শিলংয়ের তীর নামক জুয়ায় দিশেহারা রামগড় শিলংয়ের তীর নামক জুয়ায় দিশেহারা রামগড় – CTG Journal

রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
শিলংয়ের তীর নামক জুয়ায় দিশেহারা রামগড়

শিলংয়ের তীর নামক জুয়ায় দিশেহারা রামগড়

মো: নিজাম উদ্দিন, রামগড় থেকে: শিলংয়ের তীর নামক জুয়ায় নি:স্ব হতে বসেছেন হাজার হাজার পাহাড়ী বাঙ্গালী পরিবার। সম্প্রতি পুরো রামগড় উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে শিলং তীর জুয়া।

সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার সুবাধে শিলং তীর জুয়াটি রামগড়ে ব্যাপকভাবে চলছে। বাংলাদেশের সিলেটের একেবারে কাছেই অবস্থান ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ের। সিলেটের তামাবিল সীমান্ত পেরোলেই ওপারে শিলংয়ের পথ। শিলংয়ে জুয়াড়িদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় জুয়ার আসর হচ্ছে ‘তীর’। ১ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যাভিত্তিক এই জুয়া এখন মহামারি রূপে ছড়িয়ে পড়েছে রামগড় জুড়ে। শুরুতে নিদিষ্ট দু-একটি জায়গায় এ সর্বনাশা জুয়ার আসর বসলেও এখন তা লাগামহীনভাবে যেখানে সেখানে বসছে।।

গত ৫ মাস ধরে উপজেলার ১২-১৫টি স্পটে স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে জুয়াটি পরিচালিত হলেও প্রশাসন থাকছে কোন এক অজানা কারনে সম্পূর্ন নীরব। বর্তমানে আসপাশের বিভিন্ন উপজেলায়ও ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ঙ্কর এ জুয়ার আসর। তীর কাউন্টার ডট কম ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ‘শিলং তীর’র জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতের শিলং থেকে ‘শিলং তীর’ নামক জুয়া বছর কয়েক আগে সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাটে বিস্তার লাভ করে। এসব উপজেলা থেকে গত প্রায় দুই বছরে এ জুয়াটি মহামারি রূপে ছড়িয়ে পড়তে থাকে সিলেট মহানগরীসহ সারাদেশে । প্রতিটি সংখ্যায় সর্বনি¤œ ৫টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ অনির্ধারিত টাকা দিয়ে জুয়াটি খেলা যায় বিধায় অতি অল্প দিনে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে জুয়াটির প্রতি।

৫টাকায় ৪০০টাকা ১০টাকায় ৮০০টাকা এভাবে শতশত গুন লাভের আশায় জুয়াটির প্রতি হুমড়ি খেয়ে পড়ে অন্যান্য অঞ্চলের মত রামগড় পার্বত্যাঞ্চলের হাজার হাজার পাহাড়ী-বাঙ্গালী। আর অতি অল্প দিনে নিজেদের অর্থ হারিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন। অনেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার, জমিজমা ও মাসিক বেতন অগ্রিম বিক্রি করে লাভের আশায় জুয়া খেলছেন। এসব জুয়ার আসরে রিকশাচালক, দিনমজুর, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে জুয়ার নেশায় মত্ত বড় ব্যবসায়ীরাও অংশ নিচ্ছেন। হাতেগোণা কয়েকজন জুয়ার আসর থেকে হাসিমুখে ফিরলেও সিংহভাগই ফিরেন টাকা খুইয়ে।
রামগড়ের গর্জনতলী, বল্টুরাম, মাষ্টারপাড়া, নাকাপা, দাতারামপাড়া, পাতাছড়া, মধুপুর, থলিপাড়া, বৈদ্যপাড়া, লাচারীপাড়াসহ অন্তত ১২-১৫টি এজেন্ট পয়েন্ট রয়েছে শিলংয়ের। এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালীরা এজেন্টগুলি পরিচালনা করে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এসব এজেন্ট পয়েন্টে বসে জুয়ার আসর। প্রতিদিন বিকাল ৫টায় জুয়ার ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয় একটি সূত্রমতে শিলং নামক জুয়া খেলায় বাধাঁ দেওয়ায় গতমাসে পাতাছড়ার এক ইউপি সদস্য ও তার ছেলেকে বেদম মারধর করে হাসপাতালে পাঠায় উপজাতীয় জুয়াড়ীরা।

এর মধ্যেই আরেকটি চক্র অধিক মুনাফার লোভে নিজেরাই ভারতীয় শিলং’র আদলে রামগড়ে গড়ে তুলেছে নতুন আরেকটি শিলং। অসমর্থিত একটি সূত্রে জানা গেছে, একই কলাকৌশল ব্যবহার করে নাকাপাসহ কয়েকটি স্থানে তহবিল করে পরিচালনা করছেন শিলং’র জুয়া ব্যবসা। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা ছাড়াও পাহাড়ের কয়েকটি সন্ত্রাসী দল এবং স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় জুয়াটি অবাধে চলছে বলে কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়ার আসর দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও বরাবরই নিরব থাকছে স্থানিয় পুলিশ প্রশাসন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, এ থানায় আমি নতুন এসে এ ব্যাপারে অবগত হয়েই একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে শিলং তীর জুয়া খেলার কিছু আলমত জব্দ করি। জেলা মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে যথাযথ আইনি প্রদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, এসব ডিজিটাল খেলা জনসচেতনতা ছাড়া বন্ধ করা সম্ভব নয় তবে যেসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ‘শিলং তীর’ নামক জুয়া পরিচালনা করা হচ্ছে সেগুলো যদি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয়, তবে এ জুয়ার মহামারি কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব হবে।
রামগড়বাসীর দাবী, অচিরেই শিলং নামক জুয়ার লাগাম টেনে ধরা না হলে রামগড়ের জনগন পড়বে হুমকিরর মুখে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT