রানা প্লাজায় আহত ৫৭ শতাংশ শ্রমিক এখনও বেকার - CTG Journal রানা প্লাজায় আহত ৫৭ শতাংশ শ্রমিক এখনও বেকার - CTG Journal

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
দিনে সাইকেল চুরি, রাতে ইয়াবা বিক্রি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তিন পরামর্শ ১৯ দিনে জামিনে মুক্ত ৩৩ হাজার কারাবন্দি ফেসবুক কি শুনতে পায়, কীভাবে নজরদারি করে? পানছড়িতে ভেস্তে যাচ্ছে এলজিইডি’র ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার তীর রক্ষা প্রকল্প: মরে যাচ্ছে ঘাস, তীরে ধরেছে ফাটল খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে বিস্মিত কূটনীতিকরা বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় কাপ্তাইয়ে বিএনপির দোয়া ও ইফতার মাহফিল চৈতন্য গলির জুয়ার আস্তানায় পুলিশের হানা, আটক ১৪ সীমান্ত এলাকায় ব্যাপকহারে করোনা টেস্টের নির্দেশ রাউজানে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা
রানা প্লাজায় আহত ৫৭ শতাংশ শ্রমিক এখনও বেকার

রানা প্লাজায় আহত ৫৭ শতাংশ শ্রমিক এখনও বেকার

আট বছর আগে সাভারের রানা প্লাজা ধসে আহত শ্রমিকদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ এখনও বেকার রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কাজে আছেন ৪৩ শতাংশ। এই ৪৩ শতাংশের মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ পোশাক কারখানায় কাজ করেন। রানা প্লাজা ধসের আট বছরপূর্তি উপলক্ষে একশনএইড বাংলাদেশের এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ওই ভবনধসের ঘটনায় এক হাজার ৪০০ আহত শ্রমিকের মধ্যে ২০০ জন টেলিফোনে জরিপে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ পুরুষ ও ৬৩ শতাংশ নারী।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ছিল দেশের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন। এ দিন ঢাকার সাভারের ৯ তলাবিশিষ্ট রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এক হাজার ১৩৮ জন শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়। আহত হন আরও কয়েক হাজার শ্রমিক। তাদের মধ্যে অঙ্গ হারান ২৭ জন।

অ্যাকশনএইড এর তথ্য অনুযায়ী, ভবনধসে আহত পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে ২০১৯ সালে বেকার ছিলেন ৫১ শতাংশ। গত বছর করোনাকালে সেটি বেড়ে ৫৭ শতাংশ হয়েছে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আহতদের মধ্যে কাজে আছেন যে ৪৩ শতাংশ; তাদের মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ পোশাক কারখানায় কাজ করেন, ১২ শতাংশ দরজি দোকানে, ৩ শতাংশ কৃষি খাতে, আড়াই শতাংশ দিনমজুরি এবং ২ শতাংশ গৃহকাজে নিয়োজিত। এ ছাড়া সাড়ে ৩ শতাংশ বিক্রয়কর্মী হিসেবে এবং ৭ শতাংশ অন্যান্য কাজ করেন।

অ্যাকশনএইড এর জরিপের তথ্য বলছে, আহত শ্রমিকদের মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ শ্রমিক করোনাকালে অল্প কিছু সরকারি সহায়তা পেয়েছেন।  ৯২ শতাংশই কোনও সরকারি সহায়তা পাননি। প্রাণে বেঁচে যাওয়া এসব শ্রমিক দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। ১৪ শতাংশ শ্রমিকের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। তারা মাথা, হাত, পা, ও কোমরের ব্যথায় ভুগছেন। সাড়ে ৫৮ শতাংশ শ্রমিকের স্বাস্থ্য মোটামুটি স্থিতিশীল। তবে সাড়ে ২৭ শতাংশ সম্পূর্ণ ভালো আছেন। রানা প্লাজা ধসে আহত সাড়ে ১২ শতাংশ আহত শ্রমিক মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। এ হার ২০১৯ সালে ছিল সাড়ে ১০ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছর নতুন ২ শতাংশ শ্রমিকের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে।

একশনএইডের জরিপ বলছে, রানা প্লাজা ধসে আহত পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে বর্তমানে সাড়ে ৯ শতাংশের কোনও আয় নেই। ১০ দশমিক ৫০ শতাংশের আয় ৫ হাজার ৩০০ টাকার নিচে। ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ আহত শ্রমিকের আয় ৫ হাজার ৩০০ থেকে ১০ হাজার ৩০০ টাকা। ২৯ দশমিক ৫০ শতাংশ শ্রমিকের আয় ১০ হাজার ৩০১ থেকে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা। তবে মাত্র ১৩ শতাংশ শ্রমিকের আয় এর চেয়ে বেশি ।

ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ২২ এপ্রিল ‘কোভিড-১৯: চ্যালেঞ্জেস ফর দ্য রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি সারভাইভারস’ শীর্ষক এক আলোচনায় জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। আলোচনা বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শিরীন আখতার, একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহ্বায়ক হামিদা হোসেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এ দেশীয় পরিচালক টুমো পোটিয়াইনেন।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ‘আট বছরেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের অবস্থা দুঃখজনক। অথচ এই শ্রমিকদের দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের অক্সিজেন বলা হয়।’ তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য রানা প্লাজা ট্রাস্ট ফান্ড থেকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যকার্ড দেওয়ার পরামর্শ দেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা কমিটি ও স্বাস্থ্যবিমা কার্যকর করার মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহ্বায়ক হামিদা হোসেন।

সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, ‘শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণে আইন স্বচ্ছভাবে করা প্রয়োজন। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে গেলে অবশ্যই শ্রমিকদের অধিকার, মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা, বিমা, স্বাস্থ্যকার্ডসহ আপৎকালীন তহবিল গঠন করতে হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT