ফসলি জমির কথা বলে বেশি সার এনে তামাক চাষ! ফসলি জমির কথা বলে বেশি সার এনে তামাক চাষ! – CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
কাপ্তাইয়ে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উদযাপন কাজের জন্য সৌদি আরবে যেতে চাইলে চাকরিদাতার ছাড়পত্র লাগবে করোনাভাইরাস: দেশে ৩২ জন মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ১,৪৩৬ বান্দরবান সাংবাদিক ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ রায় শুনে কেঁদেছেন রিফাতের বাবা: জানালেন সন্তুষ্টি কথা চট্টগ্রামে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাবে সাড়ে ৫ লাখ শিশু খাগড়াছড়িতে ধর্ষণ রোধে পদক্ষেপ জানতে চেয়ে ডিসিকে আইনি নোটিশ বান্দরবানে এ” প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের কর্মশালা বন্যা: কুড়িগ্রামে কর্মহীনতা ও খাদ্য সংকট প্রকট রিফাত হত্যা: মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির রায় ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর কোনও ঘোষণা সৌদি সরকার দেয়নি! করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে
ফসলি জমির কথা বলে বেশি সার এনে তামাক চাষ!

ফসলি জমির কথা বলে বেশি সার এনে তামাক চাষ!

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ বান্দরবানে ধান ও রবি শস্য ফলানোর কথা বলে সরকারের কাছ থেকে সার নিয়ে তামাক চাষে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। জেলার রোয়াংছড়ি, রুমা, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িতে এ মৌসুমে রবি শস্যের জন্য ব্যবহৃত অনেক জমিতেই তামাক চাষ হয়েছে। এই তামাক চাষের সার পাওয়ার জন্য ফসলি জমির পরিমাণ আসলের চেয়ে বেশি দেখিয়ে সরকারের কাছে ভুয়া বরাদ্দ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

কৃষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বান্দরবান সদর ও থানচি এই দুই উপজেলা ছাড়া আর বাকি পাঁচ উপজেলায় আবাদী জমি বলতে গেলে নেই।আর এই এলাকায় যে পরিমাণ আবাদি জমি আছে সেগুলোতেও ধান ও রবি শস্যসহ অন্যান্য ফসল চাষের পরিমাণ কমছে। বাড়ছে তামাক চাষ।  তারা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা তামাক কোম্পানির যোগসাজশে সরকারের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা ফসলি জমি বেশি দেখিয়ে এবং ধান ও শাক-সবজি চাষের কথা বলে সরকারের কাছে সারের ভর্তুকি চাচ্ছেন। আর বরাদ্দ পাওয়ার পর অধিকাংশ সার চলে যাচ্ছে তামাকের জমিতে।

এদিকে তামাক জমিতে সার ব্যবহার করায় ডিলাররাও তামাক চাষিদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৭টি উপজেলার মধ্যে সদরে চার হাজার ২৭৪ হেক্টর, রোয়াংছড়িতে চার হাজার ৩০৫ হেক্টর, রুমায় চার হাজার ৪৫০ হেক্টর, লামায় সাত হাজার ৮৯১ হেক্টর, আলীকদমে ছয় হাজার ৩৯২ হেক্টর, থানচিতে দুই হাজার ৭৫৮ হেক্টর ও নাইক্ষ্যংছড়িতে পাঁচ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে ফসলের আবাদ হয়েছে। এ জন্য চলতি মাসে সদরে ১০০ টন ইউরিয়া, ৩৫ টন টিএসপি, ৩০ টন এমওপি ও ৩৫ টন ডিএপি সার; রোয়াংছড়িতে ৫০ টন ইউরিয়া, ২০ টন  টিএসপি, ১৪ টন এমওপি ও ১৮ টন ডিএপি সার; রুমায় ২০ টন ইউরিয়া, ৮ টিএসপি, ১২ টন এমওপি ও ৮ টন ডিএপি সার; লামায় ২৫০ টন ইউরিয়া, ১১০ টন টিএসপি, ৮০ টন এমওপি ও ৫০ টন ডিএপি সার; আলীকদমে ১০০ টন ইউরিয়া, ২৮ টন টিএসপি, ৩০ টন এমওপি ও ৫৫ টন ডিএপি সার; থানচিতে ৩০ টন ইউরিয়া, ১৫ টন টিএসপি, ১২ টন এমওপি ও ৮ টন ডিএপি সার এবং নাইক্ষ্যংছড়িতে ১১৪ টন ইউরিয়া, ২৮ টন টিএসপি, ৩৩ টন এমওপি ও ২৩ টন ডিএপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে তামাক চাষি উচমং মারমা বলেন, ‘খুচরা সার ডিলার মেসার্স মংহ্লা প্রু স্টোর থেকে ইউরিয়া সার মণ প্রতি এক হাজার ৫০ টাকা ও টিএসপি এক হাজার ৪৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।’

সরকারি সার কেন ব্যবহার করা হয় জানতে চাইলে এক কৃষক বলেন, ‘তামাক জমিতে ইউরিয়া সার দিতেই হবে। না দিলে তামাক গাছ বড় হবে না। গাছ বড় ও পাতা মোটা চওড়া হওয়ার জন্য ইউরিয়া সার অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। আর যদি তা না হয় তবে কোম্পানি আমাদের তামাক পাতা নেবে না। ফলে লোকসান গুনতে হবে।’

এ ব্যাপারে কথা বললে খুচরা সার ডিলার মেসার্স মংহ্লা প্রু স্টোরের মালিক বলেন, ‘বর্তমানে সব চাষি তামাক চাষ করেন। সব চাষিই ফসলি জমিতে দেওয়া নাম করে সারগুলো তামাক চাষে ব্যবহার করেন। কিন্তু সরকারিভাবে তামাক চাষিদের সার দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও সার বিক্রির একটা টার্গেট আছে আমাদের। তাই টার্গেট পূরণ করার জন্য আমাদের অনেকটা বাধ্য হয়েই সার বিক্রি করতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন,‘যদি দাম একটু বেশি না নেই তাহলে কৃষকরা বেশি বেশি সার কিনে তা তামাক জমিতে ব্যবহার করবেন।’

এ ব্যাপারে বান্দরবান সদরের প্রধান সার ডিলার মো. তৈয়ব চৌধুরী বলেন, ‘অফিস থেকেই মৌখিকভাবে সরকারি দামের চেয়ে একশ টাকা বেশি নিতে বলা হয়েছে। এটি শুধু সদরের জন্য। তবে উপজেলায় আরও কম নেওয়া হয়। ফলে তামাক চাষও ধীরে ধীরে কমে আসবে।’

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কৃষি অফিসের এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের এ বিষয়ে কিছুই করার নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তামাক কোম্পানির সু-সম্পর্ক রয়েছে। এখন যদি আমাদের কর্তারা অতিরিক্ত সার বান্দরবানে আনেন, তবে আমরা তা বিক্রি করতে বাধ্য হই। আমাদের ডিলাররা তামাক চাষিদের যে সার দিচ্ছেন তা সবাই জানে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ মৌসুমে এখানে প্রচুর তামাক চাষ হয়, তাই সরকারিভাবে এ মৌসুমে বান্দরবানে সরকারি সারের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া উচিত। সরকারিভাবে এ মৌসুমে বান্দরবানে সারের বরাদ্দ কমিয়ে দিলে তামাক চাষ কমে আসবে।’

এ ব্যাপারে বান্দরবান কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘বান্দরবানে কোথাও তামাক চাষিরা তামাকের জমিতে সরকারি সার ব্যবহারের খবর মিথ্যা ও বানোয়াট। তবে কৃষকের কাছ থেকে সারের দাম বেশি নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT