শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

        English
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা ও আটকে পড়া পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের বোঝা: প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনিসহ মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষার সূচি প্রকাশ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষ পরমাণু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করবো: প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার ধাক্কা সামলানোর শীর্ষে বাংলাদেশ স্কুল শিক্ষার্থীদের শিগগিরই টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদীয়া দুর্গাপুজা উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন সেনা জোন রামগড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে কামাল ‘করোনা পরবর্তী পরিবেশ ও জলবায়ু সহনশীল পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা জরুরি’ ৬ ছাত্রের চুল কেটে দেওয়া শিক্ষক কারাগারে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর
রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ পাটকলে ধর্মঘটের নেপথ্যে

রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ পাটকলে ধর্মঘটের নেপথ্যে

সিটিজি জার্নাল নিউজঃ শ্রমিকরা ধর্মঘট শুরু করায় খুলনা-যশোর অঞ্চলের আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রমিকদের ৮-৯ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে। এতে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে তাদের। তাই বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে শ্রমিকরা মিলের কাজে যোগদান থেকে বিরত রয়েছেন। তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় পাটকলগুলোয় শ্রমিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় গত ২৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে খালিশপুরের ক্রিসেন্ট, প্ল্যাটিনাম, দৌলতপুর, দিঘলিয়ার স্টার, আটরা শিল্প এলাকার আলীম, ইস্টার্ন এবং নওয়াপাড়া শিল্প এলাকার জেজেআই মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর পরের দিন ২৯ ডিসেম্বর থেকে খালিশপুর জুটমিলের শ্রমিকরাও কর্মবিরতি শুরু করেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের ডাকে ২৩ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলনে নামেন ৮ পাটকলের প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক। দাবি পূরণ না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তারা স্ব স্ব পাটকলে কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকেন।

বকেয়া মজুরি পরিশোধ ছাড়া শ্রমিকদের বাকি দাবির মধ্যে রয়েছে– পে-কমিশনের মতো একই ধরনের মজুরি কমিশন ঘোষণা ও বাস্তবায়ন, অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন, ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতার অপরিশোধিত বকেয়া এককালীন পরিশোধ, প্রতি সপ্তাহ ও মাসে শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি-বেতন পরিশোধ, বদলি শ্রমিকদের স্থায়ীকরণসহ আরও বেশকিছু দাবি।

ক্রিসেন্ট জুটমিলের স্পিনিং বিভাগের শ্রমিক আবু কালাম বলেন, ‘৯ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। খাবারই জোটে না, কাজ করবো কিভাবে।’

প্ল্যাটিনাম জুটমিলের তাঁত বিভাগের শ্রমিক হাসান বলেন, ‘দোকানদার বাকিতে চাল-ডাল দিচ্ছে না, না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।’

প্ল্যাটিনামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের আন্দোলন চলবে। পরিস্থিতি আমাদের সহ্যের ক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। পেটে ভাত না পড়লে মিলের চাকা সচল রাখা সম্ভব না।’ তিনি আরও জানান, গত আগস্ট মাসে প্ল্যাটিনাম জুটমিলের সুতা বিভাগের কর্মকর্তা সরদার আবুল খায়ের অবসরে যান। গত ৬ মাস ধরনা দিয়েও তিনি তার অবসরের পিএফ, গ্র্যাচুইটির টাকা পাননি। ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটে তার। দুই দিন আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অর্থাভাবে চিকিৎসা না পেয়ে তিনি মারা যান।

মো. নূর ইসলাম ও মো. মিজানুর রহমান নামে দুই শ্রমিক জানান, বকেয়া মজুরি না পেয়ে পরিবার নিয়ে অর্ধাহার-অনাহারে তাদের দিন কাটছে। অথচ মিল কর্তৃপক্ষের এ দিকে কোনও নজর নেই। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

সিবিএ নেতাদের ডেকে বৈঠক করেছেন বলে দাবি করে ক্রিসেন্ট জুটমিলের প্রকল্প প্রধান আবুল কালাম হাজারী বলেন, ‘মিলের অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা এসেছে, যা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব। শ্রমিকরা কাজে যোগদান করলে কর্মকর্তাদের বেতন না দিয়ে শ্রমিকদের দুটি মজুরি দেওয়া সম্ভব।’ তবে তার এ প্রস্তাবে সিবিএ নেতারা রাজি হয়নি বলেও তিনি জানান। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার কর্মচারীদের একটি মজুরি ও কর্মকর্তাদের এক মাসের বেতন দেওয়া হবে।’

প্ল্যাটিনাম জুটমিলের প্রকল্প প্রধান মো. শাহজাহান বলেন, ‘টাকা ব্যাংকে জমা না হওয়া পর্যন্ত মজুরি দেওয়ার বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন জানান, সব বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন না।’

স্টার জুটমিলের সিবিএ সভাপতি মো. বেল্লাল হোসেন মল্লিক বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে মিল কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করছে। আমার মিলে ৮ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে।’

বিজেএমসি খুলনা অঞ্চলের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা গাজী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে অহেতুক পরিবেশ উত্তপ্ত করছে। বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

একে/এম

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT