বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে স্পষ্ট হচ্ছে কানাডার চিকিৎসা ব্যবস্থার বৈষম্য বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে স্পষ্ট হচ্ছে কানাডার চিকিৎসা ব্যবস্থার বৈষম্য – CTG Journal

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
আকবরশাহ’তে ছুরি চাপাতিসহ ২ যুবক গ্রেফতার ফেনীতে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১ মানিকছড়ি পূজামন্ডবে দুশতাধিক গরীব দুঃস্থর মাঝে বস্ত্র বিতরণ নিম্নচাপ উপকূল অতিক্রম করেছে, সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে ফাঁদে ফেলে ১৩ বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি পেল ৩২৪ শিক্ষার্থী সংকটাপন্ন অবস্থাতেই ব্যারিস্টার রফিক উল হক সাজেক মসজিদ-রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের একটি জনবান্ধব প্রকল্প ডায়াবেটিস আক্রান্তদের করোনার ঝুঁকি! সিনহা হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে: র‌্যাব ডিজি হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ নিরাপদে আছেন সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকরা
বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে স্পষ্ট হচ্ছে কানাডার চিকিৎসা ব্যবস্থার বৈষম্য

বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে স্পষ্ট হচ্ছে কানাডার চিকিৎসা ব্যবস্থার বৈষম্য

নিজেদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে সম্প্রতি অনলাইনে আন্দোলন শুরু করেছেন কানাডার কুইবেক প্রদেশের কিছু চিকিৎসক। বিষয়টি বিশ্বজুড়ে বেশ আলোড়ন তুললে সামনে চলে এসেছে সেখানকার চিকিৎসকদের সঙ্গে নার্সসহ অন্যান্য অফিস সহকারীদের বেতন ও সুযোগ সুবিধার বৈষম্যের বিষয়টি। একই সঙ্গে রোগীদের সেবার ব্যাপারে সরকারের নীতি ও স্বাস্থ্য সেবার মানের অবনতির চিত্রও ফুটে উঠেছে এই ঘটনায়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে এমিলি রিচার্ড নামে কানাডার কুইবেক প্রদেশের এক নার্স ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। অশ্রুসিক্ত চোখের একটি ছবিসহ ওই পোস্টে তিনি জানান, টানা নাইট ডিউটির কারণে তিনি শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। তাকে একাই ৭০ জনের বেশি রোগীর দেখাশোনা করতে হয়। তিনি এতই চাপের মধ্যে রয়েছেন যে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে সফল দাবি করা কুইবেকের সমালোচনা করে এমিলি রিচার্ড লিখেছেন, ‘আমি জানি না আপনি এসব তথ্য কোথায় পান। কিন্তু এটাই নার্সদের আসল চেহারা’। তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি আমার পেশাকে নষ্ট করে ফেলেছি। আমি যে নিম্নমানের সেবা দিচ্ছি তার জন্য লজ্জিত। আমার নিজের স্বাস্থ্যই এখন রুগ্ন হয়ে মৃত্যুর দিকে যাচ্ছি।’ রিচার্ডের ওই পোস্ট ৫৫ হাজারবারের বেশি শেয়ার হয়েছে।

কুইবেকের একটি নার্সেস ইউনিয়নও কয়েক মাস ধরে রাজ্যে নার্স সংকটের কথা জানিয়ে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়া একজন নার্স কতজন রোগীর দেখাশোনা করবেন সে বিষয়ে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা ক্রমবর্ধমান হারে অতিরিক্ত কাজ করছে। এছাড়া নার্সরা সম্প্রতি বেশ কয়েক বার তাদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নের জন্য আন্দোলন করেছেন।

এরই মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে কুইবেকের চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ ফেডারেশন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রদেশের ১০ হাজার চিকিৎসকের বেতন এক দশমিক চার শতাংশ বৃদ্ধি করে। এতে তাদের পেছনে সরকারের বর্তমান ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলারে। কানাডার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজের খবরে বলা হয়, এখন কুইবেকের প্রত্যেক চিকিৎসকের বার্ষিক আয় গড়ে প্রায় চার লাখ ৩ হাজার ৫৩৭ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ তিন কোটি ৩৬ লাখ ১২ হাজার টাকারও বেশি।

নার্সসহ অন্যান্য অফিস সহকারী পদে লোকবল নিয়োগ না দেওয়াসহ সুযোগ-সুবিধা না বাড়ানোয় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসকদের এই বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদ শুরু হয়। আর তার করেন খোদ চিকিৎসকরাই। স্বাস্থ্যখাতে এই পরিস্থিতিতে নিজেদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিকে বরং অপমানজনক হিসেবেই দেখছেন তারা। কুইবেক ডক্টরস ফর দ্য পাবলিক রিজাইম নামে কুইবেক চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি সংগঠন একটি অনলাইন আবেদন কর্মসূচি চালু করেন। গত বুধবারের মধ্যে তাতে চিকিৎসক, স্থানীয় বাসিন্দা ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীসহ ৭শ’ জনের বেশি স্বাক্ষর করেছেন। ওই আবেদনে তারা চিকিৎসকদের বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে বাড়তি অর্থ নার্সসহ অন্য অফিস কর্মীদের পেছনে ও জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যয় করার আহ্বান জানান।

ফরাসি ভাষায় এক লিখিত ওই আবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমরা চিকিৎসকরা শক্তিশালী সরকারি পদ্ধতিতে বিশ্বাস করি। তবে সম্প্রতি আমাদের বেতন বৃদ্ধির ঘটনার প্রতিবাদ জানাই এবং এ বিষয়ে আমাদের মেডিক্যাল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানাচ্ছি।

ওই আবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমাদের নার্স, করণিক এবং অন্য পেশাজীবীরা খুবই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। ঠিক তখন এই বেতন বাড়ানোর বিষয় বেদনাদায়ক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা কেন্দ্রীয়করণ এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাজেট কাটছাঁটের কারণে যখন আমাদের রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবাহীন থাকছে, তখন তাদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি অপমানজনক।’এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা কুইবেকের চিকিৎসকরা শক্তিশালী সরকারি পদ্ধতিতে বিশ্বাস করি। তবে সম্প্রতি আমাদের মেডিক্যাল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সমঝোতা করে বেতন বাড়ানোর ঘটনার প্রতিবাদ জানাই।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের খবরে বলা হয়েছে, বেতন বাড়ানোর প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি কানাডীয় চিকিৎসক, চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ, স্থানীয় বাসিন্দা ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা তাদের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ নার্সদের জন্য পুনর্বরাদ্দ এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে তাগিদ দিয়েছেন।

এই প্রতিবাদের একজন সংগঠক ও ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইসাবেলে লেবলাঙ্ক মার্কিন সংবাদমাধ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, আবেদনকারীদের মধ্যে ২১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছেন। তারপরও কানাডার কুইবেকের চিকিৎসকের সংখ্যার তুলনায় এ সংখ্যা খুবই কম। কানাডিয় মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, প্রদেশটিতে ২০ হাজার ২৫৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন।

ইসাবেলে বলেন, ব্যবস্থাটি পরিবর্তন করতে হবে। চিকিৎসক ও হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থা চলছে। তিনি বলেন, নার্সরা সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অসম্ভব কার্যপদ্ধতির কথা বলেছেন তাতেই তারা এই কর্মসূচি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। তাদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আলোচনা আনার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের টাকার অভাব নেই কিন্তু ভালভাবে বরাদ্দ করতে হবে’।

গত মাসেই কুইবেকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাররেত্তে বলেছেন যদি চিকিৎসকরা চায় তাহলে বরাদ্দকৃত অর্থ অন্যখাতে ব্যয় করা হবে। তিনি নার্সদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত বেতন দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন না তিনি। মন্ট্রিলে সাংবাদিকদের কাছে বাররেত্তে বলেন, ‘আমরা নার্সদের কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। আমার কাছে চিকিৎসক ও তাদের বেতনের চেয়ে এই বিষয়টি এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT