চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী খুনঃ এখনো কিনারা করতে পারেনি পুলিশ চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী খুনঃ এখনো কিনারা করতে পারেনি পুলিশ – CTG Journal

শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, আলোচনা হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আরও ২০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২৭৩ করোনায় মৃতের সংখ্যা ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ছাড়িয়েছে দ্রুত সময়ে ভ্যাকসিন পেতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে: কাদের নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪২ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত লক্ষ্য থাকলে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়: প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাড়ি নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিতে ১৬ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের প্রস্তাব করোনাকালে চলছে কোচিং সেন্টার, বন্ধ করল প্রশাসন করোনার পরও লটারিতে ভর্তি চলবে: শিক্ষামন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর উদ্যোগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সি.আর.এম উদ্বোধন সাংবাদিক কনক সারওয়ার ও ইলিয়াসসহ ৩৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব প্রায় ৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ
চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী খুনঃ এখনো কিনারা করতে পারেনি পুলিশ

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী খুনঃ এখনো কিনারা করতে পারেনি পুলিশ

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ চট্টগ্রামে পরিবহন ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদকে প্রকাশ্যে গুলি করে কারা কেন কী কারণে খুন করেছে তা এক মাসেও বের করতে পারেনি পুলিশ। এই মামলার তদন্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে নিহত ব্যক্তির পরিবার। খুনের রহস্যের কোনো কিনারা না হওয়ায় আতঙ্কের মধে৵ কদমতলী এলাকার পরিবহন ব্যবসায়ীরা। আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর বিকেলে কদমতলীতে নিজের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে গুলি করে হারুন অর রশিদকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তাঁর চাচা চট্টগ্রাম নগর বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক দস্তগীর চৌধুরী। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় ভাই হুমায়ুন কবির চৌধুরী বাদী হয়ে সদরঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে সন্দেহভাজন ১০ আসামির নাম উল্লেখ করলেও পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নামে মামলা নেয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

নগরের কদমতলী, ধনিয়ালাপাড়া, পশ্চিম ও পূর্ব মাদারবাড়ী, মতিয়ারপুল এলাকায় ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির কার্যালয়, পুরোনো লোহা ও স্টিল শিটের ব্যবসা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হওয়া বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যেতে কদমতলী এলাকা থেকে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ভাড়া করেন দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। এখানে দিনে কোটি টাকার লেনদেন হয়। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া বাবদ মালিকদের কাছ থেকে বন্দোবস্তকারীরা (মধ্যস্থতকারী) ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেন। স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বন্দোবস্তকারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করলে হারুন বাধা দেন।

ঘটনার পর আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কদমতলীর ব্যবসায়ীরা এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। ১৩ দিন পর মাদারবাড়ী এলাকার জসীম উদ্দিন নামে সন্দেহভাজন এক আসামিকে গত ১৭ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। কিন্তু আসামি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে থাকায় রিমান্ড আবেদন নাকচ হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান আসামি। এরপর সর্বশেষ গত রোববার সন্ধ্যায় নগরের হালিশহর এলাকা থেকে মো. ফয়সাল খান নামে সন্দেহভাজন এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার বাদী ও নিহত ব্যক্তির বড় ভাই হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, আসামিরা সরকারি দলের আশ্রয়ে থাকায় পুলিশ তাঁদের ধরছে না। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় তাঁদের পরিবার আতঙ্কে রয়েছে।

তবে সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্জিনা আক্তার বলেন, সন্দেহভাজন কয়েকজন আসামি আগাম জামিন নেওয়ায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে হয়তো অনেক তথ্য বেরিয়ে আসত। এখন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপরও পুলিশ বসে নেই। তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মামলার বাদী পুলিশকে সন্দেহভাজন ১০ জনের যে তালিকা দিয়েছে তাতে রোববার গ্রেপ্তার করা ফয়সালের নাম নেই বলে জানান ওসি।

নিহত ব্যক্তির পরিবার বলছে, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র যারা মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসেছিলে তাদের সঙ্গে ফয়সালের যোগাযোগ থাকতে পারে। তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানান তাঁরা।

এদিকে হারুন হত্যার পর থেকে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান চট্টগ্রাম আন্তজিলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান বন্দোবস্তকারী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নূর খান। তিনি বলেন, খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন না হলে নতুন করে আন্দোলনের কর্মসূচি দেবেন তাঁরা।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT