লামায় বড়দিনের উৎসবে মেতেছে খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীরা লামায় বড়দিনের উৎসবে মেতেছে খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীরা – CTG Journal

রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার নম্বর ও সময় কমলো ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ বঙ্গবন্ধুর নামে বাংলাদেশ-উইন্ডিজ সিরিজ লামা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত খাগড়াছড়ি পৌরসভার নতুন মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছে না ক্রেতা, বিপাকে ব্যবসায়ীরা বিপুল ব্যবধানে জিতলেন ওবায়দুল কাদেরের ভাই ভ্যাকসিনে অনাগ্রহী ৪২ শতাংশ ব্রিটিশ বাংলাদেশি লামায় শান্তিপুর্ণভাবে পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন : চলছে গননা একনজরে অর্থনীতির ৫০, দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান সূর্য আমরা ‘টাকা ভাংতি নেই’ বলায় দোকান ভাংচুর, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার পিকে হালদার কাণ্ডে জড়িত ৮৩ জনের তালিকা হাইকোর্টে
লামায় বড়দিনের উৎসবে মেতেছে খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীরা

লামায় বড়দিনের উৎসবে মেতেছে খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, লামাঃ বড় দিনের উৎসবে মেতেছে বান্দরবানের লামা উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি পল্লীর খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীরা। পাপমুক্তি, মঙ্গল ও করুণা কামনা এবং বর্ণিল আয়োজনে উদ্যাপিত হয়েছে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন।

এ উপলক্ষে আগে থেকেই নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করে এ জনপদের খ্রিষ্ট বাসিন্দারা। গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে বিরাজ করে সাজ সাজ রব। একই সাথে বর্ণিল রংয়ে সাজানো হয় পল্লীর র্গীজাগুলো। ২৫ ডিসেম্বর সোমবার বড়দিন হলেও, মূলত এর আগের দিন রবিবার রাতে স্ব স্ব গীর্জায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় এ উৎসবের। এ রাতে বাড়ী বাড়ী চলে র্কীর্তন। বড়দিনের সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে গীর্জায় চলে পুজারীদের বিশেষ প্রার্থনা পর্ব। যথাযথভাবে দিনটি পালনের জন্য গীর্জাগুলোতে সরকারীভাবে আর্থিক অনুদানও প্রদান করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লামা উপজেলায় আকিরাম ত্রিপুরা পাড়া, কাঁঠালছড়া ত্রিপুরা পাড়া, গুলিস্তান মিশন পাড়া ও বমুবিলছড়িসহ ৭৫টি খ্রীষ্ট ধর্মীয় গীর্জা রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এসব গীর্জায় উপাসনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হওয়া উপাসনা চলে সোমবার বিকাল পর্যন্ত।

এদিনের শুরুতেই বিশেষ প্রার্থনায় মঙ্গলবাণী পাঠের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধি এবং জগতের সব মানুষের মঙ্গল কামনা করা হয়। এরপর একে অন্যের ঘরে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খ্রিস্ট ধর্মালম্বীরা। পাড়ার ঘরে ঘরে রান্না করা হয় সুস্বাদু খাবার। সন্ধ্যায় চার্চে আবারো উপাসনার জন্য স্ব স্ব গীর্জায় জড়ো হয় খ্রীষ্ট ধর্মালম্বীরা। সবশেষে রাতে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্তি হবে বড় দিনের।

এ অনুষ্ঠানে খ্রীষ্ট ধর্ম গ্রহনকারী ত্রিপুরাদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী নাচ-গানের আয়োজন করা হয়। খ্রীষ্টান কবরস্থানগুলোতে মোমবাতি প্রজ্বলণ করেন স্বজনরা। কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানান একে অপরকে। বড়দিন উপলক্ষে আগের দিন শিশুরা পায় বিশেষ উপহার।

বড়দিন সোমবার সকালে গজালিয়া ইউনিয়নের আকিরাম ত্রিপুরা পাড়ার ব্যপ্টিষ্টস চার্চে গিয়ে দেখা যায়, বর্নিল সাজে সাজানো হয়েছে গীর্জার ভিতর-বাহির। সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি, রয়েছে প্রতিকী গোশালা। দূর-দূরান্ত থেকে খ্রীষ্ট ধর্মালম্বী প্রায় দেড় শতাধিক সব বয়সী নারী-পুরুষ সকালে গীর্জায় উপস্থিত হয়ে প্রার্থণায় অংশ গ্রহন করে। এ উপলক্ষে পাড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা।

বাদশা চন্দ্র টমাস ত্রিপুরা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপাজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, জেলা পরিষদ সদস্য ফাতেমা পারুল ও মোস্তফা জামাল, বান্দরবান জেলা সদর আওয়ামীলীগের সভাপতি পাইনচা অং মার্মা, গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা বিশেষ অতিথি ছিলেন। পরে ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ায় অনুষ্ঠিত বড় দিন উৎসবে যোগদান করেন বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা।

এ গীর্জায় প্রার্থনায় অংশগ্রহনকারী খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী লরেন্স ত্রিপুরা বলেন, বড়দিন সবার জন্যই আনন্দের একটি দিন। যিশুর কাছে সব মানুষের জন্য শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেছি। তিনি আরও বলেন, যিশুখ্রিষ্ট এদিন জগতে আসার মধ্য দিয়ে ২৫ ডিসেম্বরকে মহৎ করেছেন বা ‘বড়’ করেছেন। ‘বড়দিন’ তাই বিশ্বাস-ভালোবাসা ও ক্ষমার চেতনায় ‘বড়’ হওয়ার দিন বলে মনে করা হয়।

বড়দিন উপলক্ষে উপজেলার সবক’টি খ্রীষ্টান পল্লীর সর্বস্থরের মানুষ ভাবগর্ম্বীর চেতনায় পালন করে। আকিরাম ত্রিপুরা পাড়া গীর্জা পালক হাসিরাম ত্রিপুরা জানান, এদিন বেথলেহেমের এক গোশালায় মাতা মেরির গর্ভ হতে ভূমিষ্ট হন যিশুখ্রিস্ট। পৃথিবীবাসীর জন্য শান্তির বাণী নিয়ে আসেন তিনি। যিশুর আগমনে পাপমুক্ত হয় বিশ্বের মানুষ। সব ধরনের পাপ-তাপ জরা থেকে বিশ্ববাসী যেন শান্তিতে থাকে, সেজন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।

এদিকে, বমু বিলছড়ি ব্যপ্টিষ্ট্স চার্চে’র পরিচালক সুভাষ ত্রিপুরা বলেন, ২০১৫ বছর আগে ২৫ ডিসেম্বর বেথলেহেমের গোয়ালঘরে যিশু খ্রিষ্টের জন্ম। জন্মের দিনটিকে বড়দিন হিসেবে উপলক্ষ করে বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়। একইভাবে বমুবিলছড়ি ব্যাপ্টিষ্টস চার্চে প্রতিবছর ব্যাপক আয়োজনে নানা অনুষ্টানের মাধ্যমে বড়দিন পালন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, উৎসবের আমেজে বড়দিন পালনের জন্য উপজেলার খ্রীষ্টান পল্লী গুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর বাড়ানো হয়। এতে পুজারীরা নিবিঘেœ দিবসটি পালন করেছেন। কোন ধরনের অপ্রিতীকর ঘটনা ঘটেনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT