জৌলুস হারাচ্ছে রেলের পাহাড়তলী কারখানা, দক্ষ লোকবল ও অর্থাভাবে কাহিল এ প্রতিষ্ঠান, এখন অস্তিত্ব সংকটে জৌলুস হারাচ্ছে রেলের পাহাড়তলী কারখানা, দক্ষ লোকবল ও অর্থাভাবে কাহিল এ প্রতিষ্ঠান, এখন অস্তিত্ব সংকটে – CTG Journal

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
লক্ষ্য থাকলে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়: প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাড়ি নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিতে ১৬ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের প্রস্তাব করোনাকালে চলছে কোচিং সেন্টার, বন্ধ করল প্রশাসন করোনার পরও লটারিতে ভর্তি চলবে: শিক্ষামন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর উদ্যোগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সি.আর.এম উদ্বোধন সাংবাদিক কনক সারওয়ার ও ইলিয়াসসহ ৩৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব প্রায় ৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ লামা সদর ইউনিয়ন আ.লীগের নতুন সভাপতি জহির, সম্পাদক ক্যাম্রাচিং ও সাংগঠনিক মানিক বড়ুয়া করোনায় একদিনে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব করোনায় আক্রান্ত কেডিএস আক্রোশ থেকে এক অসহায় পরিবারের বাঁচার আকুতি সিঙ্গাপুরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেফতার
জৌলুস হারাচ্ছে রেলের পাহাড়তলী কারখানা, দক্ষ লোকবল ও অর্থাভাবে কাহিল এ প্রতিষ্ঠান, এখন অস্তিত্ব সংকটে

জৌলুস হারাচ্ছে রেলের পাহাড়তলী কারখানা, দক্ষ লোকবল ও অর্থাভাবে কাহিল এ প্রতিষ্ঠান, এখন অস্তিত্ব সংকটে

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ ও দক্ষ লোকবলের অভাবে পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানাটি জৌলুস হারাতে বসেছে। ১৯৪৭ সালে পাহাড়তলীতে রেলওয়ে কারখানাটি প্রতিষ্ঠার পর রেলের লোকোমোটিভ, ক্যারেজ ও ওয়াগন–এর সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ও আয়ুষ্কাল ঠিক রাখাসহ ১৫০ আইটমের যন্ত্রপাতি তৈরি করা হতো এই কারখানায়। এসব যন্ত্রপাতি তৈরির জন্য পুরো কারখানা জুড়ে ২২টি উপ শপ (যন্ত্রপাতি তৈরির এক একটি ইউনিট) আছে। এখন এই কারখানায় ৬৫ ভাগ দক্ষ লোকবল সংকট ও অর্থাভাবে অর্ধেক আইটেমও তৈরি করা হয় না। কারখানায় তৈরি করা যন্ত্রপাতি ছাড়া বাকীগুলো সৈয়দপুর কারখানা থেকে এবং কিছু বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় বলে জানিয়েছেন কারখানার কর্মকর্তারা।

পাহাড়তলীর এই কারখানায় ১৯৮৫ সালের মঞ্জুরিকৃত জনবল কাঠামোতে ২২শ’ লোকবলের কথা বলা হলেও এখন (২০১৮ সালে) এই কারখানায় জনবল আছে মাত্র ১১শ’। গত ১৫ দিনে অবসরে গেছেন ৫৭ জন দক্ষ কারিগর। চলতি বছরে (২০১৮ সালে) আরো ৩শ’ দক্ষ কারিগর ও শ্রমিক অবসরে যাবেন বলে জানান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (পাহাড়তলী কারখানা) এফ এম মহিউদ্দিন। শুধু আধুনিকায়ন করা হলেও দক্ষ জনবল না থাকলে এই কারখানা অনেকটা অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

গতকাল দুপুরে সরেজমিনে কারখানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এখন যন্ত্রপাতি তৈরির অনেক ইউনিটের জরাজীর্ণ অবস্থা। অনেকগুলো ইউনিটের যন্ত্রপাতি অযত্ন–অবহেলায় পড়ে আছে। উপরের একটি টিনও ভালো নেই। বৃষ্টিতে দামী–দামী সব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক একটি ইউনিটে ঘুরে দেখা গেছে, ১৯৫১–৫২ সালের জার্মানির অনেক ভারী মেশিনারিজ পড়ে আছে শেডগুলোতে, আর বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এসব মূল্যবান যন্ত্রপতি।

এই ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (পাহাড়তলী কারখানা) এফ এম মহিউদ্দিন জানান, দিনদিন নতুন নতুন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। বছর বছর কোচ আসছে–ইঞ্জিন আসছে। কিন্তু এই কারখানার জনবল বাড়েনি, চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দও বাড়েনি। বছরে এই কারখানার জন্য চাহিদা ৩৫ কোটি টাকা হলেও পাওয়া যায় ২০ কোটি টাকা।

১৯৪৭ সালে পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানাটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা জানিয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক এফ এম মহিউদ্দিন জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই কারখানায় রেলওয়ে সব ধরনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ তৈরি করা হতো। এই কারখানা দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য ১৯৮৫ সালের মঞ্জুরিকৃত জনবল কাঠামোতে ২২শ’ লোকবলের থাকার কথা থাকলেও বতর্মানে এই লোকবলের চাহিদা আরো অনেক অনেক গুণ বেড়ে গেছে। ১৯৮৫ সালের জনবল কাঠামো দিয়ে ২০১৮ সাল চিন্তা করা যায় না। তারপরও আমরা সীমিত লোকবল দিয়ে যাত্রী সেবার পাশাপাশি রেলের অনেক যন্ত্রপাতি আমরা তৈরি করছি। এখন এই কারখানায় লোকবল আছে মাত্র ১১শ’। এই ১১শ’ থেকে এই বছরে ৩শ’ অবসরে চলে যাবেন।

কারখানার তত্ত্বাবধায়ক এফ এম মহিউদ্দিন জানান, এই কারখানার সার্বিক আধুনিকায়ন লাগবে। প্রকৃতির মাঝখানে এই কারখানাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে সংস্কার করা হলে এই কারখানা দেখতে আসবে মানুষ।

আরো ১ হাজার নতুন জনবল কাঠামো বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান এফ এম মহিউদ্দিন। তিনি জানান, পর্যাপ্ত জনবল যদি থাকতো তাহলে আরো অনেক আইটেমের যন্ত্রপাতি তৈরি করা যেত। এক সময় এই কারখানা থেকে সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতি বানিয়ে নিয়ে যেত।

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের কারখানাসমূহে লোকবল সংকট, বাজেট স্বল্পতা, প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাব, পুরনো যন্ত্রপাতি এবং আধুনিক মেশিনারিজের অভাবে কাজের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে পারছে না। যা যাত্রীসেবা প্রদান ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে পড়ছে।

এদিকে পাহাড়তলী কারখানা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর উল–আলম চৌধুরীর কাছে কারখানা আধুনিকায়নের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানাটি আধুনিকায়নের কাজ চলছে। দিনদিন রেলওয়েতে নতুন নতুন গাড়ি যুক্ত হচ্ছে, নতুন নতুন ইঞ্জিন আসছে। কিন্তু এই কারখানায় যে পরিমাণ জনবল থাকার কথা সেই পরিমাণে দক্ষ জনবল নেই। তবে আধুনিকায়নের পর ক্যাপাসিটি আরো বাড়বে। জাপানের অর্থায়নে মূল কাজ চলছে। ২০১৩ সালে জাইকার একটি কনসালট্রেন কারখানাটি আধুনিকায়নের জন্য ৪৬৯ কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তাব করেছিল। পরবর্তীতে ২১৭ কোটি টাকায় কাজ শুরু করা হয়। এখানে আরো ১শ’ কোটি লাগবে। আমরা সরকারের কাছ থেকে আরো ১০০ কোটি টাকা চেয়েছি।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT