নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ – CTG Journal

রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

        English
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক গাছ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চরবাটা ইউনিয়নের ভূঁইয়ার হাট এলাকায় একটি গ্রামীণ সড়ক প্রশস্ত করার নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের লাগানো ওই সব গাছ খননযন্ত্র দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানালে ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন তাঁদের একজনকে মারধরও করেন। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, চরবাটা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভূঁইয়ার হাটের পূর্ব পাশে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর-সংলগ্ন একটি কাঁচা সড়ক রয়েছে। ২৫০-৩০০ মিটার লম্বা সড়কটি প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত। সড়কের পূর্ব পাশে উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে লাগানো ছোট-বড় দুই শতাধিক গাছ উপড়ে ফেলে রাখা হয়েছে সড়কের পাশে। আর সড়কের ওপর বিভিন্ন স্থানে কিছু বালু ফেলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন সড়ক প্রশস্ত করার নামে তাঁদের লাগানো গাছগুলো উপড়ে ফেলেছেন। এতে তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরমাণু কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের পেছনে এই সড়ক দিয়ে আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দা ছাড়া তেমন কেউ চলাচল করে না।

হঠাৎ এই সড়ক কেন প্রশস্ত করার প্রয়োজন পড়ল তা তাঁদের মাথায় আসছে না। সড়কের পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির বাসিন্দারা গাছ উপড়ে ফেলার প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান অকথ্য ভাষায় তাঁদের গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে একজনকে মারধরও করা হয়। এতে ভয়ে কেউ আর প্রতিবাদ করেনি।

মো. ইব্রাহিম নামের এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তিনি তাঁর বাড়ির সামনে অর্ধশতাধিক গাছ লাগিয়েছিলেন প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে। নানা পরিচর্যার পর কড়ই, নাটাই, ঝাউ, আকাশিসহ প্রায় ৩০টি গাছ টিকেছে। একেকটি গাছ ইতিমধ্যে অনেক বড় হয়েছে। স্বপ্ন ছিল আরও ৫-৭ বছর পর গাছগুলো কেটে বিক্রি করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল। কোনো কথাবার্তা ছাড়া হঠাৎ এসে গাছ উপড়ে ফেলে রেখে গেছেন। এ সময় আপত্তি জানালে চেয়ারম্যান অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন।

একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সড়কের পাশে বসবাসকারী বেশির ভাগ পরিবারই হাতিয়ার নদী ভাঙা। সেখানে বসতভিটা হারিয়ে এখানে গ্রামীণ সড়কের পাশে সামান্য জমি কিনে বসতি গড়েছেন। এখন সড়ক প্রশস্ত করার নামে অসহায় এসব পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে মনে করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে চরবাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু ওয়াদুদ বলেন, সড়ক প্রশস্ত করার নামে গাছ কাটার অভিযোগ কেউ তাঁর কাছে করেনি। তা ছাড়া চেয়ারম্যান কোনো প্রকল্পের আওতায় ওই কাজ করছেন তা তাঁর জানা নাই।

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT