রানা প্লাজা ধসের ৫৭ মাস, সাভারে মানববন্ধন রানা প্লাজা ধসের ৫৭ মাস, সাভারে মানববন্ধন – CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০৭ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
কাপ্তাইয়ে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন কাজের জন্য সৌদি আরবে যেতে চাইলে চাকরিদাতার ছাড়পত্র লাগবে করোনাভাইরাস: দেশে ৩২ জন মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ১,৪৩৬ বান্দরবান সাংবাদিক ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ রায় শুনে কেঁদেছেন রিফাতের বাবা: জানালেন সন্তুষ্টি কথা চট্টগ্রামে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাবে সাড়ে ৫ লাখ শিশু খাগড়াছড়িতে ধর্ষণ রোধে পদক্ষেপ জানতে চেয়ে ডিসিকে আইনি নোটিশ বান্দরবানে এ” প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের কর্মশালা বন্যা: কুড়িগ্রামে কর্মহীনতা ও খাদ্য সংকট প্রকট রিফাত হত্যা: মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির রায় ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর কোনও ঘোষণা সৌদি সরকার দেয়নি! করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে
রানা প্লাজা ধসের ৫৭ মাস, সাভারে মানববন্ধন

রানা প্লাজা ধসের ৫৭ মাস, সাভারে মানববন্ধন

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ রানা প্লাজা ধসের ৫৭ মাস উপলক্ষে এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানাসহ সকল দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো, শ্রমিকদের মজুরি ১৬ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি, রানা প্লাজা শাখার উদ্যোগে আজ বুধবার বিকেলে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে রানা প্লাজার সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ মাননববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন রানা প্লাজা শাখার সভাপ্রধান সিরাজ ফকির এবং পরিচালনা করেন রানা প্লাজা শাখার সম্পাদক আলম মাতব্বর। এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মুসা কলিমুল্লাহ, রানা প্লাজার আহত শ্রমিক রূপালী আক্তার, নিহত ফজলে রাব্বির মা রাহেলা বেগমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা ধসের ৫৭ আজ মাস। অথচ এখনো দোষীরা শাস্তি পায়নি। দোষীদের শাস্তির প্রক্রিয়া বিলম্ব করে সরকার নিজের ভাবমূর্তি এবং দেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে।
অবিলম্বে দোষীদের শাস্তি দাবি করে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত প্রায় ৫ বছর ধরে প্রতি মাসের ২৪ বা কাছাকাছি দিনে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে সংগঠনটি। একইসাথে স্বজনহারারাও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তারা প্রশ্ন তোলেন মালিক এবং সরকারের কাছে এই বিলম্বের কারণ কি?

মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সময়ে শ্রমিকদের মজুরি ১৬ হাজার টাকা বৃদ্ধির দাবিটা সময়ের দাবি। নতুন মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি না রাখার সমালোচনা ও নিন্দা করেন। একই সাথে নতুন মজুরি বোর্ডে মজুরি নির্ধারণের পূর্বে গণতান্ত্রিক উপায়ে সকল শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান।

তারা বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী ৫ বছরে মজুরি বোর্ডে নতুন মজুরি হবার কথা। এমনকি সরকার চাইলে ৩ বছরে মজুরি মূল্যায়ন এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকদের নতুন মজুরি ঘোষণার উদ্যোগ নিতে পারে এবং এটি আইনসঙ্গত। কিন্তু ৫ হাজার ৩০০ টাকায় শ্রমিকদের বেঁচে থাকা দায় হলেও এখনো মজুরি বাড়েনি।

বক্তারা আরো বলেন, দেশে চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া শ্রমিকদের জীবন ভয়াবহ দুরাবস্থার মধ্যে পড়েছে। তার ওপর বাসা ভাড়া বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম দফায় দফা বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করে মূল মজুরি ১০ হাজার এবং মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা করা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি। একটি ন্যায্য দাবি সরকার ও মালিককে মেনে নিতে আহ্বান করেন।

তারা আরো বলেন, ৫ হাজার ৩০০ টাকায় বর্তমান বাজারে পরিবার নিয়ে ২৮০০ কিলোক্যালোরী শক্তি উৎপাদন করার মত খাদ্য যেমন গ্রহণ করা শ্রমিকদের পক্ষে সম্ভব না তেমনি জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণও সম্ভব না। শ্রমিকরা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রাণ, তাঁদের প্রাণ না বাঁচলে এই শিল্পও বাঁচবে না। তাই শিল্প ও শ্রমিক বাঁচাতেই মজুরি বৃদ্ধি জরুরি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শ্রমিকদের লাম ছাম মজুরি বৃদ্ধির মুলা ঝুলিয়ে শ্রমিকদের স্বার্থহানী শ্রমিকরা তা মেনে নেবে না। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে মজুরির আন্দোলন করার আহ্বান জানান।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT