আপনারা আদালতের আদেশ নিয়ে খেলছেন: প্রধান বিচারপতি আপনারা আদালতের আদেশ নিয়ে খেলছেন: প্রধান বিচারপতি – CTG Journal

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
আওয়ামী লীগ কখনও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশ্বাস করে না : ডা. শাহাদাত যমুনায় দ্বিতীয় রেল সেতুর কাজ শুরু নভেম্বরে, ব্যয় বাড়লো দ্বিগুণ মিলগেটে সরবরাহ সংকট, পাইকারীতে রেডি ও ডিও ভোগ্যপণ্যের দামের বড় ফারাক! সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: জিএম কাদের হাটহাজারীতে সরকারি শিশু পরিবারের ২৫’শ বর্গফুট জমি উদ্ধার বেগমগঞ্জের একলাশপুরে বিভিন্ন বাহিনীর ৭ সদস্য আটক বাঁকখালীতে নৌকাডুবি: একজনের লাশ উদ্ধার, এখনও নিখোঁজ ১ পরীক্ষার দাবিতে চবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ ৫ দফা দাবী আদায়ে ফারিয়া’র মানববন্ধন বান্দরবানে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে দুইজন গ্রেফতার তৃতীয় শ্রেণি পাস শ্বশুরের নেতৃত্বে এসএসসি পাস জামাইয়ের ডেন্টাল ক্লিনিক প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিতের নির্দেশ
আপনারা আদালতের আদেশ নিয়ে খেলছেন: প্রধান বিচারপতি

আপনারা আদালতের আদেশ নিয়ে খেলছেন: প্রধান বিচারপতি

ভবন ভাঙতে বারবার সময় চাওয়ায় বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘ইউ আর প্লেয়িং উইথ কোর্ট অর্ডার (আপনারা আদালতের আদেশ নিয়ে খেলছেন)। এটা সো আনফরচনেট (এটা খুবই অপ্রত্যাশিত)।’
বিজিএমইএ’র ভবন ভাঙতে এক বছর সময় চেয়ে করা আবেদনের ওপর বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়।
আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকের (রাজউক) পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
শুনানির শুরুতেই বিজিএমইএ’র আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকীর উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনারা তো বারবার আসেন। আপনার নিজেরাও তো বিষয়টি নিয়ে আদালতে দাঁড়াতে দ্বিধা হওয়ার কথা। আমাদের লজ্জা লাগে। আদালতের প্রেসটিজ (সম্মান) চলে যাবে আর আপনি আপনার ক্লায়েন্টের (মক্কেলদের) জন্য আসবেন, এটা হতে পারে না। আদালতের আদেশ পালন করা কি দরকার ছিল না? সময় কতবার নিয়েছেন, এরপর আবার বলবেন (সময় চাইতে), আবার আসবেন। বারবার আসতেই থাকবেন। এ পর্যন্ত কতবার সময় চেয়েছেন?’
জবাবে আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘এ পর্যন্ত তিনবার সময় চাওয়া হয়েছে।’ তখন আদালত বলেন, ওই সময়ের মধ্যে ভবন ভাঙতে এ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
উত্তরে কামরুল হক বলেন, ‘আমরা তো স্পেস খুঁজছি। কী পদক্ষেপ নিয়েছি সেটা আবেদনে আমরা উল্লেখ করেছি।’

আদালত বলেন, ‘যে স্টেপ নিয়েছেন তাতে তো মনে হচ্ছে পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে। আবারও সময় চাইতে আসবেন।’
কামরুল হক বলেন, ‘সমস্যায় পড়লে তো আদালতে আসতে হয়। ক্লায়েন্টের জন্যই তো আমাকে সময়ের আবেদন করতে হয়। এটা তো আমার প্রফেশনাল ডিউটি (পেশাগত দায়িত্ব)।’
তখন আদালত বলেন, ‘প্রফেশনাল ডিউটি সেকেন্ডারি। প্রথম হচ্ছে আদালতের ডিউটি। আপনারা (বিজিএমইএ) খুব বুদ্ধিমান। কারণ, এক সঙ্গে কোথাও এত বড় স্পেস পাবেন না। আর তখন কোর্টে আসবেন সময়ের জন্য। এই বুদ্ধি নিয়েই তো থাকেন। বিজিএমিইএ’র অফিস কত স্কয়ার ফিট?’ কামরুল হক বলেন, ৬০ হাজার স্কয়ার ফিট। আদালত বলেন, ‘৬০ হাজারের স্কয়ার ফিটের ভবন পাবেন কোথাও? কোর্ট কি অর্ডার বাস্তবায়নের কথা বলে দেবে? কোর্ট শুধু আদেশ দেবে। আর আদেশ পালন না হলে কনটেম্পট (আদালত অবমাননার) রুল দেবে। আপনারা শেষ এক বছরে কী স্টেপ নিয়েছেন?’
জবাবে কামরুল হক বলেন, ‘১১০ কাঠা জমি আমরা পারচেস (ক্রয়) করেছি।’ তখন আদালত বলেন, ‘এভাবে তো পাঁচ বছর লাগবে। কারণ, এখনও বলছেন পাইলিং হচ্ছে। কয়দিন পর বলবেন বেজমেন্ট হচ্ছে।’ কামরুল হক বলেন, ‘না মাই লর্ড, বেশি সময় লাগবে না।’
আদালত বলেন, ‘তাহলে আপনাদের আন্ডারটেকিং (মুচলেকা) দিতে হবে যে, আর সময় চাইবেন না। এরপর আমরা বিবেচনা করতে পারি।’ তখন কামরুল হক বলেন, তাহলে সময় দেন। আদালত বলেন, ‘তাহলে নট টু ডে (আজ আদেশ নয়) রাখলাম।’
এরপর আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, কেন রাজউক এখন পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেয়নি?

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে সরকার থেকে কোনও নির্দেশনা পাইনি। আগে পেয়েছিলাম তখন রাজউকের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম।’
তখন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আদালতকে বলেন, ‘রাজউক আদালতের আদেশ পালনে প্রস্তুত আছে।’

এসময় আদালত বলেন, ‘অনেক ভবন রাতারাতি ভাঙা হয়েছে। তাদেরকে তো সময় দেওয়া হয়নি। গোলাপ শাহ মাজারের ওখানে সড়ক করা হয়েছে। তখন কি তাদের সরতে সময় দেওয়া হয়েছিল? এখানে সময় দেওয়া আনফেয়ার (অসৌজন্যমূলক)। এভাবে সময় দিলে আদালতের আর কোনও অর্ডার এক্সিকিউট (আদেশ কার্যকর) হবে না।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ করে দেন। তখন ভবন ভাঙতে কত দিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আবেদন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেন।
ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল বিজিএমইএ’র ভবনটি ভাঙতে কর্তৃপক্ষকে সাত মাস সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।
এরপরও বিজিএমইএ’র ফের আবেদন করায় গত বছরের ৩ ডিসেম্বর পুনরায় ছয় মাস সময় দেন আপিল বিভাগ।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT