রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অনুকূল পরিবেশের সুফল রমরমা পর্যটন খাত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অনুকূল পরিবেশের সুফল রমরমা পর্যটন খাত – CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাড়ি নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিতে ১৬ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের প্রস্তাব করোনাকালে চলছে কোচিং সেন্টার, বন্ধ করল প্রশাসন করোনার পরও লটারিতে ভর্তি চলবে: শিক্ষামন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর উদ্যোগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সি.আর.এম উদ্বোধন সাংবাদিক কনক সারওয়ার ও ইলিয়াসসহ ৩৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব প্রায় ৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ লামা সদর ইউনিয়ন আ.লীগের নতুন সভাপতি জহির, সম্পাদক ক্যাম্রাচিং ও সাংগঠনিক মানিক বড়ুয়া করোনায় একদিনে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব করোনায় আক্রান্ত কেডিএস আক্রোশ থেকে এক অসহায় পরিবারের বাঁচার আকুতি সিঙ্গাপুরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেফতার পিছিয়ে যাচ্ছে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অনুকূল পরিবেশের সুফল রমরমা পর্যটন খাত

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অনুকূল পরিবেশের সুফল রমরমা পর্যটন খাত

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ দেশের পর্যটন খাতের অবস্থা এখন রমরমা। চলতি মৌসুমে কক্সবাজার ও তিন পাবর্ত্য জেলাসহ (বান্দরবান–রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি) দেশের পর্যটন এলাকাগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অনুকূল পরিবেশের কারণে আগের যেকোন সময়ের চেয়ে এবার পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন কর্পোরেশনের তথ্যমতে, রাঙামাটি জেলার স্পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, তবলছড়ি ডিয়ার পার্ক, সুবলং ঝর্ণা, উপজাতীয় যাদুঘর, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, পেদা টিং টিং, কাপ্তাই হ্রদ, ্টুকটুক ইকো ভিলেজ, যমচুক, রাইংখ্যং পুকুর, নির্বানপুর বন ভাবনা কেন্দ্র, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার রাজবাড়ি, ফুরমোন পাহাড় সবচেয়ে জনপ্রিয়।

বান্দরবান জেলার আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে চিম্বুক পাহাড়, নীলগিরি, মেঘলা, বগা লেক, নীলাচল, শৈল প্রপাত, প্রান্তিক লেক, মিরিঞ্চা, আলী সুড়ঙ্গ, শুভ্র নীল, তাজিংডং, কেওক্যারাডং, ক্যামলং জলাশয়, উপবন লেক, কানাপাড়া পাহাড়, বৌদ্ধ ধাতু জাদী (স্বর্ণ মন্দির)। খাগড়াছড়িতে বড় পাহাড় না থাকলেও আলুটিলা, জেলা পরিষদ পার্ক, রিগাং ঝর্ণা ও সাজেক।

এক–দেড় মাস থেকে এসব এলাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটকরা ভিড় করছেন। কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান বলেন, দেশের পর্যটন খাতে সর্বোচ্চ ব্যবসা হচ্ছে চলতি মৌসুমে। ২০১২–১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছিল পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে নাজুক অবস্থা। বিশেষ করে ২০১৪–১৫ সালে এই খাতের ব্যবসা নেমেছিল শূন্যের কোটায়।

এরপর ২০১৬ সাল থেকে পর্যটন ব্যবসা চাঙ্গা হতে শুরু করে। তবে ২০১৭ সাল থেকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি শীত মৌসুমে পর্যটন এলাকাগুলোতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এসেছে। এরমধ্যে প্রতিবারের ন্যায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারেই পর্যটকের সংখ্যা বেশি। চলতি শীত মৌসুমে ভ্রমণ পিয়াসুদের সর্বোচ্চ ভ্রমণের প্রমাণ মিলে রেলের টিকেট বিক্রিতেও।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্যমতে, অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় গত ডিসেম্বর মাসে রেকর্ড সংখ্যক যাত্রী হয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর একদিনে ঢাকা স্টেশনে প্রায় কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। যা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ছাড়া যেকোন সময়ের চেয়ে রেলের সর্বোচ্চ আয়। চলতি মাসের যাত্রীদের টিকিট বিক্রি থেকে আয় আগের যেকোন বছররের আয়কে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রেলওয়ের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে রেলের যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৫২ কোটি সাত লাখ টাকা। ২০১৬ সালের একই মাসে এই খাতে আয় হয়েছে ৪০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে যাত্রী খাতে রেলের আয় হয়েছিল ৪৪ কোটি ৪৫ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের একই মাসে যাত্রীদের টিকিট বিক্রি করে রেলের আয় হয়েছে ৫৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা।
প্রতিবছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কক্সবাজারে

পর্যটকদের চাপ বাড়তে থাকে। ৩১ ডিসেম্বর হয় বৃহত্তম সমাবেশ। ২০১৭ সাল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। হোটেল মালিক সমিতির তথ্যমতে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে কক্সবাজারে কমপক্ষে ১৫ লাখ পর্যটক এসেছে। পর্যটকের ভিড়ে কক্সবাজারের চার শতাধিক হোটেল হাউসফুল। এমনকি দেশের প্রধান অবকাশযাপন কেন্দ্র কক্সবাজারে লাখ লাখ ভ্রমণ পিয়াসুদের ভিড়ে এখন নগরজুড়ে তীব্র জনজট চলছে।

কক্সবাজার হোটেল ও মোটেল মালিক সমিতির তথ্যমতে, বর্তমানে কক্সবাজারে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক অবস্থান করছেন। গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে দুই–আড়াই লাখ পর্যটক কক্সবাজারে প্রবেশ করছে। হিমছড়ি, ইনানী, সেন্টমার্টিন ও সাফারী পার্কসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে এখন উপচে পড়া ভিড়। কোন হোটেলে কক্ষ খালি নেই।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে ঘুরতে যাওয়া ব্যবসায়ী সোহাইল আহমেদ বলেন, রাস্তায় ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম। রেস্তোরাঁয় খাবারের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন। সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের টিকেট পেতেও করতে হচ্ছে হুড়োহুড়ি।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সহসভাপতি শফিকুর রহমান কোম্পানি বলেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারের চার শতাধিক হোটেলের কোনো কক্ষ খালি নেই। সরকারি–বেসরকারি অর্ধশতাধিক রেস্টহাউসেও সকল কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। এমনকি ফ্ল্যাটবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনগুলোও এখন ভাড়া হয়ে গেছে। যদিও কক্সবাজারের হোটেল–মোটেলগুলোতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের রাত যাপনের সুযোগ রয়েছে।

এদিকে খাগড়াছড়ি শহরের হোটেল গাইরিং’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা জানান, খাগড়াছড়ি শহরের সব হোটেল মোটেলে এখন পর্যটক ভরপুর। তাদের হোটেলের ৪৫০ টি কক্ষের সবটিই দুই–তিন সপ্তাহ এমনকি একমাস আগে থেকে বুকিং হয়ে গেছে।

প্রতিটি হোটেলে এখন ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি লোক অবস্থান করছে।
পর্যটন ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই তিন পার্বত্য জেলায় প্রায় আড়াইশ আবাসিক হোটেল গড়ে উঠেছে।

এরমধ্যে বান্দরবানে শতাধিক, রাঙামাটিতে প্রায় একশ এবং খাগড়াছড়িতে অর্ধশতাধিক হোটেল রয়েছে।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT