চট্টগ্রামে ছয় থানা ভাগ হয়ে বাড়ছে আরও পাঁচটি থানা চট্টগ্রামে ছয় থানা ভাগ হয়ে বাড়ছে আরও পাঁচটি থানা – CTG Journal

বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
কেডিএস আক্রোশ থেকে এক অসহায় পরিবারের বাঁচার আকুতি সিঙ্গাপুরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেফতার পিছিয়ে যাচ্ছে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ভালো নেই ব্যাংকিং খাত! ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি যুবরাজের গোপন বৈঠকের নেপথ্যে! আবাসস্থল ধ্বংস, কক্সবাজারে ১৩ হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু মা চাইলো ওষুধ কেনার টাকা, ছেলে বললো বিষ কিনে খেতে ২০২১ সালের মধ্যে গ্যাভি’র থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৬ মাধ্যমিকের সব শ্রেণিতেই এবার লাটারিতে ভর্তি বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ৪৪ হাজার মিলিয়ন ডলার চন্দ্রপাহাড়ে পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে তৃতীয় পক্ষ যাতে সুযোগ নিতে না পারে সেজন্য সর্তক থাকার আহ্বান
চট্টগ্রামে ছয় থানা ভাগ হয়ে বাড়ছে আরও পাঁচটি থানা

চট্টগ্রামে ছয় থানা ভাগ হয়ে বাড়ছে আরও পাঁচটি থানা

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ চট্টগ্রাম জেলায় থানা বাড়ানোর উদ্যোগে গতি এসেছে। পাঁচটি থানা বাড়ানোর প্রস্তাবের উপর গণশুনানি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে গণশুনানির প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

এই বছরের মধ্যেই নতুন পাঁচ থানার কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) নূরে আলম মিনা।  থানাগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, দক্ষিণ রাউজান, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া, পশ্চিম পটিয়া বা কালারপোল এবং সাঙ্গু।

জেলায় আরও তিন থানা বাড়ানোর প্রস্তাব গণশুনানির অপেক্ষায় আছে।  এছাড়া চট্টগ্রামের উত্তরে ও দক্ষিণে দুটি মিনি পুলিশ লাইন স্থাপনের উদ্যোগেও গতি এসেছে।

জানতে ‍চাইলে এসপি নূরে আলম মিনা বলেন, পাঁচটা থানার গণশুনানি হয়ে গেছে। ডিসি (জেলা প্রশাসক) সাহেবের প্রতিবেদনও সদর দফতর হয়ে মন্ত্রণালয়ে চলে গেছে। এখন অর্থ ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যাবে নিকারে (প্রশাসনিক পুর্নবিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি)। আশা করছি চলতি বছরের মধ্যেই আমরা থানার কার্যক্রম শুরু করতে পারব।

সূত্র মতে, স্বাধীনতার পর চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় ১৪টি থানা নিয়ে যাত্রা করেছিল জেলা পুলিশ। ২০১২ সালে মিরসরাইকে ভেঙ্গে জোরারগঞ্জ এবং ফটিকছড়িকে ভেঙ্গে ভুজপুর থানা স্থাপন করা হয়।  বর্তমানে ১৬ থানায় জনবল আছে আড়াই হাজার।  বিশাল চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনসংখ্যা বেড়ে এখন ৮০ লাখে পৌঁছেছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ বলেন, জনসংখ্যা বেড়েছে।  অপরাধের ধরন পাল্টে গেছে।  জেলার মধ্যে এমন অনেক এলাকা আছে যেখানে কোন অপরাধ সংঘটিত হলে বা ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে এলে থানা থেকেই পুলিশ যেতে ঘন্টার উপরে সময় লাগে।  রিজার্ভ ফোর্স পৌঁছার আগেই ঘটনা বড় হয়ে যায়।  এই অবস্থায় থানা এবং জনবল বাড়ানোর বিকল্প নেই।

২০১৫ সালে চট্টগ্রামের ‍তৎকালীন পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার দশটি থানা বাড়ানোর প্রস্তাব সদর দফতরে পাঠিয়েছিলেন।  সেই প্রস্তাব পরে এক দফা সংশোধন করা হয়।  বর্তমান এসপি যোগদানের পর তারই উদ্যোগে এই প্রস্তাব গণশুনানি পর্যন্ত পৌঁছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো.জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমি রাঙ্গুনিয়া এবং চন্দনাইশ-সাতকানিয়া থানাকে বিভক্ত করার যে প্রস্তাব সেটার

উপর এলাকায় গিয়ে গণশুনানি করেছি।  সেখানকার এমপি সাহেবরাও আমাকে থানা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন।  আরও কয়েকজন এমপি সাহেব অনুরোধ করেছেন। আমি চট্টগ্রামে আসার আগেই আরও দুটি থানার জন্য গণশুনানি হয়েছে।

সূত্রমতে, পাঁচটি থানার মধ্যে হাটহাজারী উপজেলাকে দুইভাগে বিভক্ত করে নতুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থানা করা হচ্ছে। সাতকানিয়া উপজেলা এবং চন্দনাইশ উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে সাঙ্গু থানা করা হচ্ছে।  রাউজান থানাকে ভেঙে দক্ষিণ রাউজান, পটিয়া থানাকে ভেঙে পশ্চিম পটিয়া বা কালারপোল এবং রাঙ্গুনিয়া থানাকে ভেঙে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত আরও তিন থানা হচ্ছে সীতাকুণ্ড থানাকে ভেঙে ভাটিয়ারি, ফটিকছড়ি থানাকে ভেঙ্গে মাইজভাণ্ডার এবং বাঁশখালীকে ভেঙে উত্তর বাঁশখালী থানা।  তবে প্রস্তাবিত এসব থানার জন্য এলাকায় গিয়ে গণশুনানি আয়োজন করেনি জেলা প্রশাসন।

জানতে চাইলে ডিসি মো.জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, একটু আমি সময় নিচ্ছি।  দাবি জোরালো আছে কি না একটু দেখি।  কেউ একজন এসে বলল থানা বাড়িয়ে দেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া আমরা গণশুনানি করে প্রস্তাব পাঠিয়ে দিলাম, তাহলে তো ঘরে ঘরে থানা হয়ে যাবে।

তবে এসপি নূরে আলম মিনা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বাকি চার থানার গণশুনানিও যাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা যায় সেই চেষ্টা তিনি করছেন।

এদিকে চট্টগ্রামের উত্তরে সীতাকুণ্ডে এবং দক্ষিণে আনোয়ারা উপজেলায় দুটি মিনি পুলিশ লাইন স্থাপনের বিষয়ও চূড়ান্ত হয়েছে। সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান

জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বদিকে বায়েজিদ বোস্তামি লিংক রোডে ১০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। আনোয়ারা থানার ওসি ‍দুলাল মাহমুদ বলেন, থানা থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকায় ৭ একর ৬১ শতাংশ জমি আমরা চূড়ান্ত করেছি।

এসপি নূরে আলম মিনা বলেন, আনোয়ারায় ইপিজেড হচ্ছে। আর মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে।  চট্টগ্রাম বন্দর সম্প্রসারিত হয়ে সীতাকুণ্ডেও যাবে।  সুতরাং উত্তরে এবং দক্ষিণে দুটি মিনি পুলিশ লাইন স্থাপন করার সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি।  এটা পুলিশ সদর দফতর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগেই হবে।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT