৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেও আড়ালে যিনি ৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেও আড়ালে যিনি – CTG Journal

রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
এবার যুক্তরাজ্য থেকে এলে ৭ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন ফোন ডিরেক্টরি বিক্রি করা যখন অপরাধ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলবে পুলিশ সদস্যরাও: আইজিপি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো আড়াই কোটি টাকা আবারও নেমে গেছে তাপমাত্রা, তিন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ মানিকছড়িতে মুজিববর্ষ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন রাতে নিখোঁজ, সকালে পুকুরে মিলল লাশ ৩ নদীর সম্মিলিত প্রবাহে বঙ্গোপসাগরে প্রতিদিন ৩ বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে মানতে হবে যে সব বিষয় দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়াল থানচিতে প্রধানমন্ত্রীর ‘উপহার’ ঘর পেল ৩৪ ভূমিহীন পরিবার মেয়র হতে ডা. শাহাদাতের ৭৫ প্রতিশ্রুতি
৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেও আড়ালে যিনি

৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেও আড়ালে যিনি

উজ্জল মোস্তাফিজঃ

একজন মানুষ ৩০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা! এটা বিরল। অবাক হন অনেকেই। অনেকেই প্রথম বারের মতো জানেন। এই মানুষটির নাম আব্দুল মোতালেব। বাস করতেন জেলা শহর সাতক্ষীরায়। তিনি নেই। ২০০২ সালের ২ জুন রাজধানীর সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষবারের মতো শ্বাস ছাড়েন।

শিক্ষা প্রসার তার কাছে ছিল আন্দোলন। এই আন্দোলন তিনি শুরু করেছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পরই। মৃতুর আগের দিন পর্যন্ত এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন আষ্ঠে পিষ্ঠে। আজীবন সাধারণ মানুষের অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছেন। বেঁচে থাকতে তাই এর বেশি আর কিছুই চাননি। কাজের কোনো প্রচার করেননি আব্দুল মোতালেব। তাই পাননি, কোনো জাতীয় স্বীকৃতি।

পেশায় তিনি ছিলেন সাংবাদিক। বাংলাদেশ অবজারভার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধিত্ব করেছেন দীর্ঘ বছর। জেলার প্রথম দৈনিক, কাফেলা সম্পাদনা করতেন। ছিলেন বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালনা পরিষদের সদস্য। বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন আমৃত্যু।

১৯৬৮ সালে আব্দুল মোতালেব নিজেদের পারিবারিক প্রেস থেকে প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক কাফেলা। ১৯৯২ সালে সাপ্তাহিক পত্রিকাটি দৈনিকে রূপান্তর হয়। ছাপাখানা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ভালো যোগাযোগ ছিল শিক্ষকদের সঙ্গে। একই কারণে সাম্যক ধারণা ছিল গোটা মহকুমার শিক্ষা পরিস্তিতির ওপর।

সে সময় সাতক্ষীরা ও এর আশেপাশের এলাকার শিক্ষিতের হার ছিল খুব কম। বিশেষ করে গ্রামে। হাই স্কুল ছিল না পর্যাপ্ত। প্রাইমারি স্কুল ছিল না বহু ইউনিয়নে। কলেজে পড়তে হলে হয় সাতক্ষীরা না হয় খুলনা যেতে হতো। এমনকী মাদ্রাসাও ছিল না বেশিরভাগ এলাকায়। ছেলে মেয়ে একই স্কুলে পড়তে হবে বলে বহু মেয়ে নিরক্ষর থাকতো। এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাইতেন তিনি। প্রথমে ভেবেছিলেন পত্রিকায় রিপোর্ট করে বোধ হয় সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু তা যখন হলো না তখন হতাশ হলেন।

অবশেষে নামলেন আন্দোলনে। সঙ্গে নিলেন পড়াশোনা শেষ করে বসেছিলেন এমন বহু তরুণ তরুণী। শিক্ষার হার কম এমন এলাকাগুলোতে ঘুরলেন দলে দলে।এলাকার লোকজনকে বোঝালেন। বাড়ি ঘুরে খুঁজে বের করলেন শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষার্থী। সারাক্ষণ ছোটাছুটি করলেন বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, মন্ত্রণালয়ে। অবশেষে নির্মিত হতে থাকলো একের পর এক প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার প্রসার হলো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ হলো অনেকের।

সরাসরি তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কুমিরা মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সাতক্ষীরা দিবানৈশ কলেজ, ছফুরন নেছা মহিলা কলেজ, কুমিরা গালর্স হাইস্কুল, তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এ.করিম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, নবারুন বালিকা বিদ্যালয় ও আইনুদ্দীন মহিলা মাদ্রাসা। কলেজ ও হাইস্কুলের পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুল ও রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুল । এছাড়া আব্দুল মোতালেব সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, দাতভাঙ্গা কলেজ, কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভালুকা চাঁদপুর কলেজ, মাহমুদপুর সীমান্ত আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, কলারোয়া সোনার বাংলা কলেজ, শহীদ স্মৃতি কলেজ প্রতিষ্ঠায় নানা ভাবে সহায়তা করেছেন।

মৃত্যুর সময় আব্দুল মোতালেবের বয়স ছিল ৬৩। আজো এই মৃত্যুকে অকাল এবং আকস্মিক বলেন সাতক্ষীরাবাসী। কারণ যে দিন রাতে তিনি অসুস্থ হন সেদিনও প্রচুর কাজ করেছিলেন। কেউ ভাবনার মধ্যেও আনতে পারেনি যে তিনি অসুস্থ হতে পারেন, চলে যেতে পারেন সব ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আজ ১০টি বছর তিনি নেই। সারা সাতক্ষীরা জুড়ে তার প্রতিষ্ঠানগুলো মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে । এই প্রতিষ্ঠাগুলো তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে নিয়মিত। তার জন্ম ১৯৩৯ সালে, পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট জেলার বড়গাছা গ্রামে। বাবা আব্দুল হামিদ সাহিত্য রত্ম। মা সফুন্নেসা বেগম। স্ত্রী আমিনা বেগম। পাঁচ কন্যা ও দুই পুত্রের জনক তিনি ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও নানান সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আব্দুল মোতালেব । সাংগঠনিক দক্ষতার জুড়ি ছিল না । রেডক্রিসেন্ট ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাজধানীর বাইরের সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন তিনি। সব শেষ এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালনা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এছাড়াও জড়িত ছিলেন স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে। খুলনা বিভাগীয় স্কাউটস এর সহকারি কমিশনার এবং জেলা স্কাউট কমিশনার ছিলেন দীর্ঘ দিন। স্কাউট আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য অর্জন করেন রৌপ্য ইলিশ। পরিচালক ছিলেন সেন্ট্রাল লায়ন্স ক্লাব এবং কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার। সহ- সভাপতি ছিলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদ এবং জেলা অন্ধ কল্যাণ সমিতির। কাফেলা নাট্য সংসদ নামে একটি নাট্য চর্চা কেন্দ্রও প্রতিষ্ঠা করেন আব্দুল মোতালেব।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT