বরিশাল থেকে বরগুনা ও পটুয়াখালী রুটে বাস চলাচল বন্ধ বরিশাল থেকে বরগুনা ও পটুয়াখালী রুটে বাস চলাচল বন্ধ – CTG Journal

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে নাইক্ষ্যংছড়ির দু’পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের মারমূখী অবস্থানের নিরসন করলেন দু’ইউএনও রামগড়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব বাইশারীর শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল গর্জনিয়ায় অবৈধ বসতঘর উচ্ছেদ করলো বন বিভাগ বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে পণ্য খালাসের চেষ্টা! হাজী সেলিমের ছেলে ও দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা হাজী সেলিমের ছেলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধর: হাজী সেলিমের ছেলে গ্রেপ্তার ১৯৩৮ সালেই বিচার বিভাগ আলাদা করার দাবি করেছিলেন শেরে বাংলা দেশে করোনার সংক্রমণ ৪ লাখ ছাড়াল
বরিশাল থেকে বরগুনা ও পটুয়াখালী রুটে বাস চলাচল বন্ধ

বরিশাল থেকে বরগুনা ও পটুয়াখালী রুটে বাস চলাচল বন্ধ

বরিশাল মালিক সমিতির বাস ঝালকাঠী, পিরোজপুর, বাগেরহাট এবং খুলনাসহ পশ্চিমাঞ্চলে চলাচল করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। আজ বুধবার সকাল থেকেই বরগুনা ও পটুয়াখালীর সবকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ধর্মঘটে যাওয়ার পূর্বে নেতৃবৃন্দ প্রশাসনকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। পাশাপাশি গত দুই দিন ধরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করেন তারা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘট পালন করছে তারা।

বরিশাল বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজিজুর রহমান শাহিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বরিশাল থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটে কোনো বাস চলাচল করতে দিচ্ছে না। বরং তারা বেআইনি, অযৌক্তিক এবং সড়ক আইন ও মোটরযান আইন অধ্যাদেশের রুটপারমিটের শর্ত ভঙ্গ করে বরিশাল নগরের অংশ পাড় হয়ে হাইওয়ে রাস্তার পাশে অননুমোদিত বাস টার্মিনাল তৈরি করে এককভাবে গাড়ি চালনা করছে। তাই তাদের ওই রুটগুলো থেকে বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে।

যুগ্ম সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, ঝালকাঠী বাস মালিক সমিতির স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়াও পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ উপজেলাধীন চান্দুখালী স্থানে কতিপয় চাঁদাবাজ কর্তৃক গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় ও যাত্রী হয়রানিসহ বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা মালিক সমিতির গাড়ি প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। যার ফলে একদিকে যেমন যাত্রী দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে, তেমনি বাস শ্রমিকদের আয় রোজগার বন্ধ রয়েছে। লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে বরিশালের বাস মালিকরা। তাই আমারা পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সবকটি রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রেখেছি।

বরিশাল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুলতান মাহমুদ বলেন, আমরা প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। তারা কর্ণপাত করেননি।

এখন প্রশাসন এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ৮ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। তা ব্যবহার করে বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা বাস মালিক সমিতি তাদের বাস চালিয়ে আসছে। কিন্তু সে রুটে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি বাস চালানোর দাবি জানালেও আমাদের বাস চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। আবার ঝালকাঠি জেলার বিশাল সড়ক ব্যবহার করে বরিশাল-খুলনাসহ ১০টি রুটে বাস চালাচ্ছে বরিশাল মালিক সমিতি। সেখানে আমাদের বাস চলতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কালিজিরা ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে এবং দপদপিয়া ব্রিজের জিরো পয়েন্টে আরেকটি বাস টার্মিনাল করার পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বরিশাল থেকে ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট ও খুলনার ১০ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকে। কিন্তু প্রশাসনের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি ফের ধর্মঘট শুরু হয়। ওই দিন সকাল থেকেই সরাসরি ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনার, পাথরঘাটা, মঠবাড়ীয়া, ভান্ডারিয়া, রাজাপুর, নলছিটি, মোল্লারহাট ও খুলনা রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মূলত চলতি বছরের ২ জানুয়ারি বিকেলে বিভাগীয় কমিশনারের আহ্বানে ডাকা সৃষ্ট দ্বন্দ্বের সমঝোতা বৈঠকে রূপাতলী বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত না হওয়ায় এ ধর্মঘটের ডাক দেয় ঝালকাঠী বাস মালিক সমিতি। এর পর প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে ২২ জানুয়ারি ৫ ঘণ্টা চলাচল করলেও সকাল ১০টা থেকে ফের নেতৃবৃন্দদের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে বরিশাল থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফরকে ঘিরে গত ২৪ জানুয়ারি থেকে প্রশাসনের আশ্বাসে আবারও বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও বরিশাল থেকে সরাসরি বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই থেকেই ধর্মঘট চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT