মানবতাবিরোধী অপরাধ: জামায়াতের সাবেক এমপিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন মানবতাবিরোধী অপরাধ: জামায়াতের সাবেক এমপিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন – CTG Journal

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৮ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
যেকোনও হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের অভিযানে ২শ লিটার মদসহ আটক ১ ইরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে আরও ৪ মামলা রামু-গর্জনিয়ায় পুলিশের সাথে ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় লাখ টাকায় প্রতিদিন লাভ ১৩০০! গ্রেফতার ৩ প্রকল্পের বিরুদ্ধে মামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী বান্দরবান হবে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ জেলা- পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর কাপ্তাইয়ে বজ্রপাত প্রতিরোধে ৫ হাজার তালবীজ রোপণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক কোভিড-১৯: দেশে একদিনে আরও ২০ জনের মৃত্যু সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুস্থদের জন্য কাজ করছে বিজিবি লোগাং জোন বিজিবি লোগাং জোন সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুস্থদের জন্য কাজ করছে নুরসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ১২ নভেম্বর
মানবতাবিরোধী অপরাধ: জামায়াতের সাবেক এমপিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

মানবতাবিরোধী অপরাধ: জামায়াতের সাবেক এমপিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক মণ্ডল ওরফে জল্লাদ খালেকসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য ১৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

এই চার আসামির মধ্যে খালেক মণ্ডল কারাগারে আছেন। আসামি আব্দুল্লাহ হেল বাকি শর্ত সাপেক্ষে জামিনে রয়েছেন। অন্য দুই আসামি  খান রোকনুজ্জামান ও জহিরুল ইসলাম ওরফে টেক্কা খান এখনও পলাতক আছেন।

সোমবার (৫ মার্চ) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। অন্যদিকে, আসামি খালেক মণ্ডলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন ও আসামি আব্দুল্লাহ হেল বাকির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। এছাড়া, পলাতক দুই আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।

এর আগে গত বছরের ১৯ মার্চ এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ছয় জনকে হত্যা, দুই জনকে ধর্ষণ ও ১৪ জনকে শারিরীক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

২০১৫ সালের ১৬ জুন ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খলিল নগর মহিলা মাদ্রাসায় নাশকতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে গোপন বৈঠকের অভিযোগে আব্দুল খালেক মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ওই বছরের ২৫ আগস্ট খালেক মণ্ডলের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলার মধ্যে শহীদ মোস্তফা গাজীকে হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখান ট্রাইব্যুনাল।

শিমুলবাড়িয়া গ্রামের রুস্তম আলীসহ পাঁচ জনকে হত্যার অভিযোগে ২০০৯ সালের ২ জুলাই খালেক মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন শহীদ রুস্তম আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম গাজী।

এ মামলার চার আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়।একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ মোট ৬০ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দেবেন।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি চার জনের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে ৮ মার্চ অন্য তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জা‌রি করেন ট্রাইব্যুনাল।

এরপর ১৭ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর ইউনিয়নের বুলারাটী গ্রামের বা‌ড়ি থেকে আব্দুল্লাহ হেল বাকিকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯ মার্চ ট্রাইবুনালের হাজির করা হলে ঢাকায় থাকা ও ধার্য দিনে হাজিরের শর্তে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আব্দুর রউফের হেফাজতে ১০৩ বছর বয়স্ক বাকিকে জামিন দেওয়া হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সাত অভিযোগের প্রথমটিতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে বেতনা নদীর পাড়ে বুধহাটা খেয়াঘাটে আফতাবউদ্দিন ও সিরাজুল ইসলামকে রাজাকার কমান্ডার ইছাহাক (মৃত) ও তার সহযোগীরা গুলি করে হত্যা করে। পরে স্থানীয় খলিলুর রহমান,মো. ইমাম বারী, মো. মুজিবর রহমান ও ইমদাদুল হককে ডায়মন্ড হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের পহেলা ভাদ্র ধুলিহর বাজার থেকে ধরে কমরউদ্দিন ঢালীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যায় ১০/১২ জন রাজাকার সদস্য। তাদের নেতৃত্বে ছিল সাতক্ষীরা মহকুমার রাজাকার কমান্ডার এম আব্দুল্লাহ আল বাকি ও খান রোকনুজ্জামান। পরে ঢালীর মৃতদেহ পাওয়া যায় বেতনা নদীর পাড়ে।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের পহেলা ভাদ্র বুধবার বেলা তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে রাজাকার কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল  বাকি, রোকনুজ্জামান খানসহ চার-পাঁচ জন মিলে সবদার আলী সরদারকে চোখ বেঁধে পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। পরে আর সবদার আলীর সন্ধান মেলেনি।
চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, সোহেল উদ্দিন সানা তার বড় ছেলে আব্দুল জলিল সানাকে সঙ্গে নিয়ে পহেলা ভাদ্র বুধহাটা বাজার অতিক্রমের সময় রাজাকার কমান্ডার ইছাহাক (মৃত) ও তার সঙ্গী রাজাকারদের হাতে আটক হন। পরে তাদের ডায়মন্ড হোটেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এরপর থেকে সোহেল ও সানা’র সন্ধান মেলেনি।
পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ৭ আষাঢ় সকাল সাতটার দিকে আবুল হোসেন ও তার ভাই গোলাম হোসেন নিজেদের বাড়ির পাশে হালচাষ করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে গোলাম হোসেন বাড়িতে নাস্তা খেতে এলে আসামি আব্দুল খালেক মণ্ডল ও জহিরুল ইসলাম টেক্কা খানসহ ১০/১২ জন রাজাকার সদস্য তাকে ধরে নিয়ে পাশের পাটক্ষেতে গুলি করে হত্যা করে।
ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২ ভাদ্র সকালে বাশদহ বাজারের ওয়াপদা মোড় থেকে মো. বছির আহমেদকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের পর তার বুড়ো আঙ্গুলের রগ কেটে দেয় রাজাকার বাহিনীর সদস‌্যরা।

সপ্তম অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের জ্যেষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি কোনও এক সময়ে আসামি আব্দুল খালেক মণ্ডল ও রাজাকার কমান্ডার জহিরুল ইসলাম টেক্কা খান একদল পাকিস্তানি সৈন্যকে সঙ্গে নিয়ে কাথণ্ডা প্রাইমারি স্কুলে স্থানীয় গ্রামবাসীদের ডেকে মিটিং করে। সেই মিটিংয়ে বলা হয়, যারা আওয়ামী লীগ করেন এবং যারা মুক্তিযুদ্ধে গেছেন তারা ‘কাফের’। এরপর তারা কাথণ্ডা ও বৈকারি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি-ঘর লুট করে জ্বালিয়ে দেয়। সে সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দুই সদস্য মৃত গোলাম রহমানের স্ত্রী আমিরুনকে তার বাড়ির রান্নাঘরের পেছনে আটকে ধর্ষণ করে। এছাড়া বৈকারি গ্রামের ছফুরা খাতুনকে মৃত শরীয়তউল্লাহর ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে চার পাকিস্তানি সৈন্য।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT