বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
সিলেট বিএনপি-জোটের বিরোধ ছড়াবে রাজধানীতেও!

সিলেট বিএনপি-জোটের বিরোধ ছড়াবে রাজধানীতেও!

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সিলেট জেলার বিরোধের রেশ রাজধানীতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন জোটের স্থানীয় নেতারা। তারা বলছেন, এই জেলার দু’টি আসনকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী শরিক জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসের সঙ্গে বিএনপির আঞ্চলিক ও কেন্দ্রের সম্পর্কের ওঠা-নামার বিষয়টি নির্ভর করছে। এ কারণে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, বিরোধের মাত্রা ততই প্রকাশ্যে চলে আসবে বলেও মনে করছেন তারা।

সিলেট জেলায় ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে,  সিলেট-৬ আসনে জেলা (দক্ষিণ) জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ও সিলেট-২ আসনে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি দলীয়ভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

দল দু’টির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই দুইআসনে প্রার্থিতার বিষয়ে ‘নো রিটার্নস পয়েন্ট’-এ থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জোটগত নির্বাচনের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ‘ওপেন’ প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা হতে পারে জোটে। যদিও এখনই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার পক্ষে নয় বিএনপির শীর্ষমহল। সিলেট বিএনপি ও কেন্দ্রের সিলেট বিভাগীয় দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষ্য—কোনোভাবেই সিলেট-২ ও সিলেট-৬ আসনটি তারা ছাড়তে রাজি নন।

যুক্তি হিসেবে সিলেট জেলার নেতারা বলছেন, সিলেট-২ আসনটি বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর। এই আসন থেকে তার স্ত্রী, দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহমিনা রশীদ লুনার প্রার্থিতাই চূড়ান্ত। ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে আসনটিকে কেন্দ্র করে সারা দেশেই নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও আবেগের হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে, তাহমিনা রশীদ লুনা প্রার্থী হলেই নির্বাচনে জয়ী হবেন বলে অনেক নেতাই দাবি করেন।

জোটের শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইলিয়াস আলীকে কেন্দ্র করে আবেগ থাকলেও বাস্তবতা হলো, সারা দেশে কয়েকটি জায়গায় খেলাফত মজলিসের অবস্থানও শক্ত। এরমধ্যে অন্যতম সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসামানীনগর ও বালাগঞ্জ আংশিক) আসনটি। এই আসনে দলীয় প্রার্থী মুনতাসির আলী’র রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ। বিশেষ করে, চার দলীয় জোট গঠিত হওয়ার পর রাজপথে ছাত্র মজলিসের সভাপতি হিসেবে হাবিবুন নবী সোহেল। জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন তিনি। গ্রেফতার-রিমান্ডের ঘটনার শিকার হয়েছেন মুনতাসির আলী।

মুনতাসির আলীর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, জোট থেকে মনোনয়ন না দিলেও ভোট করবেন তিনি। এক্ষেত্রে জোটের তরফে আসনটিকে ওপেন রাখতে হবে। খেলাফত মজলিসের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, এই আসন নিয়ে জোটের শীর্ষপর্যায়ে না বসলে কেন্দ্রীয়ভাবেও বিরোধ ছড়িয়ে পড়বে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, এর রেশ তত বাড়বে বলেও সতর্ক করেন সিলেট জেলা মজলিসে সিনিয়র একনেতা।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লুনা ও মুনতাসিরকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে মুনতাসির আলীকে প্রার্থী হিসেবে দেখলেও বিএনপির সমর্থন প্রয়োজন হবে বলে জানান।

তবে খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক মনে করেন, তিনি নিজেই জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে এই জটিলতার সমাধান করবেন। তার ভাষ্য, ‘ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রশীদ লুনা’র প্রতি দেশে-বিদেশে নেতাকর্মীদের আবেগ আছে। তাকে সবাই সংসদে দেখতে চায়।’

মাওলানা ইসহাক সিলেট-২ আসনের জটিলতা ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই, লুনাকে শুধু এমপি নয়, মন্ত্রীও করা হোক। আবার আমি মুনতাসির আলীকেও এমপি হিসেবে চাই।’ এক্ষেত্রে মুহাম্মদ ইসহাক নিজে সমাধান করবেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলোচনা করে।

মাওলানা ইসহাক বলেন, ‘আমি দলের চেয়ারম্যানকে বলব, লুনাকে সংরক্ষিত আসন থেকে সংসদ সদস্য করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী করা হোক। এরশাদ সরকারের সময় রাজিয়া ফয়েজ সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন। তার সঙ্গে ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল আমার। এই মন্ত্রণালয়ে লুনাও ভালো করবেন।’

জোটের এই শীর্ষনেতা জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি এই আসনের সমস্যা কাটিয়ে দিতে পারব আশা করি। অন্যদিকে, মুনতাসিরকে জোট থেকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদে আনা হোক।’

সিলেট ৬ নম্বর আসনটিতে প্রার্থী হতে চান জেলা শাখা দক্ষিণের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। ১৪ ডিসেম্বর সিলেট নগরীতে নিজের কার্যালয়ে বসে এ প্রতিবেদককে জানান, তাকে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী চায় দল। এ জন্য কাজও করছেন তিনি। বিয়ানীবাজার উপজেলা ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, জেলা সভাপতি আবদুল কাহের শামীম, ট্রাভেলস ব্যবসায়ী মৌলবি রশীদ আহমদ।

সিলেট ২০ দলীয় জোটের সূত্রগুলো জানায়, জেলার ৬ নম্বর আসটিকে কেন্দ্র করে জটিলতা হবে জামায়াতের সঙ্গে। দলটির দক্ষিণ জেলা শাখার আমির হাবিবুর রহমান এই আসন থেকে একবার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। পাশাপাশি সিলেট সদর আসন থেকে ইনাম আহমেদ চৌধুরী মনোনয়ন না পেলে ৬ আসন থেকে পেতে পারেন। আর জেলা বিএনপি সভাপতি আবদুল কাহের শামীমও এই আসন থেকে প্রার্থী হতে চান। যদিও তার দাবি,  ‘জোটই এই আসন থেকে প্রার্থী ঠিক করবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিলেট বিভাগীয় দায়িত্বশীল নেতারা এখনই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, জটিলতাপূর্ণ আসনগুলো নিয়ে জোটের শীর্ষপর্যায় থেকে আলোচনা হবে।

একই মন্তব্য করলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের এখনও একবছর বাকি। এখনই চূড়ান্ত কথা জানানোর সময় হয়নি।’ তবে যেখানে ছোটখাটো ভুল আছে, সেগুলো আলোচনা করলেই সেরে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT