বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
শর্ত পূরণে ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন থাকছে না

শর্ত পূরণে ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন থাকছে না

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ শর্ত পূরণে ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে দলগুলো থেকে শর্ত পূরণের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। মধ্য ‍জানুয়ারির পর বিশেষ টিম গঠন করে প্রাপ্ত তথ্য ও দলগুলোর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম যাচাই শুরু করবে ইসি। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শর্ত পূরণে ব্যর্থ দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা হবে। ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের পাশাপাশি বিদ্যমান দলগুলো নিবন্ধনের শর্ত প্রতিপালন করে কিনা, তা যাচাই করছে ইসি। এ লক্ষ্যে গত ৩১ নভেম্বর দলগুলোর কাছে চিঠি দিয়ে তথ্য সংগ্রহও করা হয়েছে। কয়েকটি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দেওয়ায় ওই দলগুলোকে এক মাস সময় বেঁধে দিয়ে কারণ জানতে চেয়ে পরে আলাদা চিঠি দেয় কমিশন। আগামী ১৫ জানুয়ারি এই সময়সীমা শেষ হবে বলে জানা গেছে।

ইসি সূত্র জানায়, নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, তরিকত ফেডারেশন, গণতন্ত্রী পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, গণফোরাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)সহ ১২টি দল ইসির চিঠির কোনও জবাব দেয়নি। তবে, নতুন করে শোকজ করায় এরই মধ্যে কয়েকটি দল তাদের জবাব দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১৫ জানুয়ারির সময়সীমা শেষ হওয়ার পর দলগুলোর প্রতিবেদন নিয়ে কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত দল গঠন করে তাদের মাঠ প্রশাসনের সহযোগিতায় দলগুলোর নির্বাচিত কমিটি ও মাঠ অফিসের কার্যক্রমের তথ্য যাচাই করবে। দলগুলোর দেওয়া তথ্য ও মাঠের চিত্রের মধ্যে গরমিল পাওয়া গেলে কমিশন ওই দলগুলোর নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম শুরু করবে। এক্ষেত্রে কারণ দর্শানোসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের নিবন্ধন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ (এইচ) ধারায় কোন কোন কারণে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হবে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম রয়েছে ইসিতে চাহিদা মোতাবেক তথ্য না দেওয়া ও আরপিও ৯০ (বি) ধারা মতে যেসব শর্তে নিবন্ধন প্রাপ্ত হয়েছে, তা প্রতিপালন না করা।

আরপিও’র শর্তগুলো হলো: দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেকোনও জাতীয় নির্বাচনের আগ্রহী দলটিতে যদি অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকেন। যেকোনও একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী অংশ নেওয়া আসনগুলোয় মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পায়। এবং দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ (২১টি) প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল থাকতে হবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি কমিশন বৈঠকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এক্ষেত্রে বেশ কিছু দল রয়েছে তারা নিবন্ধন পেলেও কোনও নির্বাচনে অংশ নেয় না।  কেউ কেউ নিবন্ধন টিকিয়ে রাখার জন্য জাতীয় নির্বাচনে দুই/একটি আসনে প্রার্থী দেয়। পরে এ বিষয়ে কমিশন জানায়, নির্বাচন করার জন্যই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনই দেওয়া হয়। কিন্তু নিবন্ধন পেয়ে নির্বাচনে না গেলে তাদের নিবন্ধিত থাকার প্রয়োজন পড়ে কেন?

কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রথম বারের মতো দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২৪টি ও পৌরসভা নির্বাচনে ২১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা প্রতিবেদন চেয়েছি। জানুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময় রয়েছে। এই সময়ের পর আমরা প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করবো। নিবন্ধিত দলের মধ্যে যেসব শর্তপূরণ করে নিবন্ধন পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা সেই অবস্থায় নেই তাহলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘নতুন দলের নিবন্ধন ও বিদ্যমান দলের নিবন্ধন বহালে আমরা কঠোরভাবে তথ্য যাচাই করবো।’ কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে টিম গঠন করে এবং মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করবে বলেও জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য লাইসেন্স ও তাদের নামে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজেই নিবন্ধন পেলে তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত।’

এর আগে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু করে ইসি। প্রথম বছরে ১১৭টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৩৯টি দল নিবন্ধন পায়। এর মধ্যে স্থায়ী সংশোধিত গঠনতন্ত্র দিতে না পারায় ২০০৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল করে ইসি। আর আদালতের আদেশে ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) নামে নতুন একটি দলের নিবন্ধন দেওয়া হয়। বর্তমানে ইসির নিবন্ধনে ৪০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে।

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT