চট্টগ্রামের বাজারে চীনা জাম্বুরা, আড়তে কেজি ১৩৩ খুচরা ২০০ টাকা চট্টগ্রামের বাজারে চীনা জাম্বুরা, আড়তে কেজি ১৩৩ খুচরা ২০০ টাকা – CTG Journal

রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
এবার যুক্তরাজ্য থেকে এলে ৭ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন ফোন ডিরেক্টরি বিক্রি করা যখন অপরাধ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলবে পুলিশ সদস্যরাও: আইজিপি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো আড়াই কোটি টাকা আবারও নেমে গেছে তাপমাত্রা, তিন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ মানিকছড়িতে মুজিববর্ষ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন রাতে নিখোঁজ, সকালে পুকুরে মিলল লাশ ৩ নদীর সম্মিলিত প্রবাহে বঙ্গোপসাগরে প্রতিদিন ৩ বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে মানতে হবে যে সব বিষয় দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়াল থানচিতে প্রধানমন্ত্রীর ‘উপহার’ ঘর পেল ৩৪ ভূমিহীন পরিবার মেয়র হতে ডা. শাহাদাতের ৭৫ প্রতিশ্রুতি
চট্টগ্রামের বাজারে চীনা জাম্বুরা, আড়তে কেজি ১৩৩ খুচরা ২০০ টাকা

চট্টগ্রামের বাজারে চীনা জাম্বুরা, আড়তে কেজি ১৩৩ খুচরা ২০০ টাকা

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ দেশি জাম্বুরা খেতেই অভ্যস্ত দেশের মানুষ। তবে গত দুই বছর ধরে বাজারে মিলছে আমদানিকৃত জাম্বুরাও। এ বছর চট্টগ্রামের প্রায় সব খুচরা ফল দোকানি বিক্রি করছেন চীন থেকে আসা জাম্বুরা। খুব মিষ্টি ও দেখতে আকর্ষণীয় হলেও খুচরা দোকানে দাম বেশি যে অনেকে কিনতে পারছেন না!

এসব জাম্বুরা খুচরা দোকানে কোথাও কেজি, কোথাও সংখ্যা হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দোকানে ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি জাম্বুরা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়! ওজন এক কেজি বা ১২০০ গ্রাম হলে দামও বেশি। খুচরা বাজারে এত দাম বেশি হওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে মিলেছে আমদানি মূল্যের সঙ্গে খুচরার বিশাল ব্যবধানের তথ্য।

আমদানিকারক চৈতি ট্রেডার্সের আবুল বাশার বলেন, ‘খুচরা ব্যবসায়ীরা এত বেশি লাভ করায় বাজারে জাম্বুরা বিক্রি ভালো হচ্ছে না। আমি এবার তিন কন্টেইনার জাম্বুরা চীন থেকে এনেছিলাম। এক কন্টেইনার বিক্রি হয়েছে, আরেক কন্টেইনার চট্টগ্রামের ফলমন্ডি আড়তে আছে আর আরেক কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘১২ কেজি কার্টনের জাম্বুরা আড়তে বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে ১৬৫০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিকেজির দাম ১৩৪ টাকা। অথচ খুচরা ব্যবসায়ীরা এর অনেক বেশি দামে বিক্রি করছেন।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০১৪ সালে আপেলের কন্টেইনারের মধ্যে চীন থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কার্টনে জাম্বুরা আমদানি হয়। বিক্রি ভালো হওয়ায় ২০১৫ সালে সাহস করে এক কন্টেইনার জাম্বুরা চীন থেকে আমদানি করেন আবুল বাশার। লাভ দেখে এরপর থেকে আমদানিকারকের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। অবস্থা এমন, কাকরাইল মসজিদের এক ইমামও এবার তিন কন্টেইনার জাম্বুরা আনেন চীন থেকে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাঁচজন আমদানিকারক এবার অন্তত ১০ থেকে ১২ কন্টেইনার জাম্বুরা এনেছেন। ফলে বাজারে জাম্বুরার সরবরাহ প্রচুর। কিন্তু সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না।

চট্টগ্রামের অভিজাত বাজার কাজির দেউড়িতে প্রতিকেজি জাম্বুরা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। মাসখানেক আগে ২৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। তবে সরবরাহ বাড়ায় বাজারে দাম কমেছে বলে দাবি খুচরা দোকানির।

কাজির দেউড়ির খুচরা বিক্রেতা সুমন বাবু বলেন, ‘অন্য ফলের মতো এত বেশি বিক্রি হয় না আমদানিকৃত জাম্বুরা। এসব জাম্বুরা ৭ থেকে ১০ দিনের বেশি রাখলে ক্রেতা চাহিদা কমে যায়। তাই আমরা বেশি কিনে আনি না।’ তবে দামের পার্থক্য নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

আল মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের কর্ণধার মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘যে সময়টাতে দেশে জাম্বুরা থাকে না, ঠিক সেই সময়ের জন্য চীন থেকে জাম্বুরা আমদানি হচ্ছে। দেশি জাম্বুরা উৎপাদন মৌসুমে এই চীনা জাম্বুরা বিক্রি হবে না।

কৃষিবিদরা বলছেন, প্রধানত দেশের উত্তরবঙ্গ এবং তিন পার্বত্য জেলায় জাম্বুরা উৎপাদন হয়। কিন্তু এর পরিমাণ জানা যায়নি। মূলত ফাল্গুন মাসে জাম্বুরার মুকুল আসে। আর ভাদ্র থেকে কার্তিক মাসে ফলন আসে। তবে ইতোমধ্যে বারমাসী কিছু জাম্বুরার ফলন শুরু হয়েছে। দেশে সেগুলো এই সংকটকালীন সময়ে আসছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরাও বলেন, গতকাল উত্তরবঙ্গ থেকে আসা একটি জাম্বুরা কিনেছি কেজি ১২০ টাকায়, চাহিদার তুলনায় তা খুব কম সংখ্যক। এ সময়ে দেশি জাম্বুরা না থাকায় দাম বেশি ছিল। সেগুলো দেড় শ টাকা করে বিক্রি করব।

দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জাম্বুরা উৎপাদন হয় তিন পার্বত্য জেলায়। কিন্তু পরিবহন, সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত নিশ্চিত করতে না পারায় কৃষক ন্যায্য দাম পান না। খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় গত বছর একটি জাম্বুরা বিক্রি হয়েছে চার টাকায়!

অথচ চীন থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, প্যাকেটজাত হয়ে কন্টেইনারে করে চট্টগ্রাম আসছে জাম্বুরা। কিন্তু পার্বত্য এলাকা থেকে উৎপাদিত জাম্বুরার সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আকর্ষণীয় পলিব্যাগে মোড়ানো হলুদ রঙের এ ফলের ওপরের লাগানো আছে দুটি সবুজ পাতা। তা যেকোনো ক্রেতাকে আকর্ষণ করবে নিঃসন্দেহে। এসব জাম্বুরার কোষগুলো সাদা এবং দেশি জাম্বুরার চেয়ে অনেক মিষ্টি। দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরাও এই ধরনের জাম্বুরার জাত উদ্ভাবন করেছেন। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে কেউ চাষ করেননি।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT