১২৪৪টি মামলা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের, লোকবল সংকটে নিষ্পত্তি কম - CTG Journal ১২৪৪টি মামলা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের, লোকবল সংকটে নিষ্পত্তি কম - CTG Journal

রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

        English
১২৪৪টি মামলা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের, লোকবল সংকটে নিষ্পত্তি কম

১২৪৪টি মামলা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের, লোকবল সংকটে নিষ্পত্তি কম

ফয়’স লেকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মালিকানাধীন জায়গায় একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক নির্মাণে কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে রেলওয়ে ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয় ২০০৫ সালে। চুক্তির একাধিক শর্ত ভঙ্গ এবং ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ব্যয় নিয়ে জটিলতায় ২০১৭ সালে সেটি বাতিল করে রেলওয়ে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উচ্চ আদালতে দুটি রিট পিটিশন দায়ের করে কনকর্ড। তবে মামলা দুটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘ইজারার চুক্তি বাতিল করায় কনকর্ড ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতে দুটি রিট পিটিশন দায়ের করেছে। এগুলো এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।’

শুধু ফয়’স লেকের এই দুটি মামলা নয়- ভূমি, নিয়োগ জটিলতাসহ নানা কারণে দায়ের হওয়া এক হাজার ২৪৪টি মামলা বর্তমানে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ মামলা ভূমি বিরোধ নিয়ে দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন কর্মকর্তা। এসব মামলার অধিকাংশ স্বাভাবিক গতিতে নিষ্পত্তি হয় না। চলতে থাকে বছরের পর বছর।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আইন দফতর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষ মোট এক হাজার ২৪৪টি মামলা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে ৪৮টি, ঢাকার উচ্চ আদালতে ৪৭৮টি, জজ কোর্টে বিচারাধীন আছে ৬৭১টি এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আছে ৪৭টি। এই এক হাজার ২৪৪টি মামলার মধ্যে গত জানুয়ারি মাসেই দায়ের করা হয়েছে ১২টি।

এভাবে প্রতি মাসে নতুন নতুন মামলা দায়ের হলেও এর বিপরীতে মামলার নিষ্পত্তি খুব একটা হচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মামলার জট। গত জানুয়ারি মাসেই নতুন করে যোগ হয়েছে আরও ১২টি মামলা। এর বিপরীতে ওই মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র একটি মামলা।

মামলা নিষ্পত্তির হার কম হওয়ার পেছনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আইন দফতরে জনবল সংকট, মামলা পরিচালনা ব্যয় কমসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছেন প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য সবসময় আদালতে পড়ে থাকতে হয়। এর জন্য জনবল দরকার, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আইন দফতরে ওই পরিমাণ জনবল নেই। নিয়ম অনুযায়ী যেসব পদে লোকবল থাকার কথা গত কয়েক বছর ধরে সেইসব পদেও কোনও লোকবল নেই। আদালত পরিদর্শকের ৩টি পদে গত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে কেউ নেই। নথিগুলো ঠিক করার জন্য প্রধান সহকারী নেই। রেকর্ড সহকারীর (আরএস) পদেও গত ৬/৭ বছর কেউ নেই।

তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মামলা পরিচালনার জন্য আমরা অবাধ টাকা খরচ করতে পারি না। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে মামলা পরিচারলনায় নিজেদের ইচ্ছেমতো টাকা খরচ করতে পারে। একটি মামলার জন্য তারা দুই তিন লাখ টাকাও খরচ করেন। এসব কারণেও অনেক সময় মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়। যে কারণে মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT