মুসুল্লিদের তুলানায় ছোট মসজিদ জায়গা না পেয়ে বাহিরে নামাজ আদায় মুসুল্লিদের তুলানায় ছোট মসজিদ জায়গা না পেয়ে বাহিরে নামাজ আদায় – CTG Journal

শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

        English
মুসুল্লিদের তুলানায় ছোট মসজিদ জায়গা না পেয়ে বাহিরে নামাজ আদায়

মুসুল্লিদের তুলানায় ছোট মসজিদ জায়গা না পেয়ে বাহিরে নামাজ আদায়

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক বায়তুল আবরার জামে মসজিদ যাহা ১৯৬১ সালে প্রতিষ্টিত এই মসজিদের অন্তরগত ১১টি গ্রাম, পৌরসভা ও ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৯ হাজার মানুষের বসবাস মুসলিম অধ্যুষিত এই গ্রামে নিয়মিত মুসুল্লির সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার এই
প্রচীন মসজিদে। কালের পরিক্রমায় দিন দিন মানুষ বারছে বারছে মুসুল্লি কিন্তুু বাড়ছে না মসজিদ তাই এক প্রকার গাদাগাদি করে নামাজ আদায় করতে হয় মুসুল্লিদের। অনেক সময় রোদেপুড়ে বৃষ্টিতে ভিজেও স্রষ্টার ঢাকে সাড়া দিতে হয়। এতে এলাকার প্রবীন মুসুল্লিদের চরম কষ্টে পড়তে হয়।
প্রাচীন এই মসজিদের রয়েছে সু বিশাল ঈদ-গাহ মাঠ, প্রায় পাঁচ একর জায়গা জুরে একটি সু বিশাল পরিচ্ছন্ন কবর স্থান, একটি এতিম খানা সংবলিত হেফজ খানা ও নুরানী মাদ্রাসা এবং বিশাল পুকুর সহ কিছু দোকানপাঠ। এলাবাসীর সহযোগীতায় মোটামোটি ভালোভাবেই চলছে প্রতিষ্টানটি।
এই অবস্থায় প্রাচীন এই মসজিদটি সহসায় বড় করা জরুরী হয়ে পড়েছে কিন্তুু ব্যাক্তি উদ্ধোগে তো আর বিশাল একটি মসজিদ করা সম্ভব নয়।
দরকার সরকারী ভাবে সহযোগীতা তাহলেই হয়তো গোচাবে হাজারো মুসুল্লিদের সমস্যাটি। এলাকার জনপ্রতিনিধি ও মুরুব্বীদদের প্রচেষ্টাও চলছে হাড়ভাঙ্গা ভাবে। আশারবাণী হচ্ছে এরই মধ্যে ঘোষণা এসেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মূখ থেকে যে দেশের প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হবে এবং যেখানে জনসংখ্যার হার বেশী, মুসুল্লিদের সংখ্যা বেশী, বন্যামুক্ত এলাকা হতেহবে তাছাড়া মসজিদের নিজেস্ব জায়গা থাকা জরুরী।
এর সব কিছুই এই মুসলিম অধ্যুষিত মসজিদের রয়েছে সুতারং এই বিহত্তর এলাকার হাজারো মুসুল্লিদের এখন একটাই চাওয়া প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুত মডেল মসজিদটি এই মুসলিমব্লক এলাকাতেই হোওক।
মডেল মসজিদটি পাওয়ার জন্য এলাকার সকলেই ব্যাকুল হয়ে আছে। ইতমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও অনেকে সরব হয়েছেন প্রধান মন্ত্রীর দৃ্ষ্টি আকর্ষনের লক্ষে।
তেমনি একজন হলেন মুসলিম ব্লক বায়তুল আবরার জামে মসজিদের বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি জনাব মো: নুরে আলম খোকন ( বাঘাইছড়ি উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি) তিনি তার ফেইসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা এখানে হবহু তুলে ধরলামঃ- গণপ্রজাতন্তী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধামন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে, মাননীয় প্রধামন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বের কারণে সৌদি সরকার বাংলাদেশের প্রত্যেক উপজেলা ও জেলা সদরে একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ৯০ শতাংশ ব্যয় বহনের সম্মতি প্রদান করে, বাকি ১০ শতাংশ ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ধর্ম-মন্ত্রনালয়ের ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণের নীতিমালা তৈরী করেন এবং সর্বমোট ব্যয় নির্ধারণ করে তা একনেক সভায় অনুমোদন করেছেন।মডেল মসজিদের জন্য তৈরীকৃত নীতিমালার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরলাম।# যে স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হবে সে স্থান অবিশ্যই জনবহুল হতে হবে এবং মসজিদে অধিক সংখ্যক মুসল্লি নিয়মিত নামাজ আদায় করতে হবে। # উপজেলা সদরের সঙ্গে নিরবিচ্ছন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকতে হবে।# মডেল মসজিদ নির্মাণের স্থান বন্যামুক্ত হতে হবে। মডেল মসজিদ নির্মাণের উল্লেখিত শর্তাদি পূরণ করতে সক্ষম বাঘাইছড়ি উপজেলার সদরের মধ্যে একমাত্র মুসলিম ব্লক গ্রাম,কারণ এই মুসলিম অধ্যাসিত এলাকায় ১৯৬১ ইং সনে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্লক বায়তুল আবরার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের অধিনে রয়েছে বাঘাইছড়ি পৌরসভার ২টি পৌর ওয়ার্ড, ৩৩নং মারিশ্যা ইউনিয়ন পরিষদের ২টি ওয়ার্ড, রয়েছে ১০টি সমাজ /পাড়া।এই মসজিদের অধিনে বসবাস করে প্রায় ৯শত পরিবার, লোকসংখ্যা প্রায় ৮হাজার, জুমারদিন বর্তমান মসজিদে মুসল্লিদের জায়গার সংকুলান হয়না,বিশেষ করে বিশেষ বিশেষ ধর্মীয় দিবস ও বর্ষাকালে জুমার নামাজ সহ অন্যান্য এবাদত করা অত্যান্ত কষ্টকর হয়ে দাড়ায়।এই মসজিদটি ১৯৯১ সালে পূণনির্মাণ হয় সম্পূর্ণ এলাকাবাসীর দানের টাকায়।বৃহৎ মুসলিম অধ্যাসিত এই এলাকা উল্লেখ যোগ্য সরকারি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয় সব-সময়,অথচ সরকারেরউন্নয়ন কর্মকান্ডে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে এই অবহেলিত জনপদের মানুষ।বর্তমান রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান জননেতা জনাব বৃষকেতু চাকমা মহোদয় এক সময় ৩৩নং মারিশ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ওনি বাঘাইছড়ি উপজেলার সন্তান হিসেবে সব এলাকার খবর তিনি জানেন,বর্তমান বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান জননেতা জনাব বড়ঋষি চাকমা মহোদয় ও সব এলাকা সম্পর্কে অবগত আছেন।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা মুসলিম ব্লকবাসী রাঙ্গামাটি পাঃ জেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান, বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্তেশনের সকল কর্মকর্তা,বর্তমান সরকার দলীয় সকল স্থরের নেতৃবৃন্দর ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সর্বস্থরের জনগনের নিকট আকুল আবেদন করছি।মডেল মসজিদটি মুসলিম ব্লক গ্রামে স্থাপন করার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য, আমরা আশা করি মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হবেন এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার সর্বস্থরের জনগন আমাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন।
এখানেও শেষ নয় মডেল মসজিদটি পাওয়ার জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজেই মুসুল্লিদের নিয়ে আল্লাহর দরবারে প্রর্থণা করা হচ্ছে, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর জন্য প্রার্থনার ব্যাবস্থা করা হচ্ছে।
এমতা অবস্থায় এলাকার সকলের দাবী প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত মডেল মসজিদটি মুসলিমব্লকেই হোওক তাহলেই মসজিদ নিয়ে মুসুল্লিদের সমস্যাটি সমাধান হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT