সাড়ে পাঁচ মাসে ১৪ ছবি, উঠে আসেনি একটিরও বিনিয়োগকৃত অর্থ - CTG Journal সাড়ে পাঁচ মাসে ১৪ ছবি, উঠে আসেনি একটিরও বিনিয়োগকৃত অর্থ - CTG Journal

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
দিনে সাইকেল চুরি, রাতে ইয়াবা বিক্রি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তিন পরামর্শ ১৯ দিনে জামিনে মুক্ত ৩৩ হাজার কারাবন্দি ফেসবুক কি শুনতে পায়, কীভাবে নজরদারি করে? পানছড়িতে ভেস্তে যাচ্ছে এলজিইডি’র ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার তীর রক্ষা প্রকল্প: মরে যাচ্ছে ঘাস, তীরে ধরেছে ফাটল খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে বিস্মিত কূটনীতিকরা বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় কাপ্তাইয়ে বিএনপির দোয়া ও ইফতার মাহফিল চৈতন্য গলির জুয়ার আস্তানায় পুলিশের হানা, আটক ১৪ সীমান্ত এলাকায় ব্যাপকহারে করোনা টেস্টের নির্দেশ রাউজানে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
সাড়ে পাঁচ মাসে ১৪ ছবি, উঠে আসেনি একটিরও বিনিয়োগকৃত অর্থ

সাড়ে পাঁচ মাসে ১৪ ছবি, উঠে আসেনি একটিরও বিনিয়োগকৃত অর্থ

গত বছরের সাধারণ ছুটির আগে চালু ছিল প্রায় দেড়শ সিনেমা হল। কিন্তু গত বছর করোনা মহামারি কাটিয়ে সিনেমা হল চালুর অনুমতি পেলেও হল খুলেছিল চালু থাকা হলের অর্ধেকেরও কম। তাছাড়া শর্ত ছিল, সিনেমা হলের অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখতে হবে এবং মানতে হবে স্বাস্থ্য বিধি।

গত বছরের সাধারণ ছুটি আর এ বছরের লকডাউন দু’য়ের মাঝে দেশের সিনেমা হল খোলার সুযোগ ছিল মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস। এই সাড়ে পাঁচ মাসে সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ১৪টি সিনেমা। কিন্তু একটি সিনেমারও বিনিয়োগ করা টাকা উঠে আসেনি। ১৪টি সিনেমার মধ্যে স্বল্প বাজেটের সিনেমা যেমন মুক্তি পেয়েছে, তেমনি বড় বাজেটের সিনেমাও ছিল। এমনকি অনুদানের সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।

অবশ্য টাকা উঠে না আসার পেছনে করোনার পাশাপাশি বড় কারণ- হলের স্বল্পতা বলে জানিয়েছেন বেশিরভাগ পরিচালক। কমতে থাকা সিনেমা হলের মধ্যে গত বছরের সাধারণ ছুটির আগে চালু ছিল প্রায় দেড়শ সিনেমা হল। কিন্তু গত বছর করোনা মহামারি কাটিয়ে সিনেমা হল চালুর অনুমতি পেলেও হল খুলেছিল চালু থাকা হলের অর্ধেকেরও কম। তাছাড়া শর্ত ছিলো, সিনেমা হলের অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখতে হবে এবং মানতে হবে স্বাস্থ্য বিধি। কিন্তু এসব করেও হলে ফেরানো যায়নি দর্শকদের। দর্শকহীন সিনেমা হলে তাই যথারীতি চলেনি নতুন সিনেমা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা মহামারি সামাল দিয়ে গত বছরের ১৬ অক্টোবর সিনেমা হল খোলার অনুমতি দেয় সরকার। ওইদিন মুক্তি পায় আলোচিত অভিনেতা হিরো আলম অভিনীত ও প্রযোজিত সিনেমা ‘সাহসী হিরো আলম’। ছবিটি বেশ কিছু সিনেমা হলে মুক্তি পেলেও দর্শক টানতে পারেনি। তাই সিনেমা হল সচল রাখার স্বার্থে বেশিরভাগ হলে চালানো হয় পুরোনো সিনেমা এবং লকডাউনের আগে মুক্তি পাওয়া শাকিব খান অভিনীত ‘শাহেনশাহ’ ছবিটি। এদিকে ২৩ অক্টোবর মুক্তি দেওয়া হয় মাসুদ হাসান উজ্জল পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘উনপঞ্চাশ বাতাস’। ছবিটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের সিনেপ্লেক্সগুলোতে বেশ ব্যবসা করে বলে জানান উজ্জল। 

তিনি বলেন, ‘ক্ষতির মুখোমুখি হবো এটা ভেবেই আমরা সিনেমাটি মুক্তি দেই। তবুও প্রথম মাস খুব ভালো চলেছে সিনেমাটি। কিন্তু তারপর থমকে যায়। সিনেমাটার নির্মাণ করতে আমাদের যে খরচ হয়েছে সেটা এখনও উঠে আসেনি। তবে আমাদের ডিজিটাল ও টেলিভিশন স্বত্ব এখনও বিক্রি করা হয়নি। সেটা হলে হয়ত ব্রেক ইভেনে পৌঁছতে পারি।’   

‘উনপঞ্চাশ বাতাসের’ পর প্রায় এক মাস নতুন কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি।  তারপর মুক্তি পায় কমল সরকার পরিচালত ‘রংবাজি – দ্য লাফাঙ্গা’ ও ফেরদৌস খান পরিচালিত ‘বায়োগ্রাফি অফ নজরুল’ সিনেমাটি। কিন্তু এগুলো হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমা হলে চলেছে। যা টাকা উঠে আসার জন্য যথেষ্ট নয় বলে জানা গেছে।  

এদিকে ১১ ডিসেম্বর মুক্তি পায় বহুল কাঙ্খিত সিনেমা ‘বিশ্বসুন্দরী’। নাট্য নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর প্রথম সিনেমা এটি। একই সঙ্গে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স এরও প্রথম সিনেমা। ছবিতে অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ও অভিনেত্রী পরিমনি। ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে বাড়তি আগ্রহ ছিল। এ কারণে ছবিটি সিনেপ্লেক্স গুলোতে চলেছেও অনেকদিন। 

পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে চলেছে সিনেমাটি। তবে বিনিয়োগ করা টাকা উঠে এসেছে কিনা এখনও নিশ্চিত নন তিনি। তিনি বলেন, ‘সিনেমাটি নির্মাণ করতে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সার্বিক অবস্থায় এখন হল থেকে এত টাকা উঠে আসার কথা নয়। তবে কাছাকাছি হয়েছে বলে জেনেছি।’ 

কিন্তু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স এর নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ‘সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হয়েছে শুধু প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য। ব্যবসা একদমই হয়নি। এখন তো সিনেমা চলার কথা নয়। এই অবস্থায় কি দর্শক হলে যায়?’

একই দিনে মুক্তি পায় সরকারী অনুদানে নির্মিত তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘রূপসা নদীর বাঁকে’ ছবিটি। তবে হাতে গোনা দুই-তিনিট হলে।  

এরপর পুরো ডিসেম্বরে আর কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। জানুয়ারীতে মু্ক্তি পায় শাহীন সুমন পরিচালিত ‘পাগলের মতো ভালোবাসি’ চলচ্চিত্র। আসিফ নুর ও অধরা খান অভিনীত এই ছবিটিও খুব বেশি ব্যবসা করতে পারে না। অল্প কিছু সংখ্যক হলে প্রথম এক সপ্তাহ চলেছে। যা দিয়ে সিনেমের অর্ধেক টাকাও উঠে আসেনি। 

এদিকে ফেব্রুয়ারি মাসে ভালোবাসা দিবস ও বসন্তের মতো উৎসব থাকলেও সেসব উৎসব নতুন কোনো চলচ্চিত্র দিয়ে রঙিন হয়নি। পুরো ফেব্রুয়ারি মাসে কোন ছবি মুক্তি না পেলেও মার্চে মুক্তি পেয়েছে  ছয়টি ছবি। এগুলো হলো- দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘এই তুমি সেই তুমি’, অরন্য পলাশের পরিচালিত ‘গন্তব্য’, সরকারি অনুদানে নির্মিত হাবিবুর রহমান পরিচালিত ‘অলাতচক্র’, তৌকির আহমেদ পরিচালিত ‘স্ফুলিঙ্গ’, সরকারি অনুদানের নির্মিত নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘যৌবতী কন্যার মন’ এবং শাহরিয়ার নাজিম জয়ের ‘প্রিয় কমলা’।  

‘গন্তব্য’ সিনেমার তিনজন প্রযোজকের একজন অভিনেত্রী এলিনা শাম্মী জানান, ‘সিনেমাটি অনেকদিন আটকে ছিল। এ কারণে মুক্তি দেওয়া। ছবিটির পেছনে তার বিনিয়োগ করা প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার একটি টাকাও উঠে আসেনি। বাকি আরও দুজন প্রযোজকের অবস্থাও একইরকম’।  

এরমধ্যে ২৬ মার্চ মুক্তি পাওয়া তৌকির আহমেদের ‘স্ফুলিঙ্গ’ নিয়ে দর্শকের বাড়তি আগ্রহ ছিল। করোনা পরবর্তী সময়ে মুক্তি পাওয়া পরীমনি অভিনীত দ্বিতীয় ছবি এটি। কিন্তু সেভাবে দর্শকের আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি। অবশ্য এই সময় সিনেমার পরিবেশ নেই বলে জানিয়েছেন পরিচালক তৌকির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সিনেমা নিয়ে আসলে বলার কিছুই নেই। পরিস্থিতি পরিবেশ সিনেমার অনুকূলে নেই। সবাই জানে ও বোঝে।’ ছবি: নূর-এ-আলম

নতুন করে লকডাউন দেওয়ার তিনদিন আগে অর্থাৎ ২ এপ্রিল মুক্তি পায় ‘টু্ঙ্গী পাড়ার মিয়াভাই’ নামে একটি সিনেমা। শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন দিঘি ও শান্ত খান। ছবিটি তেমন ব্যবসা করতে পারেনি। যদিও লকডাউন হলেও সিনেমা হল বন্ধ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না। কিন্তু দর্শক সমাগম ছিল না একদমই।

করোনা পরবর্তী সময়ে সিনেমার বাজার নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু। তিনি বলেন, ‘সিনেমার বাজারে সবচেয়ে বড় শত্রু তো এখন করোনা। সারা বিশ্বে এটি থাবা মেরেছে। এটি ছাড়াও আমাদের দেশের বিপণন ব্যবস্থা খুব খারাপ। ১ কোটি টাকা দিয়ে সিনেমা বানালে পুরোটাই ক্ষতি হয়। স্বাভাবিকভাবে করোনার মাঝে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলি লস করেছে। যতদূর শুনেছি ‘উনপঞ্চাশ বাতাস’ ও ‘বিশ্বসুন্দরী’ একটু ব্যবসা করেছে।’ 

মুক্তি পেয়েছে ছয়টি ওয়েব ফিল্ম

গত সাড়ে পাঁচ মাসে ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছে ছয়টি সিনেমা। এরমধ্যে গত ডিসেম্বরে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা শাকিব খানের ‘নবাব এলএলবি’ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে আই থিয়েটার নামে একটি ওটিটি প্লাটফর্ম। এ ছাড়া অনম বিশ্বাসের ‘ডব্লিউটিএফ’ মুক্তি পেয়েছে জি ফাইভ-এ। হৈচৈ এর জন্য ‘কষ্ট নীড়’ বানিয়েছেন আশফাক নিপুন।

সিনেমাটিক নামে একটি দেশী অ্যাপে মুক্তি পেয়েছে রায়হান রাফি পরিচালিত ‘জানোয়ার’ ও সঞ্জয় সমাদ্দার পরিচালিত ‘ট্রল’ নামে দুটি ওয়েব ফিল্ম। আর লক ডাউনের আগে আগে জি ফাইভে মুক্তি পেয়েছে ‘যদি কিন্তু তবুও’ নামে একটি চলচ্চিত্র। 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে  সিনেমাটিক অ্যাপের ডিরেক্টর তামজিদ অতুল জানান, ‘জানোয়ার’ ও ‘ট্রল’ দর্শকেরা পছন্দ করেছেন। বিনিয়োগ করা অর্থও উঠে এসেছে’। সাবস্ক্রাইব করে দর্শকেরা এখনও ছবিগুলো দেখছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাপ সংশ্লিষ্টরা। 

সবমিলিয়ে গত সাড়ে পাঁচ মাস সিনেমার জন্য ভালো সময় ছিল না। সামনে কি হবে সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা সিনেমার সুদিন আসুক।  
 
যেসব ছবি মুক্তি পেয়েছে

সাহসী হিরো আলম-মুকুল নেত্রবাদী
উনপঞ্চাশ বাতাস-মাসুদ হাসান উজ্জল
রংবাজি – দ্য লাফাঙ্গা- কমল সরকার
বায়োগ্রাফি অফ নজরুল-ফেরদৌস খান

ডিসেম্বর

বিশ্ব সুন্দরী –চয়নিকা চৌধুরী
রূপসা নদীর বাঁকে-তানভীর মোকাম্মেল   

জানুয়ারি

পাগলের মতো ভালোবাসি- শাহিন সুমন

মার্চ

এই তুমি সেই তুমি দেলোয়ার জাহান ঝন্ডু
গন্তব্য – অরন্য পলাশ
অলাতচক্র- হাবিবুর রহমান
স্ফুলিঙ্গ- তৌকির আহমেদ
যৈবতী কন্যার মন- নারগিস আক্তার
প্রিয় কমলা-শাহরিয়ার নাজিম জয়

এপ্রিল

টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই-সেলিম খান
 
ওটিটি

২০২০ ডিসেম্বর

নবাব এলএলবি-অনন্য মামুন-আই থিয়েটার  

২০২১ জানুয়ারি

ডব্লিউটিএফ- অনম বিশ্বাস- জি ফাইভ
কষ্টনীড়-আশফাক নিপুন- হৈ চৈ
জানোয়ার-রায়হান রাফি-সিনেমাটিক
ট্রল-সঞ্জয় সমাদ্দার-সিনেমাটিক

২০২১ এপ্রিল

যদি কিন্তু তবুও-শিহাব শাহীন- জি ফাইভ

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT