সিটি থেকে আস্থা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে যেতে চায় ইসি সিটি থেকে আস্থা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে যেতে চায় ইসি – CTG Journal

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫১ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ফের আলুর দাম নির্ধারণ করলো সরকার মানিকছড়িতে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে অর্ধলক্ষ টাকা জরিমানা ভূরাজনীতিক কারণে মিয়ানমারকে তোয়াজ করা হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাপ্তাইয়ের মৎস্যজীবীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত রায়হান হত্যার সুষ্ঠু বিচার হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী লামায় তামাকের বিকল্প হিসেবে বিনামূল্যের সবজি বীজ পেল ১৫০ কৃষক বাইশারীতে জরাজীর্ণ কালভার্টটি অভিভাবকহীন, দেখার কেউ নেই ব্যানকোভিডেই ভরসা গ্লোব বায়োটেকের দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় বাংলাদেশ কলেজ ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ১৬৬৮ কোটি টাকার চার প্রকল্প অনুমোদন করোনাভাইরাস: একদিনে প্রাণ গেল আরও ১৮ জনের, শনাক্ত ১,৩৮০
সিটি থেকে আস্থা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে যেতে চায় ইসি

সিটি থেকে আস্থা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে যেতে চায় ইসি

পাঁচ সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার পরিষদের আসন্ন নির্বাচনগুলো স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটিসহ স্থানীয় নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবার আস্থা অর্জন করেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এই লক্ষ্য অর্জনে আগামী সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মাঠপ্রশাসনকে। রবিবার (১৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দশ আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও সব জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে ভোটার তালিকার ত্রুটি সংশোধনে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয় ইসি। নির্দেশনা অমান্য বা কাজে গাফিলতি করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয় ইসি থেকে। আঞ্চলিক ও জেলা কর্মকর্তাদের নিয়ে রবিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পৃথক দুই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বৈঠকে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, সামনের সব নির্বাচন ইসির জন্য চ্যালেঞ্জ। কমিশন মানুষের যে আস্থা অর্জন করেছে, তা আরও দৃঢ় করতে সামনের নির্বাচনগুলো গ্রহণযোগ্য করতে হবে। পাশাপাশি ভোটার তালিকার ত্রুটি নিয়ে কমিশন বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে জানিয়ে তা সংশোধনে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কমিশনে সচিত্র রিপোর্ট দিতে বলা

জাতীয় সংসদের ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, সরেজমিন যাচাই ও ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত বিষয়ে ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সকালে বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। ওই বৈঠকে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। অন্যদিকে বিকালে আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ১৩৪টি সাধারণ ও উপনির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে ইসির কর্মকর্তাদের বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাসহ পাঁচ কমিশনার। দুই বৈঠকে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন ইসি কর্মকর্তারা।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে সংসদ নির্বাচনের আগে যেসব নির্বাচন রয়েছে, সেগুলোকে কমিশনের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনারা বলেছেন, ছোট নির্বাচন থেকেও বড় বিতর্কের জন্ম দেয়। এসব কারণে কোনও নির্বাচন যেন বিতর্কিত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা আরও বলেন, নির্বাচনে পুলিশ ও প্রশাসন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। কমিশন কর্মকর্তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

একজন নির্বাচন কমিশনার বৈঠকে আগামী নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা জানিয়ে বলেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিল, কেন্দ্র থেকে ফল পাঠানোর কাজেও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

সকালের সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ভোটার তালিকার ত্রুটি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আপনারা (নির্বাচন কর্মকর্তারা) এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। অন্যদের সতর্ক থাকতে বলবেন।’ তিনি বলেন, ‘১ মার্চ ভোটার দিবস পালনের প্রস্তাব রয়েছে। আমরা জুলাই থেকে হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করি। এটি আরও এগিয়ে আনা যায় কিনা এবং খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টিও এগিয়ে আনা যায় কিনা—সেটি চিন্তা করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আইন ও বিধি সংশোধন করতে হবে। তবে আইন সংশোধনের আগে নির্দিষ্ট সময়ে সঠিক ভোটার তালিকা তৈরি করতে হবে।’ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের প্রোফাইল ডাটাবেজ আরও আপডেট করতে হবে। যেন ভোটকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা জানা যায়। নতুন যেসব কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব আসবে সেগুলোর ছবিসহ প্রোফাইল তৈরি করতে হবে।’

বৈঠকের এজেন্ডায় না থাকলেও ‍দুটি বৈঠকেই ইভিএম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার হয়। ইভিএম‘র ডেমো  দেখানো হয়। এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সব জায়গায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। আমরাও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আগ্রহী। তবে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে কমিশনে আলোচনা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘কমিশনের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বিভিন্ন ডিজিটাল মেলায় ইভিএম দেখানো হবে। সামনের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ইসির আগ্রহ আছে।’

ইসি সচিব বৈঠক শেষে বলেন, ‘২৯ মার্চ বিভিন্ন জায়গায় কিছু ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয়, কমিশন সেই নির্দেশনা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংসদ ও পাঁচ সিটি করপোরেশনের ভোটার তালিকা সঠিক আছে কিনা এসব বিষয়সহ ভোটার তালিকার সিডি তৈরির বিষয়ে মতবিনিময় করেছি। জুলাইয়ের মধ্যে যে পাঁচ সিটি করপোরেশনে ভোট হবে, সেগুলোর ভোটার তালিকার সিডি যেন প্রস্তুত করা হয় এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় কোনও অসুবিধা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশনা দিয়েছি।’

ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে পরিদর্শন করে রিপোর্ট দিতে নির্দেশনা দিয়েছি। ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে কিনা, নতুন ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের দরকার হবে কিনা, তাও রিপোর্ট করতে বলেছি। তবে কোনও সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। শিগগিরই দিতে বলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পুরনো কেন্দ্র বাতিল করা যায় না। অথচ সেখানে নতুন নতুন স্কুল নির্মাণ হচ্ছে। এসব বিবেচনায় অনেকে ভোটকেন্দ্র নীতিমালা নতুন করে প্রণয়নের সুপারিশ করেছেন অনেকে। আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়নের জন্য কমিশনে সুপারিশ করবো।’

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT