মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
স্থলপথে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সাত প্রকল্পের কাজ শুরু

স্থলপথে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সাত প্রকল্পের কাজ শুরু

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ স্থলপথে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে সাতটি প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এগুলো হলো—বিলোনিয়া, ধানুয়া-কামালপুর, গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী, শেওলা,  ভোমরা,  রামগড়,   বেনাপোল স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। এই সাত প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া আরও এক হাজার ৬৮৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার নতুন পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সরকার যে প্রকল্পগুলো গ্রহণ করেছে, এর মধ্যে তিনটি প্রকল্প এখনও অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিলোনিয়া স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, ৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প ও  ৬৭ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে গোবড়াকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। এ ছাড়া স্থলবন্দরে এক হাজার ৩২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে হেভি স্টেকইয়ার্ড, খালি ট্রাক ও আমদানি করা চেসিস রাখার জন্য আলাদা টার্মিনালসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের প্রাক-উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। একই স্থলবন্দরে ১৮১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে বেনাপোলে কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল নির্মাণের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর আওতায় ইতোমধ্যে ৬৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তামাবিল স্থলবন্দর উন্নয়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় বেনাপোল ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। বেনাপোলে একটি আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ও একটি আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। এটি গত জুনে তা উদ্বোধন করা হয়। বিশ্বব্যাংক ও সরকারের নিজস্ব অর্থে শেওলা, ভোমরা, রামগড় স্থলবন্দরের অবকাঠামো ও বেনাপোল স্থলবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ৬৩০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বাল্লা স্থলবন্দর উন্নয়নে অনুমোদন পাওয়া ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এ ছাড়া ঢাকায় বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণে সাড়ে ৩৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারের হাতে নেওয়া সোনাহাট স্থলবন্দর উন্নয়নের জন্য ৩৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের জুনে শেষ হবে। স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি কাজে সহায়তার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ উন্নয়ন, পণ্য হ্যান্ডলিং ও সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুবিধাজনক ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে দক্ষ ও সাশ্রয়ী সেবা দিতে চায় বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ। আমদানি-রফতানি গতিশীল রাখতে গত ১ আগস্ট থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে। এই স্থলবন্দরে নজরদারি ক্যামেরা বসানোর কাজও শুরু হয়ে গেছে। একইসঙ্গে নেওয়া হয়েছে এ বন্দরের কার্যক্রম অটোমেশনের উদ্যোগ।

বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ভারত, নেপাল ও ভুটানকে ট্রানজিট সুবিধা দিলে অথবা মোটরযান চুক্তির আওতায় আগামীতে স্থলপথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে। বাড়বে সম্পর্ক। একইসঙ্গে সরকারি রাজস্বের পরিমাণও বাড়বে। স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান জানিয়েছেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে সব স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ ও স্থলবন্দরগুলোকে আধুনিকায়নের জন্য কর্মকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

প্রতিবেদনে জানানে হয়েছে, গত ২০৫-০৬-থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত এই ১০ বছরের মধ্যখানে ২ অর্থবছর ছাড়া দেশের স্থলবন্দরগুলোয় আয়ও বেড়েছে। যা অতীতের আয়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।

প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য মতে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় ছিল ৩৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, ব্যয় ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ মুনাফা করেছে ১৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আর সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সংস্থাটির আয় ছিল ১১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, ব্যয় ৫৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আর মুনাফা ছিল ৫৮ কোটি তিন লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০০৭-০৮ অর্থবছর সাত লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে লাভ ছিল মাত্র এক কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে ১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা লাভ করেছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় ২৩টি স্থলবন্দর রয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির জমির পরিমাণ ২৬১ দশমিক ৭৩৭২ একর। বন্দরগুলোয় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা সাত হাজারের বেশি। ১৭ বছর আগে ২০০১ সালের জুনে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। যা নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT