চসিকের বারইপাড়া খাল খননে অনিশ্চয়তা চসিকের বারইপাড়া খাল খননে অনিশ্চয়তা – CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩৯ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
কাপ্তাইয়ে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন কাজের জন্য সৌদি আরবে যেতে চাইলে চাকরিদাতার ছাড়পত্র লাগবে করোনাভাইরাস: দেশে ৩২ জন মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ১,৪৩৬ বান্দরবান সাংবাদিক ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ রায় শুনে কেঁদেছেন রিফাতের বাবা: জানালেন সন্তুষ্টি কথা চট্টগ্রামে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাবে সাড়ে ৫ লাখ শিশু খাগড়াছড়িতে ধর্ষণ রোধে পদক্ষেপ জানতে চেয়ে ডিসিকে আইনি নোটিশ বান্দরবানে এ” প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের কর্মশালা বন্যা: কুড়িগ্রামে কর্মহীনতা ও খাদ্য সংকট প্রকট রিফাত হত্যা: মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির রায় ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর কোনও ঘোষণা সৌদি সরকার দেয়নি! করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে
চসিকের বারইপাড়া খাল খননে অনিশ্চয়তা

চসিকের বারইপাড়া খাল খননে অনিশ্চয়তা

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আলোচিত নতুন খাল খনন প্রকল্পের আওতায় ২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজন ছিল ২২৪ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। মন্ত্রণালয় এ অর্থ ছাড় দেয় নি। তাই গত তিন বছরেও সম্ভব হয় নি ভূমি অধিগ্রহণ এবং প্রকল্পের কাজ শুরু করা। পরবর্তীতে বেড়ে গেছে ভূমির মৌজা মূল্য। ফলে অধিগ্রহণে প্রস্তাবিত ভূমির বর্তমান মূল্য এসে ঠেকেছে ১ হাজার ১শ ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৬ টাকায়। এর সঙ্গে যোগ হবে প্রকল্পের অন্যান্য ব্যয়ও।

এমন পরিস্থিতিতে, বিপুল অংকের অর্থ সংস্থানের অনিশ্চয়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তাছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মেগা প্রকল্প নেয়ায় চসিকের এ প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আছে প্রশ্ন। অবশ্য চসিকের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলছেন, ভূমির বর্ধিত মূল্যসহ নতুন করে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে চলতি মাসেই মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে প্রকল্পটির কাজ শুরু সম্ভব। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘প্ল্যানিং কমিশনের’ সভায় এমন ইঙ্গিতও দেয়া হয়েছে।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বহাদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খননে প্রকল্পটির মোট ব্যয় (ভূমি অধিগ্রহণের ২২৪ কোটি টাকাসহ) ধরা হয়েছে ৩২৬ কোটি ৮৪ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা। প্রকল্পে ২৪৫ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা সরকার এবং ৮১ কোটি টাকা চসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। ২০১৪ সালের ২৪ জুন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছিল। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট। ওই সময় প্রকল্পের সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, নতুন খালটি নগরীর বারইপাড়াস্থ চাক্তাই খাল থেকে শুরু করে শাহ্‌ আমানত রোড হয়ে নুর নগর হাউজিং সোসাইটির মাইজপাড়া দিয়ে পূর্ব বাকলিয়া হয়ে বলির হাটের পার্শ্বে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির দৈর্ঘ্য হবে আনুমানিক ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং প্রশস্থ ৬৫ ফুট। খালটির মাটি উত্তোলন, সংস্কার ও নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টির লক্ষে খালের উভয় পাশে ২০ ফুট করে ২ টি রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

অর্থ সংকটে হয় নি ভূমি অধিগ্রহণ :

প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রধান অংশ ভূমি অধিগ্রহণ। এই অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে। ওইদিন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবর ভূমি অধিগ্রহণের অনাপত্তি ছাড়পত্রের আবেদন করেছিল চসিক। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের কাছে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের জন্য পত্র দিয়েছিল চসিক। ওই সময় জেলা প্রশাসনের প ে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ অর্থ প্রদানের পরামর্শ দেয়া হয় চসিককে। যাতে অধিগ্রহণ কার্যক্রম একসঙ্গে করা সম্ভব হয়।

এদিকে চসিকের পক্ষে চাহিদা অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের ২২৪ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকা প্রদান করা সম্ভব হয় নি। কারণ চসিককেও প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ ছাড় দেয় নি মন্ত্রণালয়। এ যাবত প্রকল্পের বিপরীতে মাত্র ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা কোটি টাকা ছাড় দেয়া হয়। যার পুরোটাই জেলা প্রশাসনকে দিয়ে দেয় চসিক। কিন্তু দাবি অনুযায়ী একসাথে পুরো টাকা না পাওয়ায় ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

অত:পর বেড়েছে ভূমি অধিগ্রহণ ভূমি মূল্য :

গত রোববার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মো. মমিনুর রশিদ স্বা রিত একটি পত্র পাঠানো হয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহীর কাছে। ওই পত্রে জানানো হয়, ‘বাড়ইপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত বিভিন্ন মৌজায় অধিগ্রহণে প্রস্তাবিত ২৫ দশমিক ১৬৬৬২ একর ভূমির সম্ভাব্য মূল্য ১ হাজার ১শ ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৬ টাকা।’

বাজার মূল্য নির্ধারণ কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত ২০১৭ সালের রেজিস্ট্রি কাজে ব্যবহৃত সাব–রেজিস্ট্রি অফিসের মৌজা রেইট অনুসারে ভূমির সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে’ বলেও ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয়, প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া এতে অবকাঠামোগত ও গাছপালার মূল্য সংযোগ হয় নি উল্লেখ করা হয়। ‘যেহেতু শুধুমাত্র নালা শ্রেণির মৌজা রেটের উপর ভিত্তি করে এ মূল্য তৈরি হয়েছে তাই চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় বাস্তবভিত্তিক শ্রেণির ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত মূল্য অনেক বৃদ্ধি পাবে।’

প্রকল্প বাস্তবায়নের অনিশ্চয়তাগুলো :

চসিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসন থেকে ভূমি অধিগ্রহণের সম্ভাব্য মূল্য পাওয়ায় নতুন করে প্রকল্পটি রিভাইস করা হবে। আনুমানিক ১৩ শ কোটি টাকায় নতুন করে প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৌজা রেট বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল চসিক। ওই সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৬১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা। কিন্তু একই বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত প্ল্যান কমিশনের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটি পুনরায় সংশোধন করে এবং আকার কমিয়ে প্রেরণ করতে বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে প্রকল্পটি পুনরায় রিভাইস করে চসিক। এবার ৩৭৬ কোটি ১৩ লাখ টাকায় প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সর্বশেষ প্ল্যানিং কমিশনের বৈঠকে আবারো প্রকল্পটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে গতকাল পর্যন্ত ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে চসিককে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয় নি। তবে বৈঠকে নতুন মৌজা রেটের আলোকেই প্রকল্প তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে মৌজা রেট কম থাকার সময়ও চাহিদা অনুযায়ী অর্থ ছাড় দেয় নি মন্ত্রণালয়। এখন আকার বাড়লে দিবেন তার নিশ্চয়তা কতটুকু?

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট থিয়েটার ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম নগর সংলাপ’ অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছিলেন, ‘বহাদ্দারহাটের বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত নতুন খাল খনন প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে অনেক আগে। ২০১৭ সালের জুনে এটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর দুই মাস পর লেখালেখি শুরু হবে, মেয়র ব্যর্থ।’ কিন্তু মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড়া না দিলে কি করার আছে?

সংশ্লিষ্টরা যা বললেন :

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জায়গা অধিগ্রহণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায় নি। এখন হাজার কোটি টাকার বেশি লাগবে ভূমি অধিগ্রহণে। মন্ত্রণালয় যেভাবে বলে সেভাবেই হবে। তবে এখানে আরেকটি বিষয়, সিডিএ যেহেতু একটি প্রজেক্ট নিয়েছে তাহলে এটার প্রয়োজনীয়তা আছে কী না সেটাও দেখতে হবে। এ বিষয়ে এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি।’

খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক ও চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জমির মূল্য বেড়ে গেছে। তাই প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয়ও বাড়বে। প্ল্যানিং কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে মৌজা রেট অনুযায়ী প্রকল্পটি তৈরি করে পাঠানোর। ভূমি অধিগ্রহণের সব অর্থ একসাথে পরিশোধের আশ্বাসও দিয়েছেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মো. মমিনুর রশিদ বলেন, ‘অধিগ্রহণের বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আমরা ভূমির সম্ভাব্য প্রাক্কলিত মূল্য সিটি কর্পোরেশনের কাছে পাঠিয়েছি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্যান্য দীর্ঘসূত্রিতা :

একনেকে অনুমোদনের দীর্ঘ সাত মাস পর ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের বৈঠকে প্রকল্পটির পুনর্গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরদিন চসিকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনার প্রে িতে চসিক পুনর্গঠন করে প্রকল্পের ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল) পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠায়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই প্রকল্পটির ব্যয় বর্ধন করে (পুর্নগঠিত) চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় পরিকল্পনা বিভাগ। এর দেড় মাস পর ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট প্রকল্পটির কাজ শুরু করার জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়।

২০১০ সালে বহাদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত নতুন এই খাল খননের উদ্যোগ নেয় চসিক। ওই সময় প্রকল্পটির একটি ডিপিপি তৈরি করে চসিকের প্রকৌশল বিভাগ। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটি প্রেরণ করা হয়। এতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩০৩ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ‘প্রকল্প বাছাই কমিটি’র সভায় সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের অর্থায়নে কোন সংস্থা কিভাবে, কতটুকু অবদান রাখবে তার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উল্লেখ করে পুনরায় প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করার জন্য বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে সিটি কর্পোরেশন যৌথ বৈঠক করলে তারা আর্থিক সহায়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারো প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠায় চসিক। কিন্তু মন্ত্রণালয় ফের সংশোধন করার জন্য ২০১২ সালের ২৫ জুন প্রকল্পটি চসিকে ফেরত পাঠায়। একই বছরের জুলাই মাসে পুনরায় চসিক সংশোধন করে প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের জুনে প্রকল্পটি অনুমোদন পায় একনেকে। তখন প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮৯ কোটি ৪৪ লক্ষ ৪ হাজার টাকা।

প্রকল্পটির গুরুত্ব :

১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানে নগরীতে নতুন তিনটি খাল খননের প্রস্তাবনা ছিল। পরবর্তীতে চসিক নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে। এই কমিটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খননের সুপারিশ করে। এর প্রেক্ষিতে ২০১০ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করে চসিক।

এদিকে প্রকল্পের ডিপিপি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন খাল খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টির ফলে জনগণের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়, মাস্টার প্ল্যানের আলোকে খালটি খনন করা না হলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জনসাধারণের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে। তা ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও প্রকল্প ব্যয় অনেকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

নতুন এ খাল খননের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়, নগরীর বহাদ্দার হাট এলাকার আশেপাশে বিদ্যমান চাক্তাই খাল, মির্জা খাল, চশমা খাল, বিজ্যা খাল, ডোমখালসমূহ দিয়ে বর্তমানে যে পরিমান পানি প্রবাহিত হয় তা পর্যাপ্ত নয়। অধিকন্তু অতি বৃষ্টির ফলে বায়োজিদ বোস্তামী ষোলশহর ২ নং রেল গেইটস্থ চশমা খাল দিয়ে যে পরিমান পানি প্রবাহিত হয় তা দ্রুত প্রবাহিত করার জন্য খালসমূহ যথেষ্ট নয়। তা ছাড়া দ্রুত নগরায়রেনর ফলে নীচু ভূমিসমূহ দালান কোটায় পরিপূর্ণ হওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ স্থাপনকারী একমাত্র প্রধান সড়কটি প্রায় ৩ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতা ও বিদ্যমান সমস্যার কারণে নতুন খালটি খনন প্রয়োজন।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT