৮ মে পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত ৮ মে পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত – CTG Journal

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

        English
৮ মে পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত

৮ মে পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আদালত। আজ সোমবার (১৯ মার্চ) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ অন্য আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

সোমবার সকালে নির্ধারিত সময়ে আদালত বসার পর এ মামলার আদেশ দেওয়া হয়। এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা (আপিল বিভাগের চার বিচারপতি) সর্বসম্মতিক্রমে এ আদেশ দিচ্ছি।’

এরপর আদালত খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ ২২ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের লিভ টু আপিল গ্রহণ করে আপিল শুনানির জন্য মামলার সারসংক্ষেপ (নথিপত্র) চার সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। চার সপ্তাহ পরে আপিলটি শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ থাকবে বলে জানান আদালত।

আদেশের পর আদালত তার নিয়মিত কার্যক্রম অনুসারে অন্য মামালার শুনানি শুরু করেন। এর কিছু পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতকে বলেন, ‘এ ধরনের মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল গ্রহণের নজির খুবই কম দেখেছি। সেক্ষেত্রে অর্ডার যখন দিয়েছেন, সময়টা আরও কমিয়ে আনুন।’ এরপর আপিল আদালত তাদের পূর্বের আদেশ সংশোধন করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিতের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আপিল শুনানির জন্য চার সপ্তাহের জায়গায় দুই সপ্তাহ সময় দেন এবং দুই সপ্তাহ পরে এ আপিলটি শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ থাকবে বলে জানান।

এর আগে গতকাল রবিবার সকালে খালেদা জিয়ার জামিন আদেশের পক্ষে-বিপক্ষে আপিল শুনানি হয়। পরে আদেশ ঘোষণার জন্য আজ সোমবার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

রবিবার খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এদিকে খালেদার জিয়ার জামিনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী।

এদিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন সংক্রান্ত চারটি আবেদনের শুনানি হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন খালেদা জিয়া। ওইদিন থেকেই পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন তিনি। পরে গত ১৩ মার্চ হাইকোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। কিন্তু হাইকোর্টের দেওয়া এ জামিন আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজের আদালতে আবেদন করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই দুটি আবেদনের বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন নির্ধারণ করে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ শুধুমাত্র দুদকের আইনজীবীর আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তাকে (দুদক আইনজীবীকে) লিভ টু আপিল করার নির্দেশ দেন। এ সময় দুদকের আরেক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মার্চ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করেন এবং একইদিনে (১৮ মার্চ) দুদকের লিভ টু আপিলের শুনানির দিন ধার্য করেন।
এরপর আপিল বিভাগের দেওয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে ওইদিন (১৪ মার্চ) দুপুরে চেম্বার আদালতে যান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই (প্রত্যাহার) আবেদনটি ১৮ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে দুদকের লিভ টু আপিলের সঙ্গে শুনানির দিন ধার্য করেন।
পরদিন (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দুদকের পক্ষ থেকে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। সেই সঙ্গে ওই লিভ টু আপিলে আরেকটি প্রার্থনা চায় দুদক। খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের লিভ টু আপিল শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ যেন স্থগিত থাকে সেজন্য আরেকটি পৃথক প্রার্থনা করে দুদক।

এদিকে, দুদকের পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষ থেকেও হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে এই লিভ টু আপিলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত রাখতে দুদকের মতো পৃথক আরেকটি প্রার্থনাও জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।
অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দুদক এবং রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা দুটি লিভ টু আপিল শুনানিকালে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশের ওপর যে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন তা প্রত্যাহার চেয়ে পৃথক দুটি (দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে) আবেদন করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ পেয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পর গত ১৩ মার্চ তাকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন আপিল করে। চেম্বার জজ তা খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রেখে উভয় পক্ষকে লিভ টু আপিল করার নির্দেশ দেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT