রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আজ বৈঠক, সই হচ্ছে মাঠপর্যায়ের চুক্তি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আজ বৈঠক, সই হচ্ছে মাঠপর্যায়ের চুক্তি – CTG Journal

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর শুরু আগামী সপ্তাহে কোভিড-১৯: একদিনে ৩৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২,৫২৫ মানিকছড়িতে স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জরিমানা যুগ্ম কমিশনার লুৎফুল কবিরকে বরখাস্তের দাবিতে এনবিআরে বিক্ষোভ সৌদিতে ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর সুবিধা পাবেন বেসরকারি খাতের কর্মীরা শতদিনের রেকর্ড ভেঙে নতুন আক্রান্ত ২৯১ করোনার হাত ধরে আসছে অ্যান্টিবায়োটিক-রেজিস্ট্যান্স মহামারি! ফেনীতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ আসছে শৈত্যপ্রবাহ, কমছে তাপমাত্রা নিয়োগবিধি সংশোধন ও বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবীতে মানিকছড়িতে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতিতে তৃণমূলে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত বান্দরবানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মহাপিন্ড দান অনুষ্ঠিত নাইক্ষ্যংছড়িতে খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক হলেও আসল গডফাদাররা অধরা
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আজ বৈঠক, সই হচ্ছে মাঠপর্যায়ের চুক্তি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আজ বৈঠক, সই হচ্ছে মাঠপর্যায়ের চুক্তি

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ আগামী সপ্তাহ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মাস দু-এক আগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার চুক্তি সই করেছিল। এ সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠানো শুরু করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এই পরিস্থিতিতে আজ সোমবার নেপিডোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসনের জন্য মাঠপর্যায়ের চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে বসছেন।

আজ মিয়ানমারের প্রশাসনিক রাজধানী নেপিডোতে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) প্রথম বৈঠকে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামের মাঠপর্যায়ের চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা। বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক আর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ে। চুক্তিটি সইয়ের পর প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের কাছে প্রথম দফায় এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়ার কথা বাংলাদেশের। তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে কাদের ফেরত নেবে, তা চূড়ান্ত করবে মিয়ানমার।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মিয়ানমারে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেডব্লিউজির প্রথম বৈঠকের মূল বিবেচ্য হচ্ছে মাঠপর্যায়ের চুক্তিটি সই করা। তাই বৈঠক এক দিনের হলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তি সইসহ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আলোচনা মঙ্গলবার পর্যন্ত গড়াতে পারে। আর মিয়ানমারের কাছে তালিকা এবারই দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে সংগৃহীত তালিকা, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার পরিবারভিত্তিক জরিপের তালিকা মিয়ানমারে দেওয়া আবেদনপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে একটি সমন্বিত তালিকা তৈরি হবে। এরপর ওই তালিকা মিয়ানমারের কাছে পাঠানো হবে।

চুক্তির খসড়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মাঠপর্যায়ে কাজের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কোন কোন পথ দিয়ে যাবে, রাখাইন যাত্রার আগে বাংলাদেশের যেসব অস্থায়ী শিবিরে থাকবে তার তালিকা, রাখাইনে ফিরে কোথায় থাকবে সে জায়গাগুলোর তালিকার বিষয়গুলো এর মধ্যে অন্যতম।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য গত ২৩ নভেম্বর নেপিডোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী চ টিন্ট সোয়ে একটি চুক্তি সই করেন। চুক্তি সইয়ের সময় দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। বাস্তবতা হচ্ছে, প্রাথমিক এই সময়সীমা অনুযায়ী প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না—এ প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা বলছেন, চুক্তি সইয়ের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজও হচ্ছে। বাংলাদেশ যেহেতু এবারের প্রত্যাবাসনটি টেকসই করতে চায়, তাই সব কাজ গুছিয়ে করার ওপর জোর দিচ্ছে।

ওই চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের অক্টোবরের পরে যেসব রোহিঙ্গা এসেছে, শুধু তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য বিবেচনা করা হবে। চুক্তি সইয়ের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া শুরুর কথা রয়েছে। ওই চুক্তির ধারাবাহিকতায় গত ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ের বৈঠকে ৩০ সদস্যের জেডব্লিউজি গঠন করা হয়।

 ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর থেকে পরবর্তী কয়েক মাসে ৮৭ হাজার এবং গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা অর্থাৎ এ পর্যন্ত ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ৭ লাখ ৪২ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT