মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
২০১৮ সালে চার হাজার ৬৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

২০১৮ সালে চার হাজার ৬৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ ২০১৮ সালে চার হাজার ৬৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে ক্রয় চুক্তি সই করেছে। এ বছর গ্রীষ্মে লোডশেডিং বেশি হওয়ায় আগামী বছর বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব কেন্দ্রের বেশিরভাগই তরল জ্বালানি-নির্ভর হওয়ায় উৎপাদন খরচ তথা বিদ্যুতের দাম বেশি পড়বে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৭ সালের তুলনায় আগামী বছর প্রায় চারগুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে উৎপাদনে এসেছে সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে এক হাজার ১৮৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে ‍যুক্ত হয়েছে।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে সরকার বছরভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা করেছিল, সেখানে ২০১৮ সালে নতুন করে দুই হাজার ২৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কথা বলা হয়। এর মধ্যে সরকারিভাবে এক হাজার ৪৪৯ এবং বেসরকারিভাবে ৮০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হয়েছিল। তবে গত গ্রীষ্মের লোডশেডিং পরিস্থিতি দেখে উৎপাদন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এজন্য ২৪টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ২০১৭ সালে চুক্তি করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালে উৎপাদনে আসবে ১৩টি।

তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, সবশেষ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সময় বলেছিল পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে এক টাকা ৯ পয়সা লোকসান করছে। সরকার এই লোকসানের অর্থ ভর্তুকি হিসেবে পিডিবিকে দেবে। এরপর তরল জ্বালানিনির্ভর কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়বে। কোনও কারণে সরকার ভর্তুকি দিতে না চাইলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিকল্প থাকবে না।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, ২০১৮ সালে যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে তার মধ্যে ৯টি সরকারি ব্যবস্থাপনার। এতে মোট উৎপাদন হবে এক হাজার ৬৫৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্র গ্যাসভিত্তিক, তিনটি দ্বৈত জ্বালানি (ডিজেল অথবা গ্যাস দিয়ে চালানো হবে), একটি কয়লা, একটি সৌর এবং একটি ফার্নেস অয়েল দিয়ে পরিচালিত হবে।

বাকি ১৫টি কেন্দ্র স্থাপন করবে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। যার ক্ষমতা এক হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট। এই কেন্দ্রগুলো বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এরমধ্যে সাতটি তেলচালিত, একটি গ্যাস, চারটি সৌর, তিনটি দ্বৈত জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্র (গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকায় এসব কেন্দ্র মূলত তেল দিয়ে চালানো হবে)। এই বাইরে দরপত্র প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আছে বেসরকারি খাতের আরও ৯০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এগুলোর সবই হবে তেলচালিত।

এছাড়া, ভারত থেকে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার জন্য ভেড়ামারায় ব্যাক টু ব্যাক সাবস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। সাবস্টেশনটির নির্মাণকাজ শেষ হলেই এ বিদ্যুত আমদানি শুরু করা সম্ভব হবে। ভারতের বেসরকারি খাত থেকে এ বিদ্যুত কিনে আনা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা বলছে, ২০১৮ সালে উৎপাদনে আসার পরিকল্পনায় থাকা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৬টি আসবে জানুয়ারি মাসে। বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঘোড়াশাল ৩৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৩ শতাংশ। পিডিবির অধীনে চীনের কোম্পানি সিএমসি কেন্দ্রটি স্থাপন করছে। গ্যাসভিত্তিক এ কেন্দ্রটি স্থাপনে ২০১৩ সালের ২৯ মে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে কাজ করছে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক (গ্যাস অথবা ডিজেল) বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৮৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির কাজ ৯৩ ভাগ শেষ হয়েছে। ইজিসিবির অধীনে কেন্দ্রটি স্থাপনে কাজ করছে স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি। গ্যাসভিত্তিক এ কেন্দ্রটি স্থাপনে ২০১২ সালের ২৮ মে চুক্তি হয়।

এর বাইরে ভেড়ামারা ৩৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি এরইমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। এ কেন্দ্রটি নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির অধীনে মারুবিনি করপোরেশন স্থাপন করছে। এটিও দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক।

বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের কমলাঘাট ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটিও পরীক্ষামূলকভাব চালু হয়েছে। কেন্দ্রটি স্থাপন করেছে বেনকো এনার্জি। ফার্নেস অয়েলভিত্তিক এ কেন্দ্র স্থাপনে ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর চুক্তি সই হয়। কুশিয়ারা ১৬৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ। গ্যাসভিত্তিক এ কেন্দ্র স্থাপন করবে কুশিয়ারা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘দেশের ‍উন্নয়নে বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এই চাহিদা পূরণে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারাবাহিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।’

বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চার হাজার ৬৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ২০১৯ সালে চার হাজার ৮৩৩, ২০২০ সালে চার হাজার ৭২, ২০২১ সালে তিন হাজার ৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, চাহিদা বৃদ্ধিরও একটি তালিকা করা হয়েছে। সে হিসেবে, ২০১৮ সালে বিদ্যুতের চাহিদা হবে ১৩ হাজার ২৬০ মেগাওয়াট, ২০১৯ সালে ১৫ হাজার ৪১, ২০২০ সালে ১৭ হাজার ১৫ মেগাওয়াট এবং ২০২১ সালে ১৯ হাজার ৩৪ মেগাওয়াট।

পিডিবির হিসেবে, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে সাড়ে আট হাজার মেগাওয়াটের মতো। তবে শীতকালে তা কমে দাঁড়ায় সাত হাজার ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াটের মধ্যে। তার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় একই সমান।

এ বিষয়ে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, প্রতিবছর লোকসানের দোহাই দিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েই চলেছে সরকার। বিইআরসির মতো প্রতিষ্ঠান প্রহসনের শুনানি করছে আর দায় চাপাচ্ছে জনগণের ঘাড়ে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেজন্য সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ আনা প্রয়োজন। তড়িঘড়ি করে ছোট ছোট তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। ফলে সরকার আবার দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা শুরু করবে।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT