই ঠেকাতে আন্দোলন করেছিলো তবে শেষ পর্যন্ত লাভ হয়নি। বরং আবার খালেদার জন্যে আন্দোলন করতে গেলে তাদের যে সব নেতারা জামিনে আছে তাদের গ্রেফতার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

একারণে বিএনপিকে শেষ অবধি বেশি ভরসা করতে হচ্ছে তাদের নিজেদের কর্মীদের ওপরে। তাছাড়া তারা কয়েকটি পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সহায়তায়, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিলো খালেদার রায়ের আগেই– সেকাজে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা মনে করেছিলো বাম ছাত্রদের সঙ্গে ঢুকে ও নারায়ণগঞ্জে আইভির সঙ্গে নেমে তারা খালেদার মামলার আগেই একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। দুই জায়গাতেই তাদের কর্মীরা চিহ্নিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে তারা চিহ্নিত হয়েছে বেশি। তাদের সমর্থক পত্রপত্রিকাগুলো চেষ্টা করলেও কোনও কাজ করতে পারেনি। তাই খালেদার মামলার আগে দেশের কোনও এলাকায় বা বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও কোনও অস্থিতিশীল অবস্থা ঘটানো সম্ভব হয়নি। যা বিএনপিকে বেশ হতাশ করে। তাই এখন তাদের শেষ ভরসা নিজস্ব কর্মীদের ওপর। এ কারণে তারা ১ ফেব্রুয়ারি তাদের নির্বাহী কমিটির মিটিং ডেকেছে।

অন্যদিকে বিএনপির একটি গ্রুপ মনে করছে তাদের কর্মীরা যে আন্দোলন করবে তাতে কোনও লাভ হবে না। তারা বড় জোর দেশের কয়েকটি এলাকায় কিছু ঝটিকা মিছিল ও কিছু গাড়িতে আগুন দিতে পারবে। এর বেশি কিছু তারা করতে পারবে না। এর থেকে তারা মনে করছে কোনও জঙ্গি গ্রুপের সহায়তায় ওই দিন ঢাকায় যদি বড় ধরনের কয়েকটি সহিংসতা ঘটানো যায় সেটা বরং অনেক বেশি কাজের হবে। বাস্তবে কোন পথে যে বিএনপি ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের আন্দোলন এগিয়ে নেবে এ সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারেনি। তবে এটা ঠিক তাদের সকলের ধারণা ৮ তারিখ থেকে তাদের নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

লেখক: সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT