ডিসেম্বর থেকে কার্যকর, আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ল ডিসেম্বর থেকে কার্যকর, আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ল – CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
কাপ্তাইয়ে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন কাজের জন্য সৌদি আরবে যেতে চাইলে চাকরিদাতার ছাড়পত্র লাগবে করোনাভাইরাস: দেশে ৩২ জন মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ১,৪৩৬ বান্দরবান সাংবাদিক ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ রায় শুনে কেঁদেছেন রিফাতের বাবা: জানালেন সন্তুষ্টি কথা চট্টগ্রামে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাবে সাড়ে ৫ লাখ শিশু খাগড়াছড়িতে ধর্ষণ রোধে পদক্ষেপ জানতে চেয়ে ডিসিকে আইনি নোটিশ বান্দরবানে এ” প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের কর্মশালা বন্যা: কুড়িগ্রামে কর্মহীনতা ও খাদ্য সংকট প্রকট রিফাত হত্যা: মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির রায় ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর কোনও ঘোষণা সৌদি সরকার দেয়নি! করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে
ডিসেম্বর থেকে কার্যকর, আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ল

ডিসেম্বর থেকে কার্যকর, আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ল

সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী নেতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতার মুখে গ্রাহক পর্যায়ে ফের বিদ্যুতের দাম বাড়াল সরকার। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিইআরসি। আগামী ডিসেম্বর থেকে নতুন এ হার কার্যকর হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অষ্টম দফায় বাড়ানো হল বিদ্যুতের দাম। এবার দাম বাড়ানো হয়েছে কেবল খুচরা পর্যায়ে। পাইকারিতে বিতরণ কেন্দ্রগুলোর জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না।
দাম বাড়ানোর কারণে বিদ্যমান ৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৬ টাকা ৮৫ পয়সায় দাঁড়াবে। তবে গ্রাহক শ্রেণী এবং ধাপভেদে এ দাম সাড়ে ৩ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘লাইফ লাইন’ গ্রাহকদের ন্যূনতম চার্জ তুলে দেয়া হয়েছে। এতে গরিব মানুষরা উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত দু’মাসে ৭ দফায় শুনানির পর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির এ ঘোষণা দেয়া হল। দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম দলগুলো ৩০ নভেম্বর সারা দেশে অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্য হার ঘোষণা এবং গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এর আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিদ্যুতের দাম ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বাড়ানো হয়। দুই বছর পর এবার দাম বৃদ্ধির হারও বেড়েছে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। দেশে এবারই প্রথম সব সংস্থা-বিতরণকারীর জন্য অভিন্ন মূল্য হার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোম্পানিগুলো পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন করলেও তাতে সাড়া দেয়নি বিইআরসি।
বিইআরসির চেয়ারম্যান ও সাবেক বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, আমাদের গ্যাস সংকট আছে। তাই গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর পুরো সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কারিগরি হিসাব-আদর্শিক অবস্থান এবং বাস্তব অবস্থার মধ্যে পার্থক্য অনেক। ভিন্নতা রয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুতের ন্যূনতম মাসুল (১০০ টাকা) প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে সব বিতরণকারী কোম্পানির আওতায় থাকা লাইফ লাইন গ্রাহকদের (৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) বিদ্যুৎ বিল কমবে। আর পল্লী বিদ্যুতের লাইফ লাইন গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্য হারই বহাল থাকবে। সব মিলিয়ে মোট গ্রাহকের ৩৮ শতাংশের বিদ্যুৎ বিল বাড়বে না। শিল্প ও বাণিজ্য খাতে বিল বাড়বে।
পাইকারি না বাড়িয়ে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি কেন- জানতে চাইলে কমিশন চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, বিতরণ খরচ বৃদ্ধির বিবেচনায় কমিশন এই দাম বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের তুলনায় এবার পাইকারিতে প্রতি ইউনিটে বিদ্যুতের দাম ৬ পয়সা করে কমানো হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ২৫ ভাগ এবং অন্য বিতরণ কোম্পানির ১৩ ভাগ গ্রাহক ন্যূনতম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও যে অতিরিক্ত বিল দিত তা থেকে মুক্তি পাবে। সব মিলিয়ে দেশে এমন গ্রাহক সংখ্যা ৯০ লাখ, যাদের
বিদ্যুতের দাম বাড়বে না। এ ধরনের গ্রাহক শ্রেণী আগে যা-ই বিদ্যুৎ ব্যবহার করুক না কেন, তাদের আরইবি এলাকায় হলে ন্যূনতম ৯০ টাকা এবং অন্য বিতরণ এলাকার জন্য ১০০ টাকা বিল দিতে হতো। এখন ডিমান্ড চার্জ ২৫ টাকার সঙ্গে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিলই দিতে হবে।
বিইআরসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সারা দেশে ৬ হাজার ১০০ কোটি ইউনিট (কিলোওয়াট) বিদ্যুৎ বিতরণ করা হবে। বর্ধিত মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রি করে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি লাভ করবে বিতরণকারী সংস্থা ও কোম্পানিগুলো।
অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান বাস্তবতায়ও প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ থেকে ৬ পয়সা কমানো সম্ভব ছিল। উল্টো বিইআরসি ৫.৩ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বেশি দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। সরকারের নীতি অনুযায়ী মেরিট অর্ডার ডেসপাচ পরিচালিত হচ্ছে না। স্বল্পতম ব্যয়ে উৎপাদন কৌশল গ্রহণ না করায় ভোক্তারা বছরে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সরকার কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল গ্রহণ না করে বেশি দামে উৎপাদন করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে চলছে। এটি অন্যায্য ও অন্যায়।
তারা বলছেন, সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম কমায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমেছে। কিন্তু বাংলাদেশে সরকার তেলের দামও তেমন কমায়নি। একদিকে তেল বিক্রি করে লাভ করছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে লাভ আরও বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য সব দিক থেকেই জনগণের পকেট কাটা যাচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়। ভোক্তা অধিকার আন্দোলনে জড়িত নেতারা বলছেন, গ্যাসের পরে বিদ্যুতের দামও অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হল। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, বিদ্যমান বাস্তবতায়ও বিদ্যুতের দাম ১ থেকে ৬ পয়সা কমানো সম্ভব ছিল। কিন্তু সেটা না করে বিইআরসি বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে আরও ৫.৩ শতাংশ। দাম কমানোর বিষয়টি আমরা বিইআরসির শুনানিতে হিসাব কষে প্রমাণও করেছি। এরপরও দাম বৃদ্ধি শুধু অযৌক্তিকই নয় বরং স্বেচ্ছাচারিতাও।
আবাসিকে ৬ ধাপে দাম ৪ থেকে ১০.৭০ টাকা : আবাসিক খাতে প্রথম ধাপ ০ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের ইউনিটপ্রতি ৪ টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে দু’শ ইউনিট পর্যন্ত ৫ টাকা ৪৫ পয়সা, তৃতীয় ধাপে ২০১-৩০০ পর্যন্ত ৫ টাকা ৭০ পয়সা বিল দিতে হবে। চর্তুথ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ পর্যন্ত ছয় টাকা ০২ পয়সা, পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত নয় টাকা ৩০ পয়সা এবং ৬ষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীকে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৭০ পয়সা হারে বিল পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে এই শ্রেণীর গ্রাহককে মাসে ডিমান্ড চার্জ দিতে হবে ২৫ টাকা।
এর আগে বিদ্যুৎ খাতের আবাসিক ভোক্তাদের মধ্যে এক থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত পিডিবি, ডিপিডিসি, ডেসকো ও ওজোপাডিকোর গ্রাহকরা ৩ টাকা ৮০ পয়সা এবং আরইবি ও পবিস (পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) গ্রাহকরা ৩ টাকা ৮০ পয়সা বিল দিত। ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ১৪ পয়সা, ২০১-৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ৫ টাকা ৩৬ পয়সা বিল দিয়েছে। এ ছাড়া ৩০১-৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীরা ৫ টাকা ৬৩ পয়সা, ৪০১-৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা ৮ টাকা ৭০ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীদের ৯ টাকা ৯৮ পয়সা বিল পরিশোধ করতে হয়েছে।
কৃষিতে দাম বেড়েছে ইউনিটপ্রতি ১৮ পয়সা : সেচ/ কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পের ক্ষেত্রে সব কোম্পানির জন্য ইউনিটপ্রতি দাম চার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাসিক ডিমান্ড চার্জ রাখা হয়েছে ১৫ টাকা। এর আগে কৃষিকাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্প ব্যবহারকারী পিডিবি, ডিপিডিসি, ডেসকো ও ওজোপাডিকোর গ্রাহকরা ৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং আরইবি ও পবিস গ্রাহকরা ৩ টাকা ৮২ পয়সা পরিশোধ করতেন। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী কৃষিতে ব্যবহৃত সেচে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ইউনিটপ্রতি ১৮ পয়সা।
ক্ষুদ্র শিল্পে বেড়েছে ৫৪ পয়সা : ক্ষুদ্র শিল্পে ফ্লাট রেট বেড়েছে ৫৪ পয়সা। অফ-পিক সময়ে ইউনিটপ্রতি ৪৮ পয়সা এবং পিক সময়ে ইউনিটপ্রতি ৬০ পয়সা বেড়েছে। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী ক্ষুদ্র শিল্পে ফ্লাট রেট (সবকিছু মিলে মোট মূল্য) ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা ২০ পয়সা, অফ-পিকে ৭ টাকা ৩৮ পয়সা এবং পিক সময়ে (সর্বোচ্চ চাহিদার সময়) ৯ টাকা ৮৪ পয়সা নির্ধারন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত ব্যবহারকারীকে ডিমান্ড চার্জ বাবদ ১৫ টাকা এবং ২৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত ব্যবহারকারীকে ২৫ টাকা দিতে হবে। এর আগে ক্ষুদ্র শিল্প গ্রাহকের জন্য ফ্লাট রেট ছিল ৭ টাকা ৬৬ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৯০ পয়সা এবং পিক সময়ে প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ২৪ পয়সা।
হাসপাতাল, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইউনিটপ্রতি খরচ বাড়ছে ৫১ পয়সা : শিক্ষা, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ৭৩ পয়সা করা হয়েছে। যা আগে ছিল ৫ টাকা ২২ পয়সা। এ ক্ষেত্রে বেড়েছে ৫১ পয়সা। রাস্তার বাতি, পানির পাম্প ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি দাম ৭ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে। আর মাসিক ডিমান্ড র্চাজ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ টাকা।
নিন্মচাপের বাণিজ্যিক গ্রাহক : নিন্মচাপের বাণিজ্যিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে ফ্লাট রেট ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৩০ পয়সা, অফ-পিকে ৯ টাকা ২৭ পয়সা, পিক সময়ে ১২ টাকা ৩৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিমান্ড চার্জ ৩০ টাকা। এর আগে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ফ্লাট মূল্য প্রতি ইউনিটে ছিল ৯ টাকা ৮০ পয়সা, অফ-পিকে ৮ টাকা ৪৫ পয়সা এবং পিক সময়ে ১১ টাকা ৯৮ পয়সা। এ ক্ষেত্রে ফ্লাট রেটে ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ৮২ পয়সা এবং পিক সময়ে ৩৮ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক গ্রাহকের মধ্যে অস্থায়ী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ১৬ টাকা এবং ডিমান্ড চার্জ ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিন চাপের গ্রাহকদের জন্য দাম বৃদ্ধির হার বেশি : এবার মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মধ্যম চাপ, উচ্চচাপ ও অতি উচ্চচাপের সরবরাহ লাইনের ব্যবহারকারীদের শ্রেণী বেড়েছে। মধ্যম চাপ (১১ কেভি লাইন ব্যবহারকারী) গ্রাহকদের মধ্যে আবাসিক খাতে ফ্লাট রেট ইউনিটপ্রতি ৮ টাকা, অফ-পিক সময়ে ৭ টাকা ২০ পয়সা, পিক সময়ে ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাসিক সার্ভিস চার্জ রাখা হয়েছে ৫০ টাকা।
বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ফ্লাট রেট ৮ টাকা ৪০ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ৭ টাকা ৩৪ পয়সা এবং পিক সময়ে ১০ টাকা ১৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাসিক সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।
এই শ্রেণীর শিল্প গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ফ্লাট রেট আট টাকা ১৫ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ৭ টাকা ৩৪ পয়সা এবং পিক সময়ে ১০ টাকা ১৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাসিক ডিমান্ড চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।
নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে ফ্লাট রেট ১১ টাকা, অফ-পিক সময়ে ৯ টাকা ৯০ পয়সা এবং পিক সময়ে ১৩ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাসিক সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ টাকা। সাধারণ খাতে ফ্লাট রেট ৮ টাকা ৫ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ৭ টাকা ২৫ পয়সা এবং পিক সময়ে ১০ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাসিক সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। এ ছাড়া অস্থায়ী সংযোগের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ১৫ টাকা এবং মাসিক চার্জ ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ১১ কেভি লাইন ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য ফ্ল্যাট রেট সাত টাকা ৫৭ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ছয় টাকা ৮৮ পয়সা, পিক সময়ে নয় টাকা ৫৭ পয়সা হারে বিল পরিশোধ করা হতো।
উচ্চচাপ বা ৩৩ কেভি লাইন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি আট টাকা, অফ-পিক সময়ে সাত টাকা ২০ পয়সা এবং পিক সময়ে ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাসিক ডিমান্ড চার্জ রাখা হয়েছে ৪০ টাকা। বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের জন্য ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি আট টাকা ৩০ পয়সা, অফ-পিক সময়ে সাত টাকা ৪৭ পয়সা এবং পিক সময়ে ১০ টাকা ৩৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিমান্ড চার্জ ৪০ টাকা। শিল্প গ্রাহকদের জন্য ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি আট টাকা ৫ পয়সা, অফ-পিক সময়ে সাত টাকা ২৫ পয়সা এবং পিক সময়ে ১০ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিমান্ড চার্জ ৪০ টাকা। নির্মাণ গ্রাহকদের জন্য ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা, অফ-পিক সময়ে ৯ টাকা এবং পিক সময়ে ১২ টাকা ৫০ পয়সা নিধাঁরণ করা হয়েছে। মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪০ টাকা। এর আগে উচ্চচাপ (৩৩ কেভি) ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেটে ইউনিটপ্রতি সাত টাকা ৪৯ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ছয় টাকা ৮২ পয়সা এবং পিক সময়ে নয় টাকা ৫২ পয়সা পরিশোধ করতে হতো।
অতি উচ্চচাপ বা ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি লাইন ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সাধারণ-১ (২০ মেগাওয়াট থেকে ১৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) এর ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি সাত টাকা ৯৫ পয়সা, অফ-পিকে সাত টাকা ১৬ পয়সা এবং পিক সময়ে নয় টাকা ৯৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ-২ (১৪০ মেগাওয়াটের বেশি) এর ক্ষেত্রে ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি সাত টাকা ৯০ পয়সা, অফ-পিকে সাত টাকা ১১ পয়সা এবং পিক সময়ে নয় টাকা ৮৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রে ডিমান্ড চার্জ ৪০ টাকা। এর আগে অতি উচ্চচাপ গ্রাহকদের জন্য ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি সাত টাকা ৩৫ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ছয় টাকা ৭৪ পয়সা এবং পিক সময়ে নয় টাকা ৪৭ পয়সা করে পরিশোধ করতে হতো।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও গ্রাহক শ্রেণী এবং ধাপভেদে বিদ্যুতের মূল্যহার বাড়ানো হয়েছে। সবশ্রেণীর গ্রাহকের জন্য ন্যূনতম মাশুল প্রত্যাহার করা হয়েছে। আগে গ্রাহকভেদে এটি ৮০, ১০০, ১২৫ এবং ৮০০০ টাকা নির্ধারিত ছিল। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন দরিদ্র শ্রেণীর জন্য রাখা এক থেকে ৫০ ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘণ্টা) পর্যন্ত লাইফ লাইন গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়নি। এই শ্রেণীর গ্রাহকদের কাছে বিদ্যমান দামে অর্থাৎ প্রতি ইউনিট তিন টাকা ৩৬ পয়সা থেকে তিন টাকা ৮৭ পয়সা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিক্রি হবে। অন্যদিকে আরইবি বাদে বাকি পাঁচ বিতরণকারী সংস্থা-কোম্পানির লাইফ লাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৭ পয়সা বাড়িয়ে তিন টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি তিন টাকা ৩৩ পয়সা।
সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুতের দাম গড়ে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বাড়িয়েছিল সরকার। তাতে মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের খরচ বেড়েছিল ২০ টাকা, ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে খরচ বেড়েছিল কমপক্ষে ৩০ টাকা। চলতি বছর মার্চে বিভিন্ন খাতে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের দাম বাড়ায় বিদ্যুতের দামও সমন্বয় করা প্রয়োজন। এরপর এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গত সেপ্টেম্বরে বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে শুনানির আয়োজন করে। সেখানে পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে ৬ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব আসে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT