৮ মাসে ৩৪ কোটি টাকার সোনা জব্দ, মূল হোতারা অধরা - CTG Journal ৮ মাসে ৩৪ কোটি টাকার সোনা জব্দ, মূল হোতারা অধরা - CTG Journal

রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্তরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন: আইইডিসিআর করোনা চিকিৎসায় ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করুন: জাফরুল্লাহ হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল ৭ দিনের রিমান্ডে মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাউল কালোবাজারে! নিন্মমানের পচা ও র্দুগন্ধযুক্ত সিদ্ধ চাউল বিতরণে ক্ষোভ ২১২টি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ বেড নিয়ে চালু হলো দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল এলোমেলো হেফাজত, এখনই ‘কর্মসূচি নয়’ ২৪ ঘণ্টায় ১০২ মৃত্যুর রেকর্ড হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব রিমান্ডে করোনা পজিটিভ হওয়ার একদিনের মধ্যেই কারাবন্দির মৃত্যু যেভাবে গ্রেফতার হলেন মামুনুল হক ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন দেয়া হতে পারে নাক দিয়ে! শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের দায় মালিকপক্ষ এড়াতে পারে না: সুজন
৮ মাসে ৩৪ কোটি টাকার সোনা জব্দ, মূল হোতারা অধরা

৮ মাসে ৩৪ কোটি টাকার সোনা জব্দ, মূল হোতারা অধরা

গোপন সংবাদ ছিল বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে বড় একটি সোনার চালান নিয়ে আসছে চোরাকারবারীরা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৮ ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাতে তল্লাশি চালান কাস্টমস কর্মকর্তারা। তল্লাশিকালে ওই উড়োজাহাজের দুটি সিটের কুশনের নিচে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ১৫০টি সোনার বার পাওয়া যায়।
ওই দিন সোনার বার জব্দ করা হলেও কে বা কারা এই বারগুলো দুবাই থেকে নিয়ে এসেছেন সেটি এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি কাস্টমস কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর কাস্টমসের উপ-কমিশনার রোকসানা খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ঘটনায় পতেঙ্গা মডেল থানায় জিডি করা হয়েছে। সোনার বারগুলো কে বা কারা নিয়ে এসেছেন, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে।’

শুধু এই চালানই নয়, চলতি অর্থ বছরের গত ৮ মাসে ৩৩ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬২ টাকার সোনার বার জব্দ করে বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এসব সোনার বার আটকের অধিকাংশ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। পরিত্যক্ত অবস্থায় বারগুলো পাওয়া যায় বলে এসব ঘটনায় মূল হোতারা বরাবরই থেকে গেছেন অধরা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সোনার চোরাচালান বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থান করে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছেন গডফাদাররা। এ কারণে মাঝে মধ্যে চোরাচালানসহ বাহক বা জড়িতরা আটক হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের উপ-কমিশনার বাবুল ইকবাল বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাহক বা জড়িতদের আটক করা হয়। শুধু যেসব সোনার বার পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ক্ষেত্রে মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকে।’

তবে বেশ কিছু ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিমান বন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের গত ৮ মাসে ৬০ কেজি ৩৭৩ গ্রাম অঘোষিত সোনার বার আটক করা হয়। এর মধ্যে জুলাই ও আগস্ট মাসে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় ওই দুই মাসে কোনও সোনার বার আটক করা হয়নি। বাকি ৬ মাসেই এসব সোনার বার উদ্ধার করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসে বিমান চলাচল চালু হয়। এর পর ওই মাসে ৬৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা সমমূল্যের এক কেজি ১৭৩ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়। এর মধ্যে চারটি সোনার বার, ২৪টি সোনার অলঙ্কার ও তিনটি রূপান্তরিত সোনার পাত আটক করা হয়।

এরপর অক্টোবর মাসে চোরাচালান হঠাৎ বেড়ে যায়। ওই মাসে ১৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৬২ টাকা সমমূল্যের ৩০ কেজি ৮০৩ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ২৬৩টি সোনার বার ও ৩১ সোনার অলঙ্কার আটক করা হয়। নভেম্বর মাসে ৩ কোটি টাকা সমমূল্যের ৫ কেজি ৮৩৩ গ্রাম সোনা আটক করা হয়। এর মধ্যে ৪৯টি সোনার বার ও ৬টি অলঙ্কার রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে এক কোটি ৬২ লাখ টাকা সমমূল্যের ৩ কেজি ১৪২ গ্রাম সোনা আটক করা হয়। এর মধ্যে ২৬টি সোনার বার ও ২০টি অলঙ্কার আটক করা হয়।

জানুয়ারি মাসে ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা সমমূল্যের ৪৭টি সোনার বার আটক করা হয়। যার ওজন আনুমানিক ৫ হাজার ৪৯৯ গ্রাম। সর্বশেষ চলতি মাসের ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৬৬টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ১৫০টি সোনার বার আটক করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

উদ্ধার এসব সোনার বারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় চালানটি আটক করা হয় গত ১৫ অক্টোবর। ওইদিন দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের ৩টি সিটের নিচ থেকে সাড়ে ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১৬০ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয়। যার ওজন ছিল ১৮ কেজি। বৈশ্বিক মহামারি করোনার অচলাবস্থা কেটে ওঠার পর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয় বড় চালান। বিমানের পেছনের দিকের তিনটি সিটের নিচ থেকে পাওয়া যায় কালো টেপ মোড়ানো অবস্থায় ৮টি প্যাকেটে এগুলো রাখা ছিল।

এ ঘটনায় ওইদিন মামলা দায়ের করা হলেও পরিত্যক্ত অবস্থায় সোনার বারগুলো উদ্ধার হওয়ায় কাউকে আটক করতে পারেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর আগে একই মাসের ১ অক্টোবর দুবাই ফেরত এক যাত্রীর শরীর তল্লাশি করে ৮২টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় এনামুল হক নামের ওই যাত্রীকে আটক করা হলেও এই ঘটনায়ও মূল হোতারা থেকে যায় অধরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT