অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একাট্টা রাঙামাটিবাসী অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একাট্টা রাঙামাটিবাসী – CTG Journal

শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, আলোচনা হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আরও ২০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৭৩ করোনায় মৃতের সংখ্যা ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে দ্রুত সময়ে ভ্যাকসিন পেতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে: কাদের নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪২ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত লক্ষ্য থাকলে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়: প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাড়ি নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিতে ১৬ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের প্রস্তাব করোনাকালে চলছে কোচিং সেন্টার, বন্ধ করল প্রশাসন করোনার পরও লটারিতে ভর্তি চলবে: শিক্ষামন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর উদ্যোগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সি.আর.এম উদ্বোধন সাংবাদিক কনক সারওয়ার ও ইলিয়াসসহ ৩৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব প্রায় ৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ
অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একাট্টা রাঙামাটিবাসী

অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একাট্টা রাঙামাটিবাসী

রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেছেন, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দরকার স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ এক অবস্থা। আমরাও সন্তুবাবুকে অনুরোধ করবো। আপনিও শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন চান আমরাও শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন চাই। চুক্তি আমরা একত্রে করেছি বাস্তবায়নও আমরা একত্রে করতে চাই। আপনিও অবৈধ অস্ত্রধারীর বিরুদ্ধে ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হউন আপনি তাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় হউন। আপিনও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

তিনি আরো বলেন, দেশি-বিদেশি শক্তি পাহাড় অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। একাত্তরে রাজাকাররা যেভাবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তেমনিভাবে পাহাড়ের রাজাকারের বংশধররা আইএসআইয়ের সাথে হাত মিলিয়ে পাহাড় অস্থিতিশীলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি রোববার রাঙামাটিতে সচেতন নাগরিক কমিটির আয়োজনে এক মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অব্যাহত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম, খুন বন্ধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি এই সমাবেশ পালন করা হয়।

সকাল এগারোটায় সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক দীপংকর তালুকদারের নেতৃত্বে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল রাঙামাটি শহরের পৌর চত্বর থেকে শুরু হয়ে নিউ মার্কেট চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব হাজি মুছা মাতব্বর, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, পৌরসভার মেয়র আবকর হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চিংকিউ রোয়াজা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি চেম্বার অব কমান্সের সভাপতি বেলায়ত হোসেন চৌধুরী বেলাল, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল ।

এছাড়াও রির্জাভ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মো. হেলাল উদ্দিন, তবলছড়ি ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মামুনুর রশিদ, বনরুপা ব্যবসায়ী সমিদির নেতা আবু সৈয়দ, হোটেল ব্যবসায়ী সমিতির নেতা নেছার আহাম্মদ, লঞ্চ ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম, ট্রাক ও মিনি ট্রাক সমিতির নেতা হুরুল আমিন, আসবাব পত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর, কাপ্তাই উপজেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অংসুপ্রু মারমা, বাঙালি ঠিকাদার সমিতির সভাপতি মাহাবুবুর হোসেন, একতা সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো. কামাল, লংগদু উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানে আলম প্রমূখ।

সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, ‘জাতীয় মানবাধিকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা আওয়ামী নেত্রী ঝর্ণা খীসাকে হত্যা চেষ্টা, নানিয়ারচরে সাধারন পথচারী বাঙালি নারীকে গুলি করা, জুরাছড়ি আওয়ামীলীগ নেতা গুলি করে হত্যা ও বিলাইছড়ি আওয়ামীল নেতাকে হত্যা চেষ্টার এতগুলো ঘটনায় আপনাকে তো কথা বলতে দেখি নি। তাহলে কি আমরা বুঝে নিব ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কারো এজেন্ট বাস্তবায়ন করছে?

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির দাবি জানানো হয়। এবং একই সাথে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোকে সতর্ক করে দেয়া হয়, ক্রমাগত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলতে থাকলে এর পরিণতি শুভ হবে না এবং ভবিষ্যতে যেকোন পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। বক্তারা চাঁদাবাজিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

সচেতন নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির কারণে সকালেই স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো শহর। শহরের সকল ব্যবসায়ি ও দোকান কর্মচারিরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে, পরিবহন মালিক শ্রমিকরা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে যোগ দেয় কর্মসূচিতে। বন্ধ হয়ে যায় পুরো শহরের সকল কার্যক্রম।

অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে ডাকা এই সমাবেশে রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। খন্ড খন্ড মিছিলে উত্তপ্ত হয়ে উঠে পুরো শহর। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT