চট্টগ্রাম গণহত্যা দিবস আজ চট্টগ্রাম গণহত্যা দিবস আজ – CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ভ্যাকসিন নিয়ে অভিজ্ঞতা জানালেন তারা আ.লীগের সঙ্গে নির্বাচন হয়নি, হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে: ডা. শাহাদাত চট্টগ্রামের ভোটে সন্ত্রাস-সহিংসতার দায় বিএনপির: ইসিতে আ.লীগ বান্দরবানে নির্বাচনী আমেজ: প্রতীক বরাদ্দ, কাউন্সিলর পদে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইব্রাহিম সভাপতি, বেলাল সম্পাদক: লামা ব্যাটারী চালিত অটোবাইক টমটম মালিক ও চালক সমবায় সমিতি লিমিটেডের নির্বাচন ৫৪তম দেশ হিসেবে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলো বাংলাদেশে সমালোচনাকারীদের আগে ভ্যাকসিন দেবো: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রকাশিত সিলেবাস বাদ, আসছে এসএসসি-এইচএসসির নতুন সিলেবাস চট্টগ্রামে কারচুপির অভিযোগে ঢাকায় বিএনপির স্মারকলিপি দেশে নতুন উদ্ভাবিত বারি কাঁঠাল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা ও মূল্যায়নের উপর রামগড়ে মাঠ দিবস পালিত চট্টগ্রামে ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো অপর ভাইয়ের দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১০ ফেব্রুয়ারি

চট্টগ্রাম গণহত্যা দিবস আজ

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ আজ ২৪ জানুয়ারি, ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ দিবস। ১৯৮৮ সালের এই দিনে স্বৈরাচার পতনের দাবিতে লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন আট দলীয় জোট নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা বানচাল করতে ক্ষমতাসীন এরশাদ সরকারের নির্দেশে পুলিশ নিরীহ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়।

তখন শেখ হাসিনার গাড়িবহর পুরাতন বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সামনে পর্যন্ত পৌঁছায়। এসময় জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন নেতৃবৃন্দসহ আট দলীয় জোটের নেতারা মানবঢাল তৈরি করে শেখ হাসিনাকে ‘মৃত্যুর দুয়ার’ থেকে আদালত ভবনে সমিতির কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা করলেও যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ জন নিহত হন। এছাড়া, লাশ গুমের পাশাপাশি বলুয়ারদীঘি অভয়মিত্র মহাশ্মশানে বাছবিচার ছাড়াই কিছু লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলেও জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনার চার বছর পর ১৯৯২ সালে আদালতে বারের আইনজীবী শহীদুল হুদার দায়ের করা মামলাটি ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে নগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আদালতের প্রবেশ পথে নির্মিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্র্তমানে বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে ‘চট্টগ্রাম গণহত্যা’ মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। ওই আদালতে নিযুক্ত পিপি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান,

মামলাটি বিচারের জন্য এই আদালতে স্থানান্তরের পর গত বছরের ৩১ জানুয়ারি নিহত হাসান মুরাদের মা হাসনা বানু এবং নিহত অশোক কুমার দাশের বড় ভাই স্বপন কুমার বিশ্বাস আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আদালতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের চারজন নেতা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহম্মদ, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ নিহত তিনজনের স্বজন এবং চারজন প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণে সমন জারির জন্য আবেদন করা হয়।

এই চার আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাসিনার জনসভায় যোগ দিতে তার সঙ্গে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। সমন পেয়ে ইতিমধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় দুটি দৈনিক পত্রিকার তৎকালীন দুই সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী ও অঞ্জন কুমার সেন আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত আড়াই দশকে অর্ধ শতাধিক সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। চলতি বছরের মধ্যেই মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ওই দিনের ঘটনায় নিহতরা হলেন মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথেলবার্ট গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি কে দাশ, পঙ্কজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, সমর দত্ত, হাসেম মিয়া, মো. কাসেম, পলাশ দত্ত, আব্দুল কুদ্দুস, গোবিন্দ দাশ ও শাহাদাত। তাদের স্মরণে আদালত ভবনের প্রবেশ পথে একটি স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ চট্টগ্রাম বারের প্রয়াত সদস্য শহীদুল হুদা বাদী হয়ে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করে সিএমএম আদালতে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ১৯৯৮ সালের ১৪ মে সিএমপির তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার হাফিজ উদ্দিন দেওয়ান ৪৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয়।

১৯৯৯ সালের ১৪ অক্টোবর সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাদের খান মোট আটজনকে আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। তার দেয়া চার্জশিটে ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা সিএমপি কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদা, কোতোয়ালি থানার পেট্রল ইন্সপেক্টর (পিআই) গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল ওরফে জে.সি. মন্ডল, কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, মমতাজ উদ্দিন, শাহ মো. আব্দুল্লাহ, বশির উদ্দিনকে আসামি করা হয়।

ইতিমধ্যে মামলার আসামি কনস্টেবল বশির উদ্দিন, বাদী এডভোকেট শহীদুল হুদা এবং সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাদের খান ইতিমধ্যে মারা গেছেন।

এছাড়া, মামলার অন্যতম সাক্ষী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক, এম এ জলিল, এম এ মান্নান, আখাতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এবং আতাউর রহমান খান কায়সারও মৃত্যুবরণ করেছেন। আর মামলার অন্যতম আসামি পুলিশ কর্মকর্তা জে.সি মÐল পালিয়ে ভারতে চলে যান বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্য আসামিরা জামিনে রয়েছেন।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT