কয়লা দুর্নীতি মামলায় ২১ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দুদকের কয়লা দুর্নীতি মামলায় ২১ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দুদকের – CTG Journal

রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার নম্বর ও সময় কমলো ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ বঙ্গবন্ধুর নামে বাংলাদেশ-উইন্ডিজ সিরিজ লামা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত খাগড়াছড়ি পৌরসভার নতুন মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছে না ক্রেতা, বিপাকে ব্যবসায়ীরা বিপুল ব্যবধানে জিতলেন ওবায়দুল কাদেরের ভাই ভ্যাকসিনে অনাগ্রহী ৪২ শতাংশ ব্রিটিশ বাংলাদেশি লামায় শান্তিপুর্ণভাবে পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন : চলছে গননা একনজরে অর্থনীতির ৫০, দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান সূর্য আমরা ‘টাকা ভাংতি নেই’ বলায় দোকান ভাংচুর, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার পিকে হালদার কাণ্ডে জড়িত ৮৩ জনের তালিকা হাইকোর্টে
কয়লা দুর্নীতি মামলায় ২১ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দুদকের

কয়লা দুর্নীতি মামলায় ২১ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দুদকের

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে একলাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা দুর্নীতির ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি ১৯ জনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। সোমবার (৩০ জুলাই) কমিশন থেকে পাঠানো এক চিঠিতে ইমিগ্রেশন বিভাগকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানানো হয়।

 মামলা দায়েরের আগে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির (কোল মাইনিং কোম্পানি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ চার জনকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছে দুদক। এবার এই চারজনসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

কয়লা দুর্নীতির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান দুদকের  উপ-পরিচালক শামসুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলায় আসামি ১৯ জনসহ অতিরিক্ত আরও দুজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেওয়া হয়েছে।
এ আগে একলাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা গায়েবের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই পার্বতীপুর মডেল থানায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুর-উজ-জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলাম, সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ, সদ্য বিদায়ী কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানীয়া, ব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন) মোশাররফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ-ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হক, উপ-ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মেইনটেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মোর্শেদুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেল্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্রনাথ বর্মন, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান, উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) জোবায়ের আলী, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী এবং মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, খনি উন্নয়নের সময় (২০০১) থেকে ১৯ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত মোট এককোটি একলাখ ৬৬ হাজার ৪২ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন করা হয়েছে। উৎপাদিত কয়লা থেকে পার্শ্ববর্তী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৬৬ লাখ ৮৭ হাজার ২৯ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন কয়লা সরবরাহ, বেসরকারি ক্রেতাদের কাছে ডিও’র মাধ্যমে ৩৩ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ দশমিক ৩৭ মেট্রিক টন কয়লা বিক্রি এবং কয়লা খনির বয়লারে ১২ হাজার ৮৮ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার করা হয়। কয়লার উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার হিসাব করলে ১৯ জুলাই কোল ইয়ার্ডে রেকর্ডভিত্তিক কয়লার মজুত দাঁড়ায় একলাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন। কিন্তু বাস্তবে মজুত ছিল প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন কয়লা। অর্থাৎ একলাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৪০ মেট্রিক টন কয়লা ঘাটতি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৩০ কোটি টাকা বলে জানানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, এ ঘটনায় চার জনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জন আসামি অনেক আগে থেকেই তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে সংঘটিত কয়লা চুরির ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অনুমিত হয়।

কয়লা উধাওয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিটিকে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান উপ-পরিচালক শামসুল আলম এবং অন্য দুই সদস্য হলেন- দুদকের সহকারী পরিচালক এএসএম সাজ্জাদ হোসেন ও উপ-সহকারী পরিচালক এএসএম তাজুল ইসলাম।

কমিটি গঠনের পরদিন (২৪ জুলাই) পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য জানতে চান তদন্ত কর্মকর্তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT