সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় ৪ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা - CTG Journal সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় ৪ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা - CTG Journal

রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১৮ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
মামুনুল গ্রেপ্তারের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার থানচিতে আফিমসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক করোনায় আক্রান্তরা দ্রুত মারা যাচ্ছেন: আইইডিসিআর করোনা চিকিৎসায় ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করুন: জাফরুল্লাহ হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল ৭ দিনের রিমান্ডে মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাউল কালোবাজারে! নিন্মমানের পচা ও র্দুগন্ধযুক্ত সিদ্ধ চাউল বিতরণে ক্ষোভ ২১২টি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ বেড নিয়ে চালু হলো দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল এলোমেলো হেফাজত, এখনই ‘কর্মসূচি নয়’ ২৪ ঘণ্টায় ১০২ মৃত্যুর রেকর্ড হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব রিমান্ডে করোনা পজিটিভ হওয়ার একদিনের মধ্যেই কারাবন্দির মৃত্যু যেভাবে গ্রেফতার হলেন মামুনুল হক
সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় ৪ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা

সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় ৪ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফরিদপুরের সালথায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও থানায় তাণ্ডবের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে তাণ্ডবের ঘটনায় মিরান মোল্যা (৩৫) নামে আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের দরজাপুরুরা গ্রামের আব্দুর রব মোল্যার ছেলে। বুধবার দুপুরে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাওয়াল ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকুজ্জামান ফকির মিয়া। এর আগে এ ঘটনায় জুবায়ের হোসেন (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়। মোট দুই যুবকের মৃত্যু হলো এই সহিংসতায়।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, উপজেলা পরিষদ ভবন,ভূমি অফিস,মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও  থানা এলাকায় তাণ্ডবের ঘটনায় ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,মামলার এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের গোপালিয়া গ্রামের ক্বারী ইনছুর শেখের ছেলে মো.নুরু শেখ (১৮), বিনোকদিয়া গ্রামের করিম কাজীর ছেলে মো.সজিব কাজী (১৯), ইউসুফদিয়া গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বরের ছেলে রাব্বি মাতুব্বর (১৯), মিনাজদিয়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে মো. ইউনুস মাতুব্বর (৬০), ও গোপালিয়া গ্রামের সালাম মোল্যার ছেলে আমির মোল্যা (৩০)।

অন্যরা হলেন,ফুকরা গ্রামের সুলতান শেখের ছেলে আবুল কালাম শেখ (৩৫), রিপন শেখ (৩২), ইসরাইল মোল্যার ছেলে ইলিয়াস মোল্যা (২৭), চিলারকান্দা গ্রামের খালেক শেখের ছেলে শহিদুল শেখ (৩২),পিসনাইল গ্রামের ঝিলু ফকিরের ছেলে মো. রুবেল ফকির (২৫), সোনাপুর গ্রামের মিজানুর শেখের ছেলে মো. রাকিবুল ইসলাম (১৮) ও বিনোকদিয়া গ্রামের আয়ুব মোল্যার ছেলে মো.সাইফুল ইসলাম (১৮)।     

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানিয়েছেন,সালথার তাণ্ডবের ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের দুটি কমিটি করা হয়েছে। এর একটি প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. তাসলিমা আলীকে, অপর কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো.আসলাম মোল্যাকে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই দুই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ ঘটনায় এলাকার অবস্থা এখনও থমথমে। উপজেলা পরিষদজুড়ে এখন শুধুই ক্ষত-বিক্ষত চিহ্ন। উপজেলা সদরের বাতাসে পোড়া গন্ধ,ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা কাচ আর আসবাবপত্রের টুকরা। মানুষের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। টানা তিন ঘণ্টা তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড উপজেলা পরিষদ এলাকা। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ,র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম আলী বলেন,সোমবার রাতে চালানো তাণ্ডবের ঘটনা এখনও চোখে ভাসছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন,সালথা দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা হলেও এমন ঘটনা কখনো ঘটতে দেখিনি। এই ধরনের ভয়াবহ তাণ্ডব প্রথম দেখল সালথাবাসী। এ কারণে সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

উল্লেখ্য,গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউনের কার্যকারিতা পরিদর্শনে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি। এ সময় সহকারী কমিশনারের গাড়ি থেকে নেমে কয়েক ব্যক্তি বাজারে উপস্থিত কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা পুলিশের গুলিতে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে ও স্থানীয় হেফাজত নেতা মাওলানা আকরাম আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এমন গুজব ছড়ালে আশপাশের গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে এসে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও থানায় তাণ্ডব চালায়। মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলাকারীরা  সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১ পর্যন্ত ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।তাদের এই হামলায় রক্ষা পায়নি উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছপালা ও বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল। এতে সালথা উপজেলা সদর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তাণ্ডব চলাকালে ইউএনও-এসিল্যান্ডের দুটি সরকারি গাড়ি পুড়িয়ে দেয় তারা। এছাড়াও তিনটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫৮৮ রাউন্ড শট গানের গুলি,৩২ রাউন্ড গ্যাস গান,২২টি সাউন্ড গ্রেনেড এবং ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছোঁড়ে।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT