প্রশ্নফাঁস: পাঠক প্রতিক্রিয়া ‘এত পাবলিক পরীক্ষার প্রয়োজন নেই’ প্রশ্নফাঁস: পাঠক প্রতিক্রিয়া ‘এত পাবলিক পরীক্ষার প্রয়োজন নেই’ – CTG Journal

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাড়ি নির্মাণের অভিজ্ঞতা নিতে ১৬ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের প্রস্তাব করোনাকালে চলছে কোচিং সেন্টার, বন্ধ করল প্রশাসন করোনার পরও লটারিতে ভর্তি চলবে: শিক্ষামন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর উদ্যোগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সি.আর.এম উদ্বোধন সাংবাদিক কনক সারওয়ার ও ইলিয়াসসহ ৩৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব প্রায় ৭ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাচ্ছে বাংলাদেশ লামা সদর ইউনিয়ন আ.লীগের নতুন সভাপতি জহির, সম্পাদক ক্যাম্রাচিং ও সাংগঠনিক মানিক বড়ুয়া করোনায় একদিনে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব করোনায় আক্রান্ত কেডিএস আক্রোশ থেকে এক অসহায় পরিবারের বাঁচার আকুতি সিঙ্গাপুরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেফতার পিছিয়ে যাচ্ছে ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা
প্রশ্নফাঁস: পাঠক প্রতিক্রিয়া ‘এত পাবলিক পরীক্ষার প্রয়োজন নেই’

প্রশ্নফাঁস: পাঠক প্রতিক্রিয়া ‘এত পাবলিক পরীক্ষার প্রয়োজন নেই’

জাতির গলার ফাঁস হয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্নফাঁস। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী হতে পারে, সেটা জানতে পাঠকদের কাছে পরামর্শ চেয়েছিল প্রথম আলো ফেসবুক। অনেক পাঠক আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের কিছু মতামত তুলে ধরা হলো।

প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনাগ্রহকে দায়ী করেছেন অনেক পাঠক। মামুন রশিদ লিখেছেন, ‘প্রশ্নফাঁসের জন্য শিক্ষামন্ত্রী অনেকটাই দায়ী। প্রশ্রয় পেয়েই প্রশ্নফাঁসকারীরা আজ এত দূর। এখন প্রশ্নফাঁস একটা মামুলি ব্যাপার। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রশ্ন বেচাকেনা হচ্ছে। অথচ প্রশাসন এ ব্যাপারে নীরব।’

ইমরান সামাদ লিখেছেন, ‘খুবই দুঃখের বিষয়, যখন দেখতে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গত তিন বছরের প্রশ্ন বানানো হয়েছিল যেখানে, সেখানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ছিল না। আর সেই সুযোগে অবাধেই কর্মচারীরা প্রশ্ন ফাঁস করেছিল। সরষেখেত থেকে ভূত না তাড়ালে প্রশ্নফাঁস কোনোভাবেই বন্ধ করা সম্ভব না।’ তাঁর পরামর্শ, ‘বুয়েট, ব্র্যাক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এখন প্রশ্নফাঁস রোধের জন্য বিভিন্ন ডিভাইসচালিত বক্স বানিয়েছে। এ থেকে কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস করা সম্ভব না। আর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সেই বক্স খোলা সম্ভব না। সরকারের উচিত সেগুলো ব্যবহার করা। তাহলে প্রশ্নফাঁস সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব।’

কোনো কোনো পাঠক ব্যক্ত করেছেন হতাশা। ওমর ফারুক বলছেন, ‘পরীক্ষার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। অন্তত পরীক্ষাটা বন্ধ হলে শিক্ষিত বেকার নামক শব্দটা থাকবে না। তাতে করে নিজের আত্মাটাকেও শান্তি দেওয়া যাবে। এমনিতেও দলীয় লোক ছাড়া চাকরি পায় না। ব্যবসা করার লাইসেন্স পায় না।’

শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁস করার কথা স্বীকার করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। ইমরানুল হক লিখেছেন, ‘প্রশ্নফাঁস যে হচ্ছে, এটা শিক্ষামন্ত্রী তাহলে বিশ্বাস করেছেন। আগে তো বলতেন এটা সাজেশন। প্রশ্নফাঁসে যারা জড়িত, তাদের ফাঁসি দেওয়া হোক। এটা জাতির সঙ্গে চরম বেইমানি করার শামিল। পাকিস্তানিরা আমাদের পুরো জাতিকে ধ্বংস করতে পারেনি। কিন্তু এই হীন চক্রান্ত আমাদের শেষ করে দেবে। আমাদের যে সম্মান, সেটা বিলীন হতে আর দেরি নেই, যদি এভাবে চলতে থাকে!’

প্রশ্নফাঁসের জন্য শুধু শিক্ষকদের দোষারোপ করা কোনো সমাধান হতে পারে না, বলছেন কেউ কেউ। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করেন অনেকেই। মো. মনিরুজ্জামান লিখেছেন, ‘মানলাম, শিক্ষকেরা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু কয়জন শিক্ষক শাস্তি পেয়েছেন? যেসব শিক্ষক প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন হয় না। এর অর্থ কী? সরকার সব জেনেও না জানার ভান করে! যারা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং সরকারকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। একতরফাভাবে শিক্ষকদের দোষারোপ করলে অন্য যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা আরও উৎসাহিত হবে।’

নুরুল্লাহ আশরাফী লিখেছেন, ‘যারা প্রশ্নফাঁস করে, তারা যদি ছাত্র হয়, তবে তাদের সকল সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে, আর যদি কর্মকর্তা ও শিক্ষক জড়িত থাকে, তবে তাদের চাকরি বাতিল করতে হবে। এই রকম কঠিন পদক্ষেপ নিলে অসাধু মানুষেরা প্রশ্ন ফাঁস করতে সাহস পাবে না।’

কয়েকটি পর্যায়ে বোর্ড পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন জোবাইদা খানম, মো. সাজু ও আকাশ চৌধুরী। মো. সাজু লিখেছেন, ‘সবার আগে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো বাদ দিতে হবে! আমরা যাদের উন্নত বিশ্ব বলে জানি, সে দেশগুলোতে কোথাও এতগুলো পাবলিক পরীক্ষা নেই! তাই আগে পরীক্ষার সংখ্যা কমানো দরকার।’

এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছেন অনেক পাঠক। সাব্বির আহমেদ লিখেছেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলেই এগুলো বন্ধ করতে পারবে না! আগে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সদিচ্ছা দরকার। শিক্ষার্থীর পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক জ্ঞানই যদি অসৎ উপায়ে সাফল্য অর্জনে উৎসাহিত করে, সে ক্ষেত্রে শুধু পরীক্ষা নয়, সব ব্যাপারেই তারা অসৎ পথ বেছে নেবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT