রাতের কাজ দিনে, চরম ঝুঁকিতে কর্মীরা - CTG Journal রাতের কাজ দিনে, চরম ঝুঁকিতে কর্মীরা - CTG Journal

সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

        English
শিরোনাম :
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে আরও দুই ডজন হেফাজত নেতা আবারও চিকিৎসক দম্পতিকে জরিমানা ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন পেয়ে কারামুক্ত ৯ হাজার আসামি লকডাউনের পঞ্চম দিনে ১০ ম্যাজিস্ট্রেটের ২৪ মামলা ওমানের সড়কে প্রাণ গেলো তিন প্রবাসীর, তারা রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা একই কেন্দ্রে টিকা না নিলে সার্টিফিকেট মিলবে না মামুনুলের বিরুদ্ধে অর্ধশত মামলা, সহসাই মিলছে না মুক্তি ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট পেতে সৌদি প্রবাসীদের বিশৃঙ্খলা সেরে ওঠা কোভিড রোগীদের জন্য কি ভ্যাকসিনের এক ডোজই যথেষ্ট? মানিকছড়িতে ভিজিডি’র চাল বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ নিরাপদ কৌশল লকডাউন: স্বাস্থ্য অধিদফতর ৩৬ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী
রাতের কাজ দিনে, চরম ঝুঁকিতে কর্মীরা

রাতের কাজ দিনে, চরম ঝুঁকিতে কর্মীরা

কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে বাস্তবায়নাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে। প্রকল্পে ধীরগতির অভিযোগ আগেই ছিল। এখন যোগ হয়েছে অবহেলা। প্রকল্পজুড়ে নেই নিরাপত্তার বালাই। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধারকাজের সরঞ্জামও রাখা হয়নি। চরম ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা। বারবার চিঠি দেওয়া হলেও রাতের কাজ করা হয়েছে দিনে।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর রেল স্টেশনের সামনে বিআরটি প্রকল্পের লঞ্চার ভেঙে পড়ে। এতে প্রকল্পের দু’জন চীনা প্রকৌশলীসহ কমপক্ষে চার জন আহত হন। তার আগে একই প্রকল্পের উত্তরার আবদুল্লাহপুর অংশের পলওয়েলের কাছে শনিবার গভীর রাতে একটি পিয়ার ক্যাপ ধসে পড়ে। ওই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি বলে দাবি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পিয়ার ক্যাপের নিচের কাঠামো দুর্বল থাকায় ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় ও নিরাপত্তাকর্মীদের অনেকেই জানিয়েছেন, পিয়ার ক্যাপের নিচের অংশে ভার বহনকারী পর্যাপ্ত সহায়ক খুঁটি দেওয়া হয়নি। যে কারণে ঢালাইয়ের চাপে ক্যাপটি ভেঙে পড়ে।

অন্যদিকে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিমানবন্দর রেল স্টেশন সংলগ্ন সড়কে গার্ডার স্থাপনের সময় প্রকল্পের লঞ্চার ভেঙে পড়ে চারজন আহত হয়।

কুর্মিটোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিমানবন্দর রেল স্টেশনের কাছে প্রকল্পের একটি গার্ডার স্থাপনের সময় লঞ্চার ভেঙে পড়লে চার কর্মী আহত হন। তাদের দু’জনকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ও একজনকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

জানতে চাইলে বিআরটি’র প্রকল্প পরিচালক মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘শনিবার রাতে আব্দুল্লাহপুরের উত্তরা পলওয়েলের কাছে প্রকল্পের একটি পিয়ার উইং ধসে পড়ে। ঢালাই প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর সাপোর্ট দেওয়ার যে খুঁটিগুলো ছিল তার একটিতে কোনও কিছুর আঘাত লেগেছিল। এতে খুঁটিটি সরে গিয়ে ঢালাই ধসে পড়ে। ওই জায়গায় আবার ঢালাই হবে।’

ট্রাফিক ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এটা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

রবিবার বিকেলে প্রকল্পের এই অংশে সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুরের পর থেকে ধসে পড়া অংশগুলো ড্রিল মেশিন দিয়ে কেটে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ যখন সারানো হচ্ছিল তখনও পাশের একটি পিলারে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের নিরাপত্তায় উন্নত ব্যবস্থা রাখেনি। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ যখন চলছে তখনও পাশ ঘেঁষে চলছিল যানবাহন। প্রকল্পটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কর্ডন করে রাখা হয়নি।

বিমানবন্দর রেল স্টেশনের সামনে গিয়ে দেখা গেছে লঞ্চারের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। কয়েকটি গার্ডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রকল্পের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা আবদুস সবুর জানিয়েছেন, প্রকল্পের ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো যাতে রাতে করা হয় সে জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারপরও ব্যবস্থা নেয়নি। দিনে এ ধরনের কাজ করাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

বেলা তিনটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। এসময় তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ঘুরে ঘুরে দেখলেও কোনও মন্তব্য করেননি। ভেঙে পড়া অংশ দেখতে গিয়ে তিনি যখন লোহার সিঁড়ি বেয়ে উঠছিলেন তখন সিঁড়িটিও নড়তে থাকে।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, লঞ্চারের ওপর লোহার যে দড়িগুলো ছিল সেগুলো ভার বইতে না পেরে ছিঁড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চার ভেঙে পড়ে।

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) কোম্পানি লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সবসময় মনিটরিং থাকে না। ঘটনায় মনিটরিং টিমের গাফিলতি আছে কি না তদন্ত করে দেখতে হবে। কাজটি মূলত রাতে করার কথা ছিল। কিন্তু কেন দিনে করা হয়েছে খোঁজ নিচ্ছি।’

শফিকুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, ‘পিয়ারে লঞ্চার দিয়েই এই গার্ডারগুলো তোলা হয়। এর আগে ৯ ও ১০ নং পিয়ারের উপরের কাজ শেষ হয়। লঞ্চারটিকে ৮ ও ৯ নম্বর পিয়ারের ওপর স্থাপন করার সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোনও একটা কারণে পড়ে যায়। এতে চার জন আহত হয়।’

Please Share This Post in Your Social Media

Powered by : Oline IT