শিক্ষা উপমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা: টাকাসহ গ্রেফতার ২ - CTG Journal শিক্ষা উপমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা: টাকাসহ গ্রেফতার ২ - CTG Journal

শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
ফেসবুকে নেতিবাচক মন্তব্য, ১০ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ বাজেটে নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তার প্রস্তাব ডিসিসিআই ও বিসিআইয়ের শিশু অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর: হাইকোর্ট প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী মানিকছড়িতে ইউসিসিএ লি. চেয়ারম্যানকে বিদায় ও বরণ করে নিলেন উপজেলা পরিষদ টিকা নিয়েছেন ৩৫ লাখ ৮১ হাজার মানুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর প্রাকপ্রস্তুতি জানতে চেয়েছে সরকার যেসব ইউনিয়নে ১১ এপ্রিল ভোট কলিমুল্লাহ’র বক্তব্য রুচি বিবর্জিত: শিক্ষা মন্ত্রণালয় করোনার টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী কারাগারে কয়েদিকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা, পিবিআই’কে তদন্তের নির্দেশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিললো তিন কোটি টাকার ‘আইস’
শিক্ষা উপমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা: টাকাসহ গ্রেফতার ২

শিক্ষা উপমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা: টাকাসহ গ্রেফতার ২

শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রতারণার অভিযোগে এক নারীর দায়ের করা মামলায় সোমবার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঢাকায় ইয়াবাসহ গ্রেফতারকৃত এক আসামিকে ছাড়িয়ে আনার নাম করে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

গ্রেফতার দুই আসামি হলেন- ফটিকছড়ি উপজেলার রোসাংগিরি গ্রামের মো. তাহের উদ্দিন সিদ্দিকীর ছেলে মো. শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী প্রকাশ রিহান শিহাব (২৬) ও কুমিল্লার মুরাদনগর থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মঈনউদ্দিন আহমেদের ছেলে মো. সোলায়মান (৪১)। এদের মধ্যে রিহান বর্তমানে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন অক্সিজেন পাঠানপাড়া এলাকায় থাকেন। অন্যজন হোটেল গোল্ডেন ইন-এ সেলস অ্যন্ড মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দুই জনের কাছ থেকে  এক লাখ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, সঙ্গে পরিচয় আছে জানিয়ে তারা দুই জন প্রতারণার মাধ্যমে এক নারীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ওই নারী উপমন্ত্রীর পিএসসহ থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাদের দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিহাব উপমন্ত্রীর এডিট করা ছবি ও নাম ব্যবহার করেছে বলে স্বীকার করেছে। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সে অস্বীকার করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপমন্ত্রীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে জানিয়ে টাকা হাতিয়ে নিলেও আসলে তাদের সঙ্গে উনার কোনও যোগাযোগ নেই। শুধু প্রতারণার উদ্দেশ্যে প্রতারকরা উনার নাম ব্যবহার করেছে। কোনোরকম পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও শুধু টাকা আদায়ের জন্য শিক্ষা উপমন্ত্রীর এডিট করা ছবি ও নাম ব্যবহার করেছে।’

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৭ নভেম্বর ইফতিয়াজ সাঈদ সর্দার (৪০) নামে একজন ঢাকার কমলাপুর এলাকায় র‌্যাবের হাতে মাদকসহ গ্রেফতার হন। এ ঘটনার পরদিন তার স্ত্রীকে মোবাইলে কল করে হোটেল গোল্ডেন ইনে যোগাযোগ করে তার স্বামীর পাওনা এক লাখ টাকা ফেরত নিতে বলে আসামি শিহাব। সে জেল হাজতে থাকাকালীন সময়ে ওই টাকা দিয়ে পারিবারিক খরচ মেটানোর জন্য বলে। সেই অনুযায়ী ওই ব্যক্তির স্ত্রী গত ১৮ নভেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে কোতোয়ালি থানাধীন হোটেল গোল্ডেন ইনে গিয়ে আসামির সঙ্গে দেখা করেন। এসময় শিহাব তাকে টাকা দিয়ে দেবে বলে জানায়।

ওই নারী আসামিকে তার স্বামীর আটক হওয়ার বিষয়ে জানালে সে বলে, তার সঙ্গে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের পরিচয় আছে। সে শিক্ষা উপমন্ত্রীর মাধ্যমে র‌্যাবে যোগাযোগ করে তার স্বামীকে জামিনে মুক্ত করাবে। এর জন্য তাৎক্ষণিক তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরে ওই নারী শিহাবকে গত ১৮ নভেম্বর কোতোয়ালি থানাধীন বিআরটিসির কাছে হোটেল গোল্ডেন ইন এর রেস্টুরেন্টে গিয়ে নগদ দুই লাখ টাকা দিয়ে আসেন। টাকা দেওয়ার পর শিহাব বলে পরের দিন যোগাযোগ করতে। পরদিন যোগাযোগ করার পর শিহাব ওই  ওই নারীকে কোনও কথা না বলে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে যায়।

এরপর আবার যোগাযোগ করলে সে জানায়, শিক্ষা উপমন্ত্রীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার স্বামীকে জামিনে মুক্ত করবে। এর জন্য তাকে আরও ৬/৭ লাখ টাকা দিতে হবে। ওই নারী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আগে দেওয়া টাকা ফেরত চান। শিহাব টাকা না দিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। আসামি শিহাব ওই নারীর স্বামীর পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তাদের কথায় বিশ্বাস করে ১০/১৫ দিন অপেক্ষা করেন। এসময় হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে শিহাব তার মোবাইল নম্বর ০১৬২৯-০২০৯৩৩ থেকে ওই নারীর মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষা-উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে ভিডিও কলের ভুয়া স্ক্রিনশট দিয়ে একটি ছবি পাঠায়। পরে ওই নারীর খালাতো ভাই আমিরুল হক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী রাহুল দাশের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানান। মন্ত্রীর এপিএস উপমন্ত্রীর যোগাযোগ করে জানান, উপমন্ত্রী এই ধরনের কোনও লোককে চেনেন না এবং ইতোপূর্বে তার সঙ্গে এই ধরনের কোনও লোকের দেখাও হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT